Friday, March 27, 2026

গুচ্ছ কবিতা : পিন্টু পাল



অহেতুক


অহেতুক শরীর নিয়ে খেলা ঠিক নয়

অথচ শরীর বলছে ভীড় বাসে কালো বিড়াল সটান শরীর চাটছে।

জীবনের প্রথম পাঁচ বছর

স্তনে চোখ ছিল আবহমান ইশারা।

ফুঁ দিয়ে সমুদ্রের ফেনা সরিয়ে এককাতে শুয়ে পড়ি।

অহেতুক শাড়ি খোলা যদিও সুলভ 

শুয়ে পড়ি, দেখি — এখনও পুরুষ আছি কিনা! 

যোনিতে আপাতত ধর্ম নিষিদ্ধ হয়েছে

তুমি কি এবার জোর করে রাজনীতি ঢোকাতে বলবে ?

অহেতুক শরীর নিয়ে খেলা ঠিক নয়।





চুম্বন 


আমায় চুম্বন করবে কর

তবে, মনে রেখ —

প্রতিবার চুম্বন শেষে

ঠোঁটে

যেন আশ্রয় লেগে থাকে





সূচ 


যদি সুযোগ আসে

সূচের মতো হইও —


শরীরের ফাঁকে চেয়ে দ্যাখো —


তার নদী

তার আকাশ

তার জানলা

তার নক্ষত্র 


কত নৈবেদ্য সাজিয়ে

কী শান্তিতেই না শুয়ে রয়েছে

সুতোর পাশে





সময় 


যদি আসো 

ঠিক সময়ে এসো

অসময়ে তো মৃত্যুও আসে





পোড়া 


যে কাঠটি পুড়তে চাইছে না

জোর কর না আর


সম্ভব হলে দু-ফোঁটা জল ছিটিয়ে দিও


কে -জানে শেষ কবে কেঁদেছে —


কাঠটিকে শেষ করে দিও না

কাঠটিকে শেষ করে দিও না

Wednesday, March 25, 2026

গুচ্ছ কবিতা : সুবাইতা প্রিয়তি

 


গোগোলের নাক, তোমারও


এরপর আমি ভাবতে বসি। তখন মনে হয় তোমার নাকটা নিয়ে একটা কবিতা লেখা যায়। তোমারে আমি বহু আগে বলছিলাম গোগোলের নাক গল্পটা পড়তে। যেহেতু তোমার এককোটিটা রিপোর্ট লেখার তাড়া, আরও এককোটি কূটনীতিক হেঁজিপেঁজি তৈরি হচ্ছে। শোনো বরং বলি ওখানে কী হয়। ওখানে একটা নাক থাকে। শহরজুড়ে নাকটা ঘুরে বেড়ায়। এদিকে যে লোকটা নাক হারালো, সে কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা তদবির করে চলছে নাক খুঁজে পেতে।

তোমার নাকটা খুউব সুন্দর। আমি জুম করে দেখেছি। যখন আর্কটিক হাওয়া দেয়, মনে হয় এই এঁকে ফেলেছি প্রতিকৃতিতে, ডান থেকে তোমার সুস্পষ্ট নাক।





এটা জামগাছ আমি নিশ্চিত


মিউনিসিপ্যালের নর্দমা ঘিরে সন্ধ্যায় যে স্বাস্থ্যবান গাছগুলি হাঁটতে আসে, তাদের কাউকেই বিশেষ আমি চিনিনা। কতিপয় গাছ কবিতা আওড়াতে আর বাতাস ভারী করে তুলতে পারে। বাসিন্দা পাখিদের ঠেলে দেয় কেউ (লেকের) মাছের দিকে। আমি ভাবি ওরা কী করবে পরে! উন্নাসিক হয়ে উঠতে উঠতে খালি হতে শুরু করে জবরজং জমায়েত। টকে আসা বাতাসমুখী একজন থিতু হতে চায়, বলা ভালো হয়েই যায়, একেবারে এইখানে সন্নিকটে।





কমলা


আমি একটা কমলার কথা ভাবছি। মানুষের ডাল থেকে মানুষের ডালে দোদুল্যমান এমন একখানা কমলা। অভ্যন্তরীণ শৈত্যপ্রবাহে কাবু মানুষ যে ধীরে ধীরে নুয়ে যাচ্ছে, কমলার বীজ যাইহোক দৃঢ়তা দেওয়ায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জমে থাকা হতাশ শরীর পৃথিবীর বাকি ঋণ গুণে শেষ করার আগেই, কোথাও কোথাও পচনের সংকেত চলে আসে।





বিতর্কিত শব্দের উন্মেষ


একটা দিন যাইতে দেখলা

তারমানে তুমি দুইটা ষোলোদিনের প্রস্থানও হজম করতে সক্ষম 

অক্রিয় হওয়ার বাহানা হানা দেওয়ার আগেই

ফা'না হইয়া থাকো, কিছুই আর মোক্ষম...


