১
এখানে গন্ধ আওয়াজ তোলে ছোঁয়ার
যদি তোমার মত ভালোবাসতে পারতাম,
হয়ত-বা কোন আগন্তুক ছুঁয়ে যেত ,
ফিরে এসে বলত এ অর্থে বিরতি
আলোর পরেরটুকু তো আমার ছিল না বন্ধু !
এ যাবত যা কিছু এক তরফা হতে দাও
কতটুকুই -বা আয়োজন করেছ!
আপ্লুত পরিহার করে একটু স্নান সেরে এস
আজ মধ্যাহ্নের আগ্রহ ডেকেছি
দু'দলা ভাত গলা থেকে নামুক আমারও
কারণ এখানে গন্ধ তবু আওয়াজ তোলে, ছোঁয়ার
২
আবছা এক কলিং বেল,
বেজে ওঠে ঘুমের মতো
আর বলার মতো কেউ থাকে না
যে কখনো এই দৃর টেনে ধরত,
আজ খুব সামান্যে এসে দেখি
একটা কলিং বেল, আবছা
বেজে ওঠে ঘুমের মতো
আমি হয়ত চিনি সেটা অথবা কোনো ঝিরঝিরে কুয়াশার রাতভর ফিসফিস !
ব্যস্ততা, কলমের টানাপোড়েন
তবু রাস্তা পার হয় পুরোন চশমার দোকান —
হয়তো'র মতো কিছু বাষ্প
এসে ঘন হয় চোখের মুঠোয়
টেবিল ল্যাম্পের শরীরে জড়িয়ে যায়
উবু হয়ে বলে যাওয়া হালকা একটা বাদামী চুমুকের দাগ
৩
এ এক মধ্য, চোখ লেগে আসে
চোখ লেগে আসে যেমন
এক মধ্য বয়সী পড়তে পড়তে :
গায়ে ডুবে আসা সীমান্ত
চাদর উল্টে দেখি
সন্ধ্যে হয়ে আসছে কর্পূর ও জখম
আমি তখন কেজি দরে বাজার ডাকি —
হাওয়ায় দুলতে থাকা
গমের ছোট ছোট আলপথ
খোয়া বিছানা দুপুর
বিকেলের রোদ পোড়া উঠোন
কোথাও যেন বৃষ্টি
ঢেলে দেয় দড়ির নরমে
যাপন পেতে আসে আদ্যপান্ত
আর তার ঠিক এক পাশে
জড়োসড়ো হয়ে আসা
মধ্য বয়সী একটু নুন —
ঢিলে হয়ে আসে
ঢিলে হয়ে আসে যেমন
ওর ছাতা মেরামত দুটো চোখ
৪
কখনও আপত্তি করিনি
এই ধর রাস্তা যখন একা ছিল
হাঁটতে দ্বিধা ছিল না —
গল্পের মতো
পাশ কেটে কেউ চলে গেলেও আপত্তি ছিল না
আগে কিংবা পেছনে
— এই আমার মতো হয়ত-বা কেউ
জিনিস ফেরত নিত দোকান!
জোর করে যে জুতো জোড়া পায়ে দিয়েছি
অভিজ্ঞ কোনো মতলব অভিযুক্ত মাপেনি
অথচ দূর থেকে যখন জিজ্ঞেস করি
চেনা চেনা পথ —
পুরোন বাড়িটা এগিয়ে দেয় আমায় সদর অবধি
জল শুকিয়ে এলে
যে পথ ভিজে ভিজে থাকে
তার নামে রোদ পোষ
কে জানে কখন ছেড়ে আসা কোন্ লেখা
তোমার মতো পাঠ্য হয়ে যায় —
৫
কিছু জ্বলতে দাও
কে জানে, ওসব আগুন
কখন যে আলো হয়ে যায়
আমাদের মাঝখানে অভাব তেমন নেই
তবু যতটুকু শব্দ, রোজগার হয়ে গেছে
এখানে প্রতিটি রাস্তার বাঁকে নেমে আসে মেঘ
সামান্য অজুহাতে ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকে
আপেল ফুলে জলের শ্বেত
ঢাল বেয়ে যে স্নান এখনও গা মুছে ওঠেনি
ও দূরের বারান্দায় কী নাম দেব তার
রোদের মতো রুপালি আঁশ
যদি আখরোট জড়িয়ে নেয়
প্রতিটি বোঁটায় আমাদের ঠোঁট বোলো ওখানে
এখানে নদী হেঁটে পার হওয়ার
চোখের নিরন্তর শব্দ
গভীরে সেঁকে নেয় মোটা রুটির আঁচ
আমি যদি তোমার অতিথি হতাম
অন্তত কিছু জল এনে দিতাম
কারণ এখানে জমানো শীত বড্ড দামী
পয়সা নেয় সোনালি আঁশের প্রতিবিম্ব
-সমীর সরকার সমীর সরকার

No comments:
Post a Comment