Sunday, October 11, 2026

গুচ্ছ কবিতা : সূচনা ঘোষ

 



নিষিদ্ধ যাতায়াত 


তুমি তো সব জানো—

তোমার স্নানঘরে আমার চেনা উপদ্রব,

ঘরের অসাড় কোণ।

কিন্তু সে ঘরে তুমি কোথায়?

পালানোর ভান করা তোমার অনভ্যাস।


তুমি তো সব জানো—

তোমার ভেতর আমার চেনা উপদ্রব,

শরীর জুড়ে বিরামহীন তালাশ।

এ যাতায়াতে নিষেধ কাদের?

এ নিষেধ মানব কেন?


আমি ক্রমে ক্ষয়ে যাব,

তবু রোজ তোমার ভেতর যাব।

মানব না কোনো পাবন্দি

অথবা খাদ্যশৃঙ্খল।





আসা-যাওয়ার মাঝে 


ইদানীং রোজ তোমায় দেখি।

অথচ তোমায় দেখিনি কয়েক লক্ষ বছর

আর কী দেখি? 

আর দেখি কৃত্রিম রোদ, সরীসৃপের মৃত্যু 

মহামারি, রক্তপাত, স্লিপিং পিল

হ্যালুসিনেটেড কফিন।


ঠিক কতবার তোমায় দেখি

তার হিসেব রাখিনা। 

যেভাবে হিসেব রাখিনা 

দশমিকের পরের শূন্যগুলোর,

বা কবিতার বইয়ের পাতার সংখ্যার। 

কিন্তু তুমি কি এই দুর্যোগের কথা জানো?


ওইযে ফকিরটা রোজ খোদাকে ডাকে,

খোদার কি তাতে কিছু আসে যায়?





ইলেক্ট্রা


কার্ফিউ শেষ

এবারে তুমি মানচিত্র ভুলতে শুরু করো

মানচিত্র খুঁজতে শুরু করবে উদ্বাস্তু এক একটা শরীর

আমার সারা শরীর ভাগাড় বনে গেছে।

এসো, নরম কার্তুজে শরীর মেপে দেখি,

মেপে দেখি আমাদের রক্ত চলাচল। (১)


কেমন হবে 

শারীরবৃত্তীয়ভাবে আমাদের না-থাকা?

না-অস্তিত্বে ভুগবে,

বারুদবর্ষণের প্রমাণ পাবে

আর রেখে যাব দেশভাগের দলিল।

ঘিলু হারিয়ে যাবে আমার,

ক্রিপ্টিক রেকর্ডে তুমি থাকবেই

অনিকেত প্রান্তর লাপাতা হয়নি। (২)


মাথার ভেতর আট-দেওয়ালের মর্গ। 

এই মর্গে মৃতরা জন্মায়। 

তুমিও জন্মাও রোজ, 

মর্গের ভেতর, ঘিলুর ভেতর। 

কে আটকাবে আমাদের জন্মানো? 

কে করবে আমাদের পোস্টমর্টেম? (৩)


মর্গের বাইরে শোক জন্মেছিল,

চাপা পড়েছিল যুদ্ধের আবিষ্কার।

তুমি তো সন্ত্রাস, স্নায়ুর ভেতর,

দাফন করো যিশুর চিৎকার।

অ্যানাটমি ভেবে দ্যাখো,

আর ভেঙে দাও, ভেঙে দাও

এইসব কবিতা,

আমার জড়তা। (৪)


সকল আলোর অতীত তোমার পরমাণু

এইসব যুদ্ধ বা কবিতার চেয়ে নির্মম।

শুধু যীশুর চামড়ায় বিঁধে ক্রুশ

খুঁজে বেড়ালো কাঁটাতার।

ঝাঁঝরা হলো সব খিদের ছাপ।

যীশু আসলে ক্রুসেড দ্যাখেনি। (৫)


ওপাশ ফিরলেই ধর্মযুদ্ধ।

জানি না কোন মিথে ফাঁসি দিয়েছিল

দু-একটা সুইসাইড।

ক্রুসেড ফেলে জেরুজালেম ফেরে জালেমের কান্না,

আর আমার পরে থাকে চারটে বুলেট, দুটো লাশ

আর শিরায় পোষা ঈশ্বরের প্রাণ। 

কাফের, আমার পাঁজর খুঁড়ে দ্যাখো

দেখবে তোমার অ্যানার্কি যত। (৬)


বাবা, তোমার ঘুম হয়?