কিংবা মুখ ফিরায়ে রায় ভাবলে

ভাবার চে বলাই উত্তম; সমান নাড়িছেড়া ধন এক একজন।

অতি গ্রহণযোগ্য হইতো আ'ম ধ্বনিত 'না' শোনালে;

যদি খগোলকানুন খসে একটা তারাও ঝরে

তবু তার পতন কোনো খালিরই মোক্ষম না, যা

আগেই বিবেচিত অথবা বিরচিত।


প্রত্যেকটা কালো মুখ হাতুড়ি অর্থাৎ তুমি বেআইনি দালান

ধিক্ এতো প্রতিশ্রুতির একটা অঙ্গার কোথাও দিক

অন্ধ বাজের মতো গলিভূত হোকগে, এই তোমার চলন।

কিন্তু আদৌ কি ঠোঁটগুলো নড়েচড়ে, বিতর্কিত শব্দের উন্মেষনে?!





জীবপ্রদাহ


মৃত বালিশের দিকে শুয়ে আসছে দিবস

যার বাহ্যিক জগতে এমত অনাকাঙ্ক্ষা যে

টস করলেও কয়েন বিমূর্ত মুঠোয় ফিরে যায় কিনা আসে, 

অদ্ভুত বেলা পতনের সন্ধিক্ষণে পিঠ উঠে যায় 

শয়ন এক প্রদাহ, পতন এক প্রদাহ, মৃত জীব তার সর্বত জানে।


এর আগ থেকে পরের কথা ভাবা নিষিদ্ধ,

হেলানো ভাবনা মহাজাগতিক মেঘে মিশে

মিশকালো হৃত হবে। এর আগ থেকে পরের ভাবনা নিষিদ্ধ

বুকে আসে পাখি হয়ে, তুমি, অথবা আমার একাগ্র মধুর চিন্তা।


Saturday, March 14, 2026

গুচ্ছ কবিতা : অর্করূপ গঙ্গোপাধ্যায়


 

ট্রেন  

রেলের লাইনে শুয়ে সমান্তরাল দুটো লোহা 

মাঝখান ভরে আছে অজস্র ধূসর পাথরে... 

এভাবেই প্রেম সরে দুইদিকে। দূর থেকে দোহা 

গাইতে গাইতে এসে ঝাঁপতালে ট্রেন ঢুকে পড়ে। 





স্টেশন 

প্ল্যাটফর্ম জুড়ে ভিড় করে লোকজন, 

কামরার আছে মানুষপারের ভয় !

ট্রেন ছেড়ে গেলে স্টেশন আবার ফাঁকা, 

কেউ চলে গেলে কারোর যেমন হয়। 





ব্রিজ 

নদীর কাছে এলে ট্রেন বদলে ফেলে গান।   

খেয়াল থেকে ধ্রুপদচালে, খরজ-পাখোয়াজ...  

আবার পেলে চেনা-ভূমি পুরোনো তালে ফেরা,  

সাঁকোর হাত বাড়িয়ে থাকা তবুও মনে রাখে। 





লেভেল ক্রসিং 

ট্রেন এবারে জোর ছুটেছে, দুর্বার উদ্দাম

গতির হাওয়ায় কামরা দোলে, তিনতালে দ্রুতগত, 

অন্য ট্রাফিক থমকে আছে গেটের ওপার ঘেঁষে 

ঠিক যেরকম থমকে থাকে প্রেমের কাছে সুখ।  





জাংশন 

এবারে গতি কমাও। না হয় স্থিতধী হও ট্রেন। 

লাইনে লাইনে জোড়, অবশেষে মিলমিশ হবে। 

নতুন বাঁকবদলে নতুন আলাপ-জোড়-ঝালা 

ক্ষণিকের। তারপরে দুই লোহা ফের সরে যাবে। 


এভাবে আবার চলো, নতুন স্টেশন অবিরত। 

মাঝে মাঝে জলময় সাঁকোপথ, ফের দ্রুতগতি,  

সমে ফিরতেই হবে, ফেরার আয়ান দুখমিঠে।  

কোনো কোনো যাত্রীর পদছাপ লোহা কুড়ে খাবে।।

Friday, March 13, 2026

গুচ্ছ কবিতা : অনুভব দে

 

