যুদ্ধ
গলা থেকে কোমরে যেতে
নীরবতা এবং শব্দের লুকোচুরিতে
বাজি রেখেছ নির্বিবাদ সমর্পণ
ভাসমান স্বাক্ষরিত শব্দে
সামতলিক চিত্রে প্রেমের ঢেউ
পিঠ জুড়ে প্রবাহিত…বিশেষ কেউ
সামনে এসে তাকালে যখন
চোখে অবিশ্বাস
জানি না তুমি ইরান না ইসরায়েল
তুলে নিয়েছি ব্যালিস্টিক মিসাইল
মনের হরমুজ প্রণালীতে
সবুজ বন্ধুত্বের যান চলাচল
নিষিদ্ধ
(যুদ্ধ মানে)
ধৈর্যের খেলা
অনুভূতির আদান-প্রদানে
শত্রুতায় বন্ধুত্ব খুঁজে নেওয়ার পালা
অথবা বিপরীত…
OMR
নাম কিংবা সংখ্যা
বুঝছ, আনন্দের শিহরণ, মনখারাপও
কর্কশ ও কোমল শব্দ পাশাপাশি থাকলেই
যদি কবিতা বলো, আবেশিত প্রশংসায়
সময়ের দাবি মেনে ম্যাজিক মুখ ফেরায়
বলছ যা, ভাবছ অন্য, লিখছ অনুকরণে
মনে আছে, প্রথম যেদিন সামনে পেলে ও এম আর…
শূন্য বৃত্ত দিয়েছিল পূর্ণ হওয়ার ডাক
সতর্কতায় প্রসারিত বিন্দু, সম্পূর্ণে নির্ভুল
প্রশ্ন যাই হোক শেষ পর্যন্ত উত্তর– গোলাকার পৃথিবী
অনলাইন বৈচিত্র্যে ছেয়ে আছে ভবিষ্যৎ-আমন্ত্রণ
সময় বইছে, আওয়াজ কমিয়ে
সামান্য ভুলেই এখন পরিচয় পরিবর্তন
ভুল
মাঝরাতে মসজিদে ‘আপনারা সবাই উঠে পড়ুন…’
চোখের ওপর আলিফ লায়লার জাহাজ
স্বপ্ন নাকি সত্যি, ছুঁয়ে দেখি মশারি
কেন যে ঘুমিয়েছি এত তাড়াতাড়ি!
ন’টায় শুরু হওয়া সিনেমার গান পাশের বাড়ি থেকে
এবং
জানলায় প্রশ্নের পাখি, আমি কি বড়ো হয়েছি…
পাশে ঘুমন্ত বাবা-মা এসব জানে?
রুটিন হারালে সময়ের পাশে কাজের নাম
একদিন পোষা বিড়ালের হাতে ছেড়ে দেব,
মৌলিক চাহিদা থেকে সে বারবার মুছবে মন
কবিতা লিখতে লিখতে হঠাৎ বাড়ি ভেঙে পড়লে
জুড়ব কী করে! তাই হয়তো সৃষ্টি করেও
জাগাতে পারেনি তোমাকে, তবু আমার সব ভুল উত্তরে
ফুল মার্কস দিয়ে যাচ্ছ তুমি…
জাড্য ধর্ম
থেমেছ নিউটনের ইশারায় ডোপামিনের অভাবে
টাইপ চলছে অক্ষরের স্বর্গযাত্রার পথে
স্থিতির বাড়াবাড়ি ইমোশনের চিলেকোঠা ঠেসে
জিনগত স্বভাবে গতিজাড্যই একমুখী পছন্দের কারণ
ফিরিয়ে নিলেও চোখ ছোঁয় স্মৃতির অলিগলি
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বছর এসে মিশছে বছরে
এক ঘর পরপর, চিন্তা-ভাবনা-আবেগ-সিদ্ধান্ত, আলোকিত স্তর
বিশ্বজয়ের অপেক্ষায় আশেপাশে সারাক্ষণ অনুষ্ঠানের আবহ
একবার দর্শক হয়ে যেও প্রতিযোগিতার বাইরে
পরীক্ষা চলুক মনে মনে, ফলাফল অজ্ঞাত
অভ্যন্তরীণ অঙ্গের দ্বন্দ্ব, ভয় পেয়েছে ঘুম
অবস্থা বদলাতে দুরন্ত দৃষ্টি জাগছে রাত, নিঝুম!
ঘুম
মেলাটোনিন, পাইনাল গ্রন্থি থেকে চোখের পাতায়
সেইসঙ্গে
টু-দু লিস্ট জ্বলন্ত স্ক্রিনে ডাকে নিবিড় নীরবে
ভোরের ঝাঁকুনিতে নার্ভ, নুতন দিনের কোলে
কবে যেন ডায়াজিপাম কিনে ট্রেনে ফিরছিলে…
দরজার পাশে ঘুমিয়ে নিচ্ছে হকার যুবক
ক্লান্তির কম্পন গাল বেয়ে, পরবর্তী স্টেশনগুলোতে
নামবে লোকজন, সঙ্গে অদৃশ্য দুশ্চিন্তা
উঠবে যাঁরা, তাঁদের অনুসরণে খুঁজে পাওনি সুখ
এইটুকু তফাতেই গভীর অসুখ
শ্মশান যাত্রা ভুলে শোভাযাত্রায় যেতে
অবচেতন অনিশ্চিত, কিন্তু ভালোবাসা দিতে?
বারণ করেনি কেউ
দূরের গাছ, নিজের হাত, বিরোধিতাসহ ভাগ্যের ঢেউ
কলার টিউন হয়ে বিছানায় বাজছে
‘তু জি লে জারা…’
অবশেষে জেগে ওঠার ঘুম।

No comments:
Post a Comment