তোমার স্বপ্নে পরকীয়া আসে?

আমি স্পষ্ট দেখেছি,

সিলিংয়ে ঝুলে তুমি হাসছ।

তোমাকে আমি ওর মতো বিছানায় খুঁজি।

বাবা, তুমি ইলেক্ট্রা জানো? (৭)


কাফের, তুমি বাবার মতো অদেখা দিও না।

কাফের, তুমি আমার প্রার্থনা শোনো।

কাফের, তুমি কি ইবলিশকে চেনো?

ক্রুসেড, মর্গ, ঘিলু–হোলি ট্রিনিটিতে তুমি থাকবে না।

অনিকেত প্রান্তরে মিলিয়ে যাও।

আমার কোনো গুনাহ্ দেখো না

খোদার কাছে আমার যা অপরাধ,

ইবলিশ তার সবটুকু জানে। (৮)

গুচ্ছ কবিতা : রবীনা মিত্র

 






কথামৃত/-্যু


১

কথাকে বোবা হতে বলি

কিন্তু তেমনটা জেনেটিক নয় 

হায়...


কথারা—

অর্থহীন, ভুলভাল বকে যায়..




২

শব্দ জলে ডোবাই

যেভাবে ছোটবেলায় চৌবাচ্চায় বেলুন ডোবাতাম

আঙুল দিয়ে চেপে চেপে 


হাত আলগা হলেই প্রলাপের

ভিসুভিয়াস ওঠে

অকারণ... ফুলে ফেঁপে...




৩

মুখের কাছে আসার আগেই খুন করি

গলার কাছে রক্তারক্তি

কথার শব শনাক্ত করতে গিয়ে

ডাহা মিথ্যে ডাহা মিথ্যে


আমি কোনোদিনই চিনতাম না এদের। 




৪

পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে 

খাদে ফেলে দিয়েছি কতবার

কত নিচে পড়ে আছে সেসব হতভাগ্য 

শব্দদেহভার... জানি না... 


বাক্যপ্রেত স্বপ্ন ফুঁড়ে ওঠে...




৫

হৃদকম্পে চাপা পড়ে গেছে

কথার সাজানো টাউনশিপ

ধ্বংস স্তুপের নিচে হাত পা ভেঙে 

কবিতা পড়ে আছে


আমি আর

রেসকিউ টিম পাঠাবোনা কারো কাছে...


Thursday, October 8, 2026

গুচ্ছ কবিতা : সব্যসাচী ভট্টাচার্য্য

 



সা রে গা মা পা 


এই শহরে আলগা ধোঁয়ার আড়াল থেকে উঁকি দেয় সার্কাস উৎসব, পাখির পায়ে ছোট্ট একটা সুতো, গোধূলি সন্ধ্যায় নিহত সন্তানের মতন দেখায় তাকে, দূরে সারসের ঠোঁটে কালো তিলের দানা।


যখন নিজেকেও মনে হবে সেই সার্কাসের অঙ্গ

তখন হয়ত আমি দিব্যি শুয়ে থাকবো আমার বিছানায়,

ফিরে যাবো লাইট পোস্ট-এর আলোর তলায়, অমোঘ নির্দেশ পেয়ে ছুটে যাবো সমুদ্রে।


সেখানে নোনা হাওয়ায় আমায় শরীর জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে, বাতাসে মিলিয়ে যাবে তোমার সা রে গা মা পা!

হাওয়ায় ভাসবে জলকণা, তুমিও তখন মঞ্চের নর্তকী,

তোমার পায়ের সরু নদীর কাছেই লুটিয়ে পড়বো আবার।


সার্কাসে তখন দেখানো হবে কফিনের খেলা,

ছোট্ট একটা ঘর যেন এক মহাবিশ্ব, বাংলা এখানে দুই অর্থে ব্যবহার করা হয়, এতেই ঘুমিয়ে পড়লে নাকি? আরে উঠে পড়ো একটু পরে তোমাকেই সাজতে হবে শিকার এবং শিকারি, আমি যে সিঁড়ির মুখে জমা রেখে এসেছি অবসাদ।