রেনেসাঁ 


সাদা পোশাক পড়ে মধ্যবয়স্কা চললেন নতুন জীবন শুরু করতে 


এবার তাকে এগিয়ে যেতে হবে 


একা


সকালে ঘুম ভেঙ্গে দেখলেন 

তিনি তার জীবনের নিয়ন্ত্রক 

কাগজ তুলে লেখা হলো 


ঈশ্বর এক যেদি বিপ্লবীর নাম 


ঠিকানা ১৮৮০





বইপত্র 


লাইব্রেরির তাকে

একটা ছেড়া 

মলাট

এখানে উপহার দেওয়া বই থাকে 

পাতা ওল্টালেই

কেউ ফাউন্টেন পেনে লিখেছে

আকাশের গায়ে লেখা 

বিষন্ন প্রেমের কাব্য 


কোনো সুর্যাস্তের  আভা

স্নান করালো চোখেদের


অন্ধকার হলে 

একা হয়ে যেতে হয়





সমাধি


বন্যার জলে বইয়ের ডুবে যাওয়া 

আমায় শিশু মৃত্যুর কথা মনে করায়


একরাশ সম্ভাবনার 

অঝোর প্রয়াণ


আমরা ওদের অক্সিজেন দিতে পারিনি 

এমারজেন্সি ওয়ার্ডে 

অক্ষরদের জন্য কোন বেড খালি ছিল না





না-বাচক লাইন


সময় 


জঙ্গলের ধার দিয়ে পাকা রাস্তা গেছে 

গত মাসে সেটা কাঁচা ছিল 

ঝরা পাতা কুড়িয়ে এনেছিলাম 



ভ্রমণ 


বেড়ানোর জায়গায় 

বিরাট মাপের হোটেল 

সাদা বাড়িটায় লাল রঙে লেখা সিতারা 

কোন তারকাকে দেখতে পাইনি 



বার্নিশ।


তিস্তা নদীর ধারে

কতগুলো চা পাতা 

হাওয়ায় উড়ে বেড়াচ্ছে 


ওদের ফোটানো হবে না। 

নদীর জল ঠান্ডা।






Wednesday, March 11, 2026

গুচ্ছ কবিতা : শঙ্খ মিত্র

 


সংলাপ


আমাদের হেঁটে যাওয়াই দস্তুর

এত ভান ও ভনিতা ভালো নয়


মাটির ভেতর জমে থাকে অজানা রসদ

তাকে সুযোগ দাও

ফল ও বৃক্ষ ঠিক চিনে নেবে তোমায়


পুরোনো প্রেম কালানুক্রমে

বদলে দিয়েছে ইতিপূর্বের সহজ অভিধান


চাঁদ ডুবে আছে শ্বেতশুভ্র বিষাদে

প্লেটনিক আলোর ভেতর জোনাকিরা খুঁজছে সঙ্গম


শরীর নয়, শুধু প্রবাহের আকাঙ্ক্ষা

এক নিবিড় সেতুবন্ধনের আড়ালে নিভৃত সংলাপ





স্মারক


বেজে ওঠে জলের স্বরলিপি

ঘুম ভাঙে দৃশ্যের


ম্যাজিক শিল্পের মতো

উড়ে এসে জুড়ে বসে ছায়া ছায়া মুখ


যেহেতু চোখে দ্যাখা যায় না

তাই মিলিয়েও যায় সহজে


আসলে জয়ী হতে কে না ভালোবাসে

তবু ক্ষয় হয়ে যায় জয়ের স্মারক





শুভেচ্ছা


মন থেকে শুভেচ্ছা জানালে

বোধহয় কিছুটা নির্ভার হওয়া যায়


দূর থেকে দেখি আলোর খেলা

অজান্তে, মনে মনে ভালোবেসে ফেলি


এই সুখাবয়বের ভিতর

এক সময় এঁকে দিই প্রগাঢ় প্রশ্নচিহ্ন


যে কথাদের ফেলে এসেছি

তাদের প্রতি করুণা হয়





সন্ধ্যা


কাউকে বলা হয়নি কখনও

বসন্তকে আমি হিংসে করি


অতিরিক্ত পাতা ঝরাতে পারি না ব'লে

কেউ কেউ আমার ভিতর আজীবনের সঞ্চয় রেখে যায়


কিছু পাখি দেরিতে ঘরে ফেরে

তাদের ডানায় ডানায় লেগে থাকে

সারা দিনের নীল আকাশ


সূর্যাস্তের নিচে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে ক্লান্ত মানুষ

ক্লান্ত...খুব ক্লান্ত


মানুষ কি এভাবেই

নিজের ভিতর সন্ধ্যা বয়ে আনে?





আত্মপক্ষ


নিঃশর্ত সমর্পণ কতটা সুখকর এ নিয়ে তর্ক চলতেই পারে। তবে কখনও কখনও আত্মপক্ষ সমর্থন কি জরুরী নয়? ভালো থাকার অলীক বৃত্ত থেকে বাইরে বেরিয়ে এলেই মাথা চাড়া দেয় অযুত দোলাচল। তবু কেন অকারণ গন্তব্য খুঁজে ফিরি বারবার ! কেন এই অন্বেষণ ! আমি কি জানি না কত কত ঋণ পড়ে আছে পথে প্রান্তরে।


দ্রুত ফুরিয়ে আসছে সময়। ফুরিয়ে আসছে আলো। আলোর ভ্রূণ ভেঙে ভেঙে দেখে নিচ্ছি পাখিদের গোপন সঙ্গম, তাদের অকাতর ডানায় ঝড়ের পূর্বাভাস, যাবতীয় জাদুকরী আঁতাত। ঠিক যেমন, হননে উদ্যত শলাকা বার্বিকিউয়ের আগে পরখ করে নেয় পৌষ্টিকতন্ত্রের বিন্যাস। চুলচেরা বিশ্লেষণে উঠে আসে ময়নাতদন্তের হাড়হিম রিপোর্ট।


