সংলাপ
আমাদের হেঁটে যাওয়াই দস্তুর
এত ভান ও ভনিতা ভালো নয়
মাটির ভেতর জমে থাকে অজানা রসদ
তাকে সুযোগ দাও
ফল ও বৃক্ষ ঠিক চিনে নেবে তোমায়
পুরোনো প্রেম কালানুক্রমে
বদলে দিয়েছে ইতিপূর্বের সহজ অভিধান
চাঁদ ডুবে আছে শ্বেতশুভ্র বিষাদে
প্লেটনিক আলোর ভেতর জোনাকিরা খুঁজছে সঙ্গম
শরীর নয়, শুধু প্রবাহের আকাঙ্ক্ষা
এক নিবিড় সেতুবন্ধনের আড়ালে নিভৃত সংলাপ
স্মারক
বেজে ওঠে জলের স্বরলিপি
ঘুম ভাঙে দৃশ্যের
ম্যাজিক শিল্পের মতো
উড়ে এসে জুড়ে বসে ছায়া ছায়া মুখ
যেহেতু চোখে দ্যাখা যায় না
তাই মিলিয়েও যায় সহজে
আসলে জয়ী হতে কে না ভালোবাসে
তবু ক্ষয় হয়ে যায় জয়ের স্মারক
শুভেচ্ছা
মন থেকে শুভেচ্ছা জানালে
বোধহয় কিছুটা নির্ভার হওয়া যায়
দূর থেকে দেখি আলোর খেলা
অজান্তে, মনে মনে ভালোবেসে ফেলি
এই সুখাবয়বের ভিতর
এক সময় এঁকে দিই প্রগাঢ় প্রশ্নচিহ্ন
যে কথাদের ফেলে এসেছি
তাদের প্রতি করুণা হয়
সন্ধ্যা
কাউকে বলা হয়নি কখনও
বসন্তকে আমি হিংসে করি
অতিরিক্ত পাতা ঝরাতে পারি না ব'লে
কেউ কেউ আমার ভিতর আজীবনের সঞ্চয় রেখে যায়
কিছু পাখি দেরিতে ঘরে ফেরে
তাদের ডানায় ডানায় লেগে থাকে
সারা দিনের নীল আকাশ
সূর্যাস্তের নিচে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে ক্লান্ত মানুষ
ক্লান্ত...খুব ক্লান্ত
মানুষ কি এভাবেই
নিজের ভিতর সন্ধ্যা বয়ে আনে?
আত্মপক্ষ
নিঃশর্ত সমর্পণ কতটা সুখকর এ নিয়ে তর্ক চলতেই পারে। তবে কখনও কখনও আত্মপক্ষ সমর্থন কি জরুরী নয়? ভালো থাকার অলীক বৃত্ত থেকে বাইরে বেরিয়ে এলেই মাথা চাড়া দেয় অযুত দোলাচল। তবু কেন অকারণ গন্তব্য খুঁজে ফিরি বারবার ! কেন এই অন্বেষণ ! আমি কি জানি না কত কত ঋণ পড়ে আছে পথে প্রান্তরে।
দ্রুত ফুরিয়ে আসছে সময়। ফুরিয়ে আসছে আলো। আলোর ভ্রূণ ভেঙে ভেঙে দেখে নিচ্ছি পাখিদের গোপন সঙ্গম, তাদের অকাতর ডানায় ঝড়ের পূর্বাভাস, যাবতীয় জাদুকরী আঁতাত। ঠিক যেমন, হননে উদ্যত শলাকা বার্বিকিউয়ের আগে পরখ করে নেয় পৌষ্টিকতন্ত্রের বিন্যাস। চুলচেরা বিশ্লেষণে উঠে আসে ময়নাতদন্তের হাড়হিম রিপোর্ট।
চারিদিকে ব্ল্যাকহোল, ঘুমোতে দেয় না রাত দিন। সেখানে স্বপ্ন নয়, খেলা করে এক অন্তহীন বোধ। কথা আর ব্যথা এসে বসে পাশাপাশি। পাতার পর পাতা লেখা হলেও বাকি পড়ে থাকে উপসংহার। মৈথুন শেষে এক পেগ হুইস্কি ও অধরের মৌ স্বাক্ষরিত হয়। একটা সহজ সমীকরণ এসে মিলে যায় কোথাও। পৃথিবীর সব আলো জ্বলে উঠলেও স্থায়ী হয় শুধু অন্ধকার।

No comments:
Post a Comment