পুরুষ ও ভারতবর্ষ


কুয়াশা কেটে ফুটেছে আলো,

মিথ্যে বলার বিশেষ আর প্রয়োজন নেই,

ভাটিয়ালি বুকে আমি পুরুষ আর তুমি ভারতবর্ষ।


গোধূলি মাখা আলোয় 

কোলে তুলে নাও শিশুকে,

অস্বীকার করো না পারমিতা, আমিও তোমার শরীর নৌকায় পা রেখে এগিয়ে যেতে চাই পরপারের দিকে।


প্রেম-প্রেম খেলা অনেক হয়েছে,

লণ্ঠন জ্বেলে দেখো এবার 

তেলচিটে এই শহরের নিজস্ব মেঘ প্রয়োজন,

মেঘকে সঙ্গী করে কবিতা হবে বিদ্রোহ আর তুমি বিদ্রোহী।


আমার ছেড়ে যাওয়া অভ্যেস,

যা বদলাবে না, তুমি জানো আমার আঘাতের কথা,

চাঁদের আলো লুটিয়ে পড়লেই আমি সরে যাবো তবে তুমি মনে রেখো আমি যতই ক্ষমতা সাজি তোমার নাম কিন্তু ভারতবর্ষ। 


আমার অভিশাপের আলো আমায় হয়ত বাঁচিয়ে রাখবে আরও কয়েকটা দিন, আমি তোমায় কিছুই ফেরত দিতে পারবো না, আমি শুধু কেঁপে উঠি গ্লানিতে, তুমি জেগে ওঠো গঙ্গা-আরতিতে, বৈরাগী দিঘিতে ভিড় অসংখ্য মানুষের, তোমার আকাশে পুবের সাইরেন তুমিই একলা নদী, তুমিই তখন সাধারণের ভারতবর্ষ।





ঘাতকের কবিতা 


হায় রে ভালবাসা তোমার এত কীসের গর্ব?

সূর্যের মিথ্যে অহংকারের জালে শেষে তুমিও ধরা দিলে? যতটা তেজ ভাবো সূর্যের ততটা তেজ আসলে নেই, যতটা প্রেমকে শক্তিশালী মনে করো ততটা শক্তিশালী সে নয়, যদি হত তবে সবাই পুড়ে যেতাম আর হতভাগ্য মৃত্যু এসে দাঁড়িয়ে থাকতো উঠোনে।


যে উঠোনে পাওনাদাররা এসে অপমান করে যায় বাবাকে, মায়ের গয়না নিয়ে কথা বলে, সেই উঠোনেই সূর্যকে অভিশাপ দেয় সন্তান, রাত হলে বেরিয়ে পড়ে হাতে সাদা রুমাল বেঁধে।


সেই রুমালের কাছে ধরা দেয় পুরুষ নারী উভয়েই,

তাঁর কাছে সমকাম বলে কিছু নেই, দিনের শেষে সে নিজেকে পণ্য করে বিলিয়ে দেয় শহরের শীতল রক্তে।


রক্ত বলতে মনে পড়লো, মশার কাছেও আমরা হেরে বসে আছি, সে আমাদের রক্ত চুষে নিজেকে বিশাল কিছু ভাবছে, অথচ তার কাছেই প্রথম বিক্রি হয় নিজেদের শরীর।


নিষ্পাপের রক্তে দোষী হতে পারে সামাজিক রাজত্ব 

তবুও নিজেদের আজও প্রজা ভাবতে ভালবাসে কিছু মানুষ, মানুষ বলতে মনে পড়ল মানুষ আসলে মানুষের চাকর।


সম্প্রসারণ সহ্য করে নিজেকে শক্ত করার পরেও কিছুটা নরম অংশ পড়ে থাকে, সেই অংশে মাছি বসে, গুনগুন করে, সংক্ষিপ্ত মৃত্যু পেরিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি আবার ঘুম থেকে উঠে নির্দোষ মৃত্যুকে মেরে ফেলি, ঘুমন্তের গুহায় এইটুকুই সকাল, সেই সকালে বুকের দীঘি ফুলেফেঁপে ওঠে পুরনো চোখের জলে।