চারিদিকে ব্ল্যাকহোল, ঘুমোতে দেয় না রাত দিন। সেখানে স্বপ্ন নয়, খেলা করে এক অন্তহীন বোধ। কথা আর ব্যথা এসে বসে পাশাপাশি। পাতার পর পাতা লেখা হলেও বাকি পড়ে থাকে উপসংহার। মৈথুন শেষে এক পেগ হুইস্কি ও অধরের মৌ স্বাক্ষরিত হয়। একটা সহজ সমীকরণ এসে মিলে যায় কোথাও। পৃথিবীর সব আলো জ্বলে উঠলেও স্থায়ী হয় শুধু অন্ধকার।

Tuesday, March 10, 2026

গুচ্ছ কবিতা : পিউলি মুখোপাধ্যায়

 


যুদ্ধ 


গলা থেকে কোমরে যেতে 

নীরবতা এবং শব্দের লুকোচুরিতে 

বাজি রেখেছ নির্বিবাদ সমর্পণ 

ভাসমান স্বাক্ষরিত শব্দে 

সামতলিক চিত্রে প্রেমের ঢেউ 

পিঠ জুড়ে প্রবাহিত…বিশেষ কেউ 


সামনে এসে তাকালে যখন 

চোখে অবিশ্বাস 

জানি না তুমি ইরান না ইসরায়েল

তুলে নিয়েছি ব্যালিস্টিক মিসাইল 

মনের হরমুজ প্রণালীতে 

সবুজ বন্ধুত্বের যান চলাচল 

নিষিদ্ধ 


(যুদ্ধ মানে)

ধৈর্যের খেলা

অনুভূতির আদান-প্রদানে 

শত্রুতায় বন্ধুত্ব খুঁজে নেওয়ার পালা

অথবা বিপরীত…





OMR


নাম কিংবা সংখ্যা 

বুঝছ, আনন্দের শিহরণ, মনখারাপও 

কর্কশ ও কোমল শব্দ পাশাপাশি থাকলেই 

যদি কবিতা বলো, আবেশিত প্রশংসায় 

সময়ের দাবি মেনে ম্যাজিক মুখ ফেরায় 


বলছ যা, ভাবছ অন্য, লিখছ অনুকরণে 

মনে আছে, প্রথম যেদিন সামনে পেলে ও এম আর…

শূন্য বৃত্ত দিয়েছিল পূর্ণ হওয়ার ডাক 

সতর্কতায় প্রসারিত বিন্দু, সম্পূর্ণে নির্ভুল 


প্রশ্ন যাই হোক শেষ পর্যন্ত উত্তর– গোলাকার পৃথিবী 

অনলাইন বৈচিত্র্যে ছেয়ে আছে ভবিষ্যৎ-আমন্ত্রণ 

সময় বইছে, আওয়াজ কমিয়ে 

সামান্য ভুলেই এখন পরিচয় পরিবর্তন 





ভুল 


মাঝরাতে মসজিদে ‘আপনারা সবাই উঠে পড়ুন…’ 

চোখের ওপর আলিফ লায়লার জাহাজ 

স্বপ্ন নাকি সত্যি, ছুঁয়ে দেখি মশারি 

কেন যে ঘুমিয়েছি এত তাড়াতাড়ি!

ন’টায় শুরু হওয়া সিনেমার গান পাশের বাড়ি থেকে

এবং 

জানলায় প্রশ্নের পাখি, আমি কি বড়ো হয়েছি…

পাশে ঘুমন্ত বাবা-মা এসব জানে?


রুটিন হারালে সময়ের পাশে কাজের নাম 

একদিন পোষা বিড়ালের হাতে ছেড়ে দেব, 

মৌলিক চাহিদা থেকে সে বারবার মুছবে মন 


কবিতা লিখতে লিখতে হঠাৎ বাড়ি ভেঙে পড়লে 

জুড়ব কী করে! তাই হয়তো সৃষ্টি করেও 

জাগাতে পারেনি তোমাকে, তবু আমার সব ভুল উত্তরে

ফুল মার্কস দিয়ে যাচ্ছ তুমি…





জাড্য ধর্ম 


থেমেছ নিউটনের ইশারায় ডোপামিনের অভাবে 

টাইপ চলছে অক্ষরের স্বর্গযাত্রার পথে

স্থিতির বাড়াবাড়ি ইমোশনের চিলেকোঠা ঠেসে 

জিনগত স্বভাবে গতিজাড্যই একমুখী পছন্দের কারণ 

ফিরিয়ে নিলেও চোখ ছোঁয় স্মৃতির অলিগলি 


যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বছর এসে মিশছে বছরে 

এক ঘর পরপর, চিন্তা-ভাবনা-আবেগ-সিদ্ধান্ত, আলোকিত স্তর 

বিশ্বজয়ের অপেক্ষায় আশেপাশে সারাক্ষণ অনুষ্ঠানের আবহ


একবার দর্শক হয়ে যেও প্রতিযোগিতার বাইরে

পরীক্ষা চলুক মনে মনে, ফলাফল অজ্ঞাত 

অভ্যন্তরীণ অঙ্গের দ্বন্দ্ব, ভয় পেয়েছে ঘুম

অবস্থা বদলাতে দুরন্ত দৃষ্টি জাগছে রাত, নিঝুম!





ঘুম 


মেলাটোনিন, পাইনাল গ্রন্থি থেকে চোখের পাতায় 

সেইসঙ্গে 

টু-দু লিস্ট জ্বলন্ত স্ক্রিনে ডাকে নিবিড় নীরবে 

ভোরের ঝাঁকুনিতে নার্ভ, নুতন দিনের কোলে 

কবে যেন ডায়াজিপাম কিনে ট্রেনে ফিরছিলে…

দরজার পাশে ঘুমিয়ে নিচ্ছে হকার যুবক 

ক্লান্তির কম্পন গাল বেয়ে, পরবর্তী স্টেশনগুলোতে 

নামবে লোকজন, সঙ্গে অদৃশ্য দুশ্চিন্তা 


উঠবে যাঁরা, তাঁদের অনুসরণে খুঁজে পাওনি সুখ 

এইটুকু তফাতেই গভীর অসুখ 

শ্মশান যাত্রা ভুলে শোভাযাত্রায় যেতে 

অবচেতন অনিশ্চিত, কিন্তু ভালোবাসা দিতে?

বারণ করেনি কেউ  

দূরের গাছ, নিজের হাত, বিরোধিতাসহ ভাগ্যের ঢেউ 


কলার টিউন হয়ে বিছানায় বাজছে 

‘তু জি লে জারা…’

অবশেষে জেগে ওঠার ঘুম।

Sunday, March 8, 2026

গল্প : অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায়

 

সেই নৌকো, পুড়িয়ে দাও

অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায় 


প্রথম দিন যেদিন ঘণ্টাটা বাজল, আমি বুঝতে পারিনি সেটা সকাল না সন্ধে। এখানে ঘণ্টা বাজলে সময় তৈরি হয়—সময় আগে থেকে থাকে না। 

ঘণ্টা বাজলেই জানলা খুলে যায়, দরজা বন্ধ হয়, মানুষ জেগে ওঠে, মানুষ ঘুমোয়, মানুষ অপরাধ করে, মানুষ ক্ষমা পায়। সময় এখানে ঘণ্টা থেকে ঝরে পড়ে, দেয়ালে জমে থাকে, তারপর ধীরে ধীরে মেঝেতে গড়িয়ে যায়। কেউ তা মুছে ফেলে না। 

এই জায়গাটার নাম কেউ বলে না। নাম থাকলে জায়গাটা মানচিত্রে উঠে আসত।

আমরা একে বলি—এখানে।

এখানে আসার আগে আমি জানতাম, আমি একটা দ্বীপে থাকি। মেইনল্যান্ডে যাই, আবার ফিরে আসি। নৌকো ছিল—ছোট, কাঠের, নিজের হাতে বানানো। আমি জানতাম কখন দাঁড় বাইতে হবে, কখন থামতে হবে। ঢেউ চিনতাম। ভয় পেতাম, কিন্তু ভয়টা পরিচিত ছিল।

এখানে এসে দেখলাম—নৌকোটা আর জলে নেই। নৌকোটা রাখা আছে করিডোরের শেষে। একটা করিডোর—দরজা নেই। দুটো দিকেই একই রকম অন্ধকার। প্রথম রাতে আমি ঘুমোতে পারিনি। ঘুম না হওয়াটা এখানে অপরাধ নয়। কিন্তু জেগে থাকাটা নজরে পড়ে।

রুম নম্বর থ্রি-তে আমরা আটজন। কেউ নিজের নাম বলে না। নাম ডাকলে মানুষটা বেরিয়ে আসে—এখানে সেটা বিপজ্জনক। তাই সবাই নম্বর। কেউ ঘণ্টা-ডিউটি, কেউ বাথরুম, কেউ বেডিং। আমি নতুন—আমাকে দেওয়া হয়েছে নৌকা-ডিউটি।

নৌকা-ডিউটি মানে—করিডোরের শেষে রাখা নৌকোটার দিকে তাকিয়ে থাকা। কেউ যেন ওটাতে উঠে না পড়ে। কেউ যেন পালিয়ে যেতে না চায়।

আমি প্রথম দিনই বুঝেছিলাম, এই নৌকো কারও পালানোর জন্য নয়।

এটা স্মৃতির নৌকো। যে এতে উঠবে, সে ফিরে যাবে। কিন্তু ফিরে যাওয়া এখানে নিষিদ্ধ।

রাতে, যখন সবাই শুয়ে পড়ে, আমি করিডোরে বসে থাকি। ঘণ্টা নিভে গেলে শব্দগুলো বেরোয়। দেয়ালের ভেতর থেকে হাঁটার শব্দ, জল চুঁইয়ে পড়ার শব্দ, শ্বাস আটকে রাখার শব্দ। 

এক রাতে, করিডোরের মাঝখানে বসে থাকতে থাকতে দেখি—একজন মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চেনা মুখ। রেহানা। কিন্তু আমি জানি, রেহানার এখানে থাকার কথা নয়। এখানে কেউ আসে না। এখানে মানুষ পৌঁছে যায়।

‘আজ কত তারিখ?’ সে জিজ্ঞেস করে।

আমি জানি উত্তর দিলে বিপদ। তবু বলি, ‘২০।’

সে হাসে।

‘আমার কাছে ২১।’