চকমকি পাথর


তোমার সিঁথিতে দেখা আগামীকাল,

সামাজিক তল্লাশির পরেও উদ্ধার হয়নি কিছু,

গ্রীবা থেকে কটিদেশ পর্যন্ত শুধু অবসাদ গ্রাস করে রেখেছে তোমায়।


কিন্তু দেখো তুমি না এলে আমার তো বাঁচার কথা না,

অথচ কেমন দিব্যি বেঁচে আছি, রাত্রিকালীন কুকুরের মতন পাড়া ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে লুটিয়ে পড়ছি।


কৃষ্ণ রক্ত তোমার অখণ্ড শরীরে,

তোমার জিহ্বার নিচে নৌকা বাঁধা,

পর্দা ফেলে দাও নৌকার, একটু কাছাকাছি বসি 

যদিও তাতে দুজনের ক্ষতি, চাকার নিচে পাক খাই আর শরীর চিমনি থেকে বের করে দিই ধোঁয়া।


একটা ডিম ভাজার গন্ধ আর সরাইখানা,

সমাধিতে এখানে মদ ঢেলে দেওয়া হয়, শাস্তি স্বরূপ কফি, চলো দুই পেয়ালা তিতো কফি গিলে রস বোদ্ধাদের মাঝে বমি করে ভাসিয়ে দিই সামাজিক ভণ্ডামো।


আরেকবার মনে করিয়ে দিই, শরীর আসলে চকমকি পাথর, নগ্ন শরীরে রং মেখে কাস্তের আঘাত বড় অশ্লীল আর এর দায়ে পেরেক গিলে উল্লাসে মাতি নাবিক দলের সঙ্গে।





শহরের ব্ল্যাক হোল 


প্রেম ছুঁয়ে দেখে রাত্রি স্বমেহন,

সিক লিভ-এর আবেদন গৃহীত নয়,

উল্টো জামায় কোনও মতে ঢেকে রাখা ক্ষত।


ঘামে ভিজে মোজা আর বুট জোড়া,

অসামাজিক গন্ধ গ্রাস করেছে বাড়ির পথ,

ভ্রাম্যমান ছায়াকে আজ দিলাম ফাঁসি, মৌনতা আর যৌনতা তখন খেলা করে শহরের ব্ল্যাক হোল-এ।


ফাঁসিতে ঝোলার আগে 

কবিতাকে ধর্ম বানিয়েছি, 

সমস্ত অশ্লীলতা ত্যাগ করেছি তবু আমার গ্রহদোষ কাটেনি।


দিনান্তে যখন আমার অবসর ফুরিয়ে আসে,

উর্বর মাটি খুঁজি বৃক্ষরোপণ করবো বলে,

একদল আমায় লোভ দেখায় চাঁদের মাটির,

আবার একদল উস্কে দেয় আমার উলঙ্গ জীবন।


গুচ্ছ কবিতা : আরণ্যক দাস

 



দৃষ্টি (সিরিজ কবিতা)



দৃষ্টি ৬


মনে পড়ে

যাকে দেখেছিলাম বহু শতাব্দী আগে,

ছড়িয়ে মুক্তা, সহজ করেছিলো বাঁচা




দৃষ্টি ৭


আলোর তলে বিপ্লবীরা সর্বসম্মুখে খাচ্ছে চুমু 


কুদৃশ্য থেকে নজর ঘোরাতেই 

সন্তানের হাতে ফোন তুলে দেই!




দৃষ্টি ৮


আমরা বাচ্চা থেকে বড় হতে হতে 

নিজ সম্মান সম্পর্কে সচেতন হই, 

ছোট বড় বোধের মাথায় বন্দুক রেখে আমিত্ব—কে এগিয়ে দেই


মনে করাই 

"ক্ষুদ্র আমি তুচ্ছ নই"




দৃষ্টি ৯


পরিচিতরা স্বাভাবিকভাবেই অপরিচিত হয়ে যান,

আমি চতুর্দিকে হাত চালাই। ছেলেবেলাটা আমার হঠাৎ উবে গেল কই?