এখানে সময়ের উত্তর ভুল হলে মানুষ অদৃশ্য হয়ে যায়। কিন্তু রেহানা রইল। সে করিডোরের শেষে রাখা নৌকোটার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ওটা পুড়িয়ে দাও।’

আমি বলি, ‘ওটা তো পালানোর পথ।’

‘না,’ রেহানা বলে, ‘ওটা আটকে থাকার পথ।’

এরপর থেকে রেহানা আসে। সব রাতে না। যখন ঘণ্টা দেরিতে বাজে, তখন। সে বলে—মা’র ঘরের দরজার কথা, দরজার চৌকাঠে বসে থাকা দুটো সময়ের কথা, দিনের ঘুম আর রাতের জাগরণের কথা। আমি তাকে বলি না—এখানে দরজা নেই। সবই করিডোর।

একদিন থেরাপির ক্লাসে বলা হল—‘যার নৌকো আছে, সে এখান থেকে যাবে না।

নৌকো পোড়াতে হবে।’

কেউ হাসে। কেউ কাঁদে। আমি চুপ। রাতে নৌকোর কাছে গিয়ে দেখি—ওটা আমারই লেখা দিয়ে বানানো। ডায়েরির পাতা, অসমাপ্ত গল্প, গুজব, ভুল তারিখ, ইনভেন্টরি শিট—সব জোড়া দিয়ে নৌকো।

আমি বুঝি, আমি এতদিন ধরে নৌকো বানাচ্ছিলাম। পালানোর জন্য নয়। নিজেকে বারবার ফিরে পাওয়ার জন্য। রেহানা শেষ রাতে আসে। সে আর কথা বলে না। শুধু নৌকোর গায়ে হাত রাখে।

‘আগুন দাও,’ বলে।

আমি আগুন ধরাইনি সঙ্গে সঙ্গে। আগুন ধরানো এখানে খুব সহজ—একটা স্মৃতি ভাবলেই যথেষ্ট। কিন্তু আগুন নিভিয়ে ফেলা অসম্ভব।

নৌকোর গায়ে হাত রেখে আমি হঠাৎ টের পেলাম—ওটা গরম। আগুন ছাড়াই গরম।

কাঠের ফাঁক দিয়ে শব্দ বেরোচ্ছে। জল নয়। শব্দ।

কেউ নৌকোর ভেতর বসে আছে।

আমি পেছনে ফিরতে চাইলাম, কিন্তু করিডোর আর আগের মতো নেই। দুই দিকেই দরজা জন্ম নিয়েছে। দরজার ওপর নম্বর নেই—তার বদলে তারিখ। সব ভুল তারিখ। এমন সব দিন যেগুলো কোনও ক্যালেন্ডারে ছিল না, কিন্তু আমার শরীর মনে রেখেছে।

রেহানা আমার পাশে এসে দাঁড়াল। আজ তার মুখ দেখা যাচ্ছে না। শুধু কণ্ঠ।

‘তুমি যদি নৌকো পোড়াও,’ সে বলল, ‘তাহলে যারা ভেতরে আছে তারা কোথায় যাবে জানো?’

আমি কিছু বলিনি।

‘তারা তোমার ভেতর ঢুকবে,’ সে বলল, ‘যা তুমি কখনও হতে চাওনি, কিন্তু হতে পারতে।’

নৌকো নড়ল। আমি তখন বুঝলাম—এটা পালানোর নৌকো নয়। এটা বহনকারী। যারা এখানে আটকে গেছে, যারা করিডোরের ভাষা শিখে ফেলেছে, যারা আর বাইরে ফিরতে পারবে না—তারা এই নৌকোতেই চেপে আছে। অপেক্ষায়। নতুন কারও শরীরের জন্য।

ঘণ্টা বাজল। কিন্তু এবার একবার না—অনবরত।

সব দরজা একসঙ্গে খুলে গেল।

আমি আগুন ধরালাম।

আগুন ছড়াল না।

আগুন ভেতরের দিকে ঢুকে গেল।

নৌকো চিৎকার করল।

মানুষের গলায় নয়—কাগজের গলায়। ছেঁড়া পাতার মতো শব্দ।

করিডোর ভেঙে পড়তে লাগল। দেয়ালের ভেতর থেকে জল বেরোতে লাগল। নদী নয়—ঘাম। ঘণ্টা গলে পড়ছে মেঝেতে। সময় তরল।

আমি দৌড়োলাম। কিন্তু দৌড়োনোর জায়গা নেই। কারণ প্রতিটা দরজার ওপারে আমি নিজেই দাঁড়িয়ে আছি—ভিন্ন বয়সে, ভিন্ন সিদ্ধান্তে, ভিন্ন ব্যর্থতায়।

একজন বলল, ‘থামো।’

আরেকজন বলল, ‘আগুন নেভাও।’

আরেকজন ফিসফিস করে বলল, ‘দেরি হয়ে গেছে।’

শেষ দরজাটা খুলতেই দেখি—বাইরে। কিন্তু বাইরে দাঁড়িয়ে নেই আমি। দাঁড়িয়ে আছে নৌকোটা। পুরো, অক্ষত। তার পাশে একটা মানুষ—যার মুখ আমি চিনি।

সে বলল, ‘তুমি ঢুকবে, না আমি?’

ঘণ্টা থামল।

আমি এখনও উত্তর দিইনি।

হয়তো এই গল্পটা শেষ হবে যখন কেউ সিদ্ধান্ত নেবে।

হয়তো সিদ্ধান্ত নিলেই গল্প শুরু হবে।

নৌকো অপেক্ষা করছে।

আগুন এখনও জ্বলছে।

Friday, March 6, 2026

গুচ্ছ কবিতা : শাশ্বত ভট্টাচার্য

 




নীল শেওলা 


আমার একটা ঘর আছে ,

আলো ঝলমলে চাতক রোদ দেওয়াল ঘেঁসে 

যেখানে অবাধ্যের মতো উঠে আসত নীল শেওলা।

পাশে রাখা দুটো পুরোনো কাঠের চেয়ার—

সময়ের ভারে তারাও আজ বড্ড বৃদ্ধ হয়েছে।





আসা-যাওয়া


সেই ঘরের চারটে দেওয়াল , চারটে বেদ 

আর একটা মাত্র দরজা খোলা রোদ 

অবাধে ঢুকে আসত চোখা চোখা সব দুঃখ,

আর তার পিছু পিছু মোলায়েম সুখের স্পর্শ।

সবটুকু নিয়েই তো... আমার একটা ঘর ছিল।





আয়নার সামনে 


ঋতু পরিবর্তনের মতো রোজ সূর্যের রঙ বদলায়,

আয়নার উপরের 'আমি'টাকেও বদলে দেয় ক্রমাগত।

তবুও আমি এক কোণে ঠায় বসে থাকি—

স্মৃতির দেওয়াল ঘেঁসে, আমার একটা ঘর ছিল।





ঘ্রাণ


দেওয়ালের ঘষে ওঠা নীলাভ এলইডি আলোয়

ঘরটা আমাকে রোজ রাতে মরতে দিত ঠিকই;

কিন্তু ভোরের আগে বাঁচিয়ে তুলত এক চেনা ঘ্রাণ—

মায়ের আঁচলের সেই চিরকালীন গন্ধমাখা,

আমার একটা ঘর ছিল।





ছায়া


জানালা দিয়ে হুড়মুড় করে ঢুকে আসত গঙ্গামাটি রোদ।

ছায়াকে জানানো হয়নি আমি কেমন আছি;

দিনশেষে ফিরে আসা ক্লান্ত পা দুটো—

'মন' আর 'পাওয়ার সম্ভাবনা'র মাঝে তুলেছিল এক সূক্ষ্ম দেওয়াল।





অট্টালিকা


আমি এখন একটা মস্ত অট্টালিকায় থাকি,

ইট-পাথরের সবটুকু আয়োজন সেখানে বর্তমান।

 এখন একটা বাড়ি আছে...


হ্যাঁ, এখন আস্ত একটা বাড়ি আছে।

Wednesday, March 4, 2026

গুচ্ছ কবিতা : রুমেলা দাশগুপ্ত

 


ক্ষতি


এমন অসংখ্য কথা বাকি রয়ে গেল

তুমি তো জেনেছ

বাকি কিছু রেখে যেতে নেই

পিছু ফিরে দেখার সময়

ফেলে গেছ ছায়া 

তোমার অদ্ভুত ছায়াছবি

এখন কী দিয়ে ঢাকব এ স্মৃতি, শরীর

তোমার যে দেহ ছুঁয়ে যাই 

অভাবে স্বভাবে 

জেনো তার অতুল বৈভব

বনফুল প্রীতি

তোমাকে ছুঁয়েছি যতবারই

নেশাতুর প্রণোদনা, মনে মনে ক্ষতি।





 স্পর্ধা


শুনে যাও তুমি

বিছানার গাঢ় নীল তোমার ও ঠোঁটে

শুষে নেবে লাল

তোমাকে যে ভালোবাসে, তাকেও দেখার

লোভে আজ নেমেছি রাস্তায়

কী নির্মম হাতে তুমি পিষেছ আমায়

এভাবে কখনো কেউ ভালোবেসেছিল 

এই স্মৃতি ছিঁড়ে যায় ক্যালেন্ডার থেকে

সংলাপ বসিয়ে যাই একে একে সব

তোমার গালের তাপ ছুঁয়ে নেমে আসি

তোমাকে বিপদে ফেলে দূর থেকে ভাবি,

কতটা সাহসে আজ চেয়েছি তোমায়!





 হেতানিয়া


বড় শক্তিহীন মনে হয়

হৃদয়ের সমস্ত কপাট 

খুলে গেছে আজ

কিছুতেই আব্রু নেই আর

নির্লজ্জ দাঁড়িয়ে আছি এই,

অযাচিত এমন প্রসঙ্গে

বার বারই এসে পড়ছ তুমি

অকারণ,

একথা বলেছি যতবারই 

অলক্ষ্যে দুরস্ত তুমি এসে

হেসে উঠছ লঘু মস্করায়,

এত রোষ লুকিয়ে রেখেছ

কী উপায়ে পালাব তাহলে!