দেখি,

স্কুল দেওয়ালের রং ছুটে গেছে। ছুটেছে কুলিকের জল 

আমাদেরই মতো।




দৃষ্টি ১০


এখন কেবল 

নিবিড় অন্ধকারের গায়ে সাজিয়ে তুলি 

এক একটা বিনাশের সাথে প্রেম ভালোবাসার ছবি।


Friday, October 2, 2026

গুচ্ছ কবিতা : শঙ্খ মিত্র

 





জুলাই জাতক


৬


ভোর রাতে বাবা উঠে পড়েন

যেন অন্ধকারের গর্ভে 

        ভোর এক কাঙ্ক্ষিত সন্তান


ঘর ও দোকান, দোকানের ঘর...

ধীরে ধীরে ঝাঁপি খোলা হয়


কাক ডাকে, দলে দলে কাক আসে

যদিও বিলুপ্ত প্রায়

গায়ে গায়ে ঘেঁষে কুকুরও সহচরী হয়

মুড়ি ছেটালে নাকি অভাবও মুখ লুকায়


সুচারু আলো ফোটে


ফোটে চা ও জল 

বলকে বলকে লেখা হয়,

"ঔঁ গণেশায় নম:"



৭


ঠিক ৬:১০- এ ঘুম ভাঙে

কী আশ্চর্য সময়যান

একটুও হেরফের নয়


আমাকে বলে কিনা, 

"টিউশনে যাওয়া কি অত সহজ ভায়া !

কুয়াশা গায়ে মেখে নিতে হয়"


জানো তো, প্যাডেলের অসীম শক্তি

পৌঁছে দেবে ঠিকঠাক ঠিকানায়


আমিও কী বেকুব দেখো,

আজও হেঁটে চলেছি, হেঁটেই চলেছি...


শুধু চটি ছিঁড়ে যায়



৮


আচ্ছা সব পতনের কি শব্দ হয়?


টুপ করে তারা খসে পড়লে

পৃথিবী উল্টোপথে ঘোরে 


জগতের এই ব্যাপারটাই গোলমেলে

ডিগ্রি নয়, সচ্ছলতা নয়, উচ্ছ্বাস নয়

মানুষ চিৎকার গিলে ফেলে সহজেই


বিবমিষা জাগে


একটা সর্বংসহা পেট থেকে

কুড়িটা বসন্ত প্রসব করে



৯


কোথায় হারিয়ে যায় বন্ধুরা


স্নায়ু ও হৃদয়ের মধ্যিখানে

একটা মাঠ ও সরু আলপথ জেগে থাকে রাতদিন

হেঁটে গেলে চোরকাঁটা বিঁধে 


ছোট ছোট দিনগুলো বড় হয়

নয়ন আর রাজেশ আসে

পেছনে ছায়া ও রোদ্দুর

দুলালের দিঘি হেসে ওঠে


জলও তো অভিমান জানে

ডাকে ইশারায়

বলে, "প্রতীক্ষায় থেকে থেকে শুকিয়ে গেলে

আর কবে বড় হবি তোরা"


আমি কানে চাপা দিই

ঘরে ফিরে বন্ধ করি দরজা



১০


বাজারের ব্যাগ হস্তান্তর হলে

                 আমার হাতেখড়ি হয়

কী থাকে থলেতে?

জড়ো করা ঐকতান আর লবণের স্বাদ


বাবা জানে লেনদেন, বাটখারা, ওজন

স্বপ্ন কি মাপা যায় দাঁড়িপাল্লায়?


মা ভূগোলের অধ্যায় জানে না

জানে আহ্নিক গতি


আমাদের শপথেরা গেয়ে ওঠে কোরাসের মতো 

আমরাই শ্রোতা, আমরাই হাততালি দিই

Tuesday, September 29, 2026

গুচ্ছ কবিতা : অরিন্দম রায়

 



 

আদর


চপার হাতে 

আমাকে 

টুকরো টুকরো করলে!

না না

তোমার হাতে ছিল কিচেন নাইফ 

আর সে কী সূক্ষ্ম তোমার হাতের কাজ!

আবার কবে মারবে গো আমায়?


বলুন ধর্মাবতার 

অতি বড়ো মনখারাপ!

তার কাছে হেরে যাই রোজ 

বেঁচে থাকা সোজা নয় জানি 

মরে যাওয়া অতই সহজ? 





কুটো


ভেবেছি মুঠোয় নেব তোকে

হাত মুঠো করে হাওয়া 

যেভাবে ধরতে যায় 

জলে ডুবে মরতে বসা লোকে!