তোমার ও চাহনিতে ভুলে

আর অন্য পথে আলো নাই

অথচ আমাকে ছেড়ে যাবে-

এই ভয় ভাঙার আগেই, 

তোমাকে জড়িয়ে একটিবার 

হেতানিয়া পার হতে চাই।





জন্মভোর 


তোমার সঙ্গে এই একশো রকম শর্ত থাক

তোমাকে দু’হাতে নিয়ে লোফালুফি

তুমি নিরাপদ জেনেও কিছুটা ত্রস্ত

তুলাদণ্ডে তোমাকে রেখে ভাবি, 

কত শোক এমন শূন্য করেছে তোমার ধাতু!

বিনা প্রশ্নে তুমি জেনে নাও আমার কুশল 

তোমাকেও আমি জেনে ফেলি অল্প অল্প।

আমার বাড়িতে যেটুকু জায়গায় তুমি

সেজে থাকে তা টিউলিপের ঋতুতে,

অনুদার তুমি, তবু, তোমার দু’চোখ কেমন

মায়া ঢালে, অপার মায়া, ছলে বলে

আমি অশক্ত হাতে ধূপ জ্বেলে দিই

তোমার মুখের আলো ঠিকরে পড়ে আমার হাতে,

এমন সন্ন্যাস চোখ কোথায় পেলে, 

আঁকড়ে ধরেছে আমার আয়ু

কী বিপুল ঋণে জর্জরিত এক একটি দিন!

এমনই অনুদার তুমি, যা দিয়েছ, ভুলবশত

গণ্ডী কেটে দিয়েছ গাঢ়,

তবু, জন্ম নেওয়ার সাধ জাগে যে, 

অসংখ্যবার

এমন জন্ম, আষ্টেপৃষ্ঠে বেত্রাঘাত

রক্ত ধুয়ে নামছে স্নেহ, শুভেচ্ছা স্বর


আমায় তুমি রঙ দিয়ে যাও,জন্মভোর!





 ঈর্ষামুগ্ধ


দেখো, কেমন চিকচিকে বালির মতো সময়,

দূর থেকে এত চমক,

অথচ হাতে নিয়ে দেখি, রং নেই, ছবি নেই, স্মৃতি নেই,

কী নিপুণ ছক, যন্ত্রানুষঙ্গ!

সে বাজনার ঘোরে নেচেই চলেছি, দুরন্ত

নিদারুণ শোক ঝাপটা মারছে থেকে থেকে

বিকল হও, সব যন্ত্র এবার বিকল হও

এত মাত্রাছাড়া যন্ত্রের ব্যবহার

দেখেনি কেউ।

সব জানলা বন্ধ,

তবু তুমি খুঁজছ কোনো জানলায়

কালো হয়ে আসা মুখ,

অবাক হয়েছ এমন আয়োজনে

ছাড়া ছাড়া হিসেব, রক্তাল্পতার রিপোর্ট 

মেঝেতে গড়িয়ে, 

কোনোদিন তো দেখলে না,

ভুল রিপোর্টে উঠে এল নাম,

এত যে ভুল পরীক্ষাগারে

বিকারে সাঁটানো অন্য নাম,

তবু কী অদ্ভুত, দেখো,

রক্তের গ্রুপ হুবহু এক,

বেদানার মতো রং ওরও, আমারও

তুমি তবে কীভাবে আলাদা করো!



Monday, March 2, 2026

বল্কলে ধবল : অর্ঘ্য নাথ




১ 

নদীটি পেরিয়ে গেলে মনাস্ট্রি 

মনাস্ট্রি পেরোলে

ধবল তুমি



২ 

সাদা রঙের মস্ত বড় টুপি

কালো পাথরটার উপর

ছায়াপথে ভেসে বেড়ায় সারারাত

সময় এখানে তুচ্ছ

তীরচিহ্নে মন্ত্রমুগ্ধ ওম



৩ 

সোনা রং ধরলে

প্রশ্নে বল্কল 

দিবানিদ্রাপূর্বে প্রাতরাশ লোভী ঈশ্বর

শেষ দেখা দেন অন্ধত্বে 



৪ 

সরোবরেরও মান আছে

তাই তুচ্ছ মানবস্পর্শে 

সে কঠিন শীত

একা একা বয়ে চলে অন্তঃসলিলা 

রিনপোচে লামার টিলায়



৫ 

এখানে অপরাধ মহাঅপরাধ

নীরবতা ভগ্ন

সে দোষে দোষী তবে ওই

ইয়াকের দল ও তিব্বতী শিশুটির ' লু '

ক্ষমা করো



আজ এলেন তিনি

আমার তাঁবুর দেশে

দিব্যকান্তি লাশ

লাশ? কৈলাশ?

আসলে ছুঁয়ে দিলেই ঈশ্বর

পিছিয়ে এলে বন্ধন ওগো মনকেমন


প্রবন্ধ : ফজলুল করীম

মার্কিন সাম্রাজ্যের সাহিত্যিক ময়নাতদন্ত সাম্য রাইয়ান-এর উপন্যাস ‘সকল প্রশংসা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের’ সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অত্যন্ত সাহ...