ধরা টরা দূরস্থান— আমি 

চোরাস্রোতে ভেসে গেছি চোখের পলকে  





সে


লেখার কোনো দাবি নেই 

সে শুধু আমার পাশে 

বসে থাকতে চায় 

নানা কাজে ব্যস্ত আমি 

তাকে বলি— 'আজ নয়, কাল এসো

একসঙ্গে ভাত খাবো, দুপুরে ঘুমোবো

বিছানায়, তারপর তোমাকে নিয়ে ঘুরতে 

যাবো পাড়ার এ মাথা ও মাথা! 

কাঠবাদামের পাতা কুড়োব পড়ন্ত বিকেলে'

লেখা জানে পুরোটাই স্তোক বাক্য, বানানো যত কথা। 

বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নেমে আসে 

দিনের পরে দিন চলে যায় 

লেখার কোনো দাবি নেই 

সে শুধু আমার পাশে বসে থাকতে চায় 

তাকে বলি— ' আমার তো ঘর নেই!

তুমি এলে রাখব কোথায়?' 





টক্সিক 


মরে যাবো, সত্যি সত্যি মরে‌ যাবো 

যদিও তোমার তাতে বাল ছেঁড়া যায়!

সফল প্রেমের গল্প লীলাময়ী তুমি জানো 

বিছানায় সার্থকতা পায়!

Saturday, September 26, 2026

গুচ্ছ কবিতা : অর্করূপ গঙ্গোপাধ্যায়

 



ভাত 


এমনি বড়ো শুকনো, নীরস 

আগুনজলে সাঁতার দিতে হয়।

টগবগে তেজ দাবড়ানি দেয়, 

ঠিক ক্রমশঃ নরম হয়ে আসি।

তরল আঠা দুঃখ যতো,

ফ্যান গালিয়ে ফেলেই দিতে হয়

সাদা নরম ঝরঝরে ভাব 

ভাতজন্মের অমোঘ সার্থকতা। 





এপিটাফ 


চানঘরে রক্তধারা গায়ে মেখে 

গান করে নগ্ন সভ্যতা। 

তারপর আবশ্যক কাপড় পরে 

প্রেমিকা পৃথিবীর কাছে আসে। 

আবার পোশাক খোলে,

অসংখ্য সভ্যতার জন্ম 

সতর্কতা বশত রুখে দেয়। 

মানুষ গোপনে বসে সভ্যতা-পৃথিবীর 

প্রেম নিয়ে 

শারীরিক এপিটাফ লেখে। 




 

প্রদীপ

 

সেই যদি গলেই পড়তে হয় নিরাকার

কী লাভ হয়ে মোমের কারুকাজ ?

আগুন প্রদীপ সয়, তার মাটি ক্রুদ্ধ

শক্ত পোড়া। তীক্ষ্ণ আর রুক্ষ খালি গা।

বরং তলায় জমাট বাঁধা অন্ধকার থাকুক। 

উষ্ণতায় অন্ধকার ঢাকা পড়ে যায়। 





স্মরণ 


নভেম্বরের সন্ধ্যে নীরব ঝিমধরা এই মফস্বলে, 

দূরস্টেশনে ঠাণ্ডা হাওয়া পেরোয় সাঁকো হিমেলবলে।

শব্দহীনের সশব্দতায় চারদেয়ালে নিষ্ঠুরতা, 

এমন সময়ে পড়ছে মনে অনেক কথা। তোমার কথা। 





ছুটি 


বিকেল ঘনিয়ে এলো

একা গেটে দাঁড়িয়েই আছি। 

ঘেমো জামা, ধুলোদাগ।

আকাশের মেঘ টলোমলো, 

কুলফিদাদার কাছে 

সব দেনা চুকিয়ে দিয়েছি।

ছুটি হলো বহুক্ষণ 

মা, আমায় বাড়ি নিয়ে চলো।

গুচ্ছ কবিতা : সূচনা ঘোষ

  নিষিদ্ধ যাতায়াত  তুমি তো সব জানো— তোমার স্নানঘরে আমার চেনা উপদ্রব, ঘরের অসাড় কোণ। কিন্তু সে ঘরে তুমি কোথায়? পালানোর ভান করা তোমার অনভ্য...