সা রে গা মা পা
এই শহরে আলগা ধোঁয়ার আড়াল থেকে উঁকি দেয় সার্কাস উৎসব, পাখির পায়ে ছোট্ট একটা সুতো, গোধূলি সন্ধ্যায় নিহত সন্তানের মতন দেখায় তাকে, দূরে সারসের ঠোঁটে কালো তিলের দানা।
যখন নিজেকেও মনে হবে সেই সার্কাসের অঙ্গ
তখন হয়ত আমি দিব্যি শুয়ে থাকবো আমার বিছানায়,
ফিরে যাবো লাইট পোস্ট-এর আলোর তলায়, অমোঘ নির্দেশ পেয়ে ছুটে যাবো সমুদ্রে।
সেখানে নোনা হাওয়ায় আমায় শরীর জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে, বাতাসে মিলিয়ে যাবে তোমার সা রে গা মা পা!
হাওয়ায় ভাসবে জলকণা, তুমিও তখন মঞ্চের নর্তকী,
তোমার পায়ের সরু নদীর কাছেই লুটিয়ে পড়বো আবার।
সার্কাসে তখন দেখানো হবে কফিনের খেলা,
ছোট্ট একটা ঘর যেন এক মহাবিশ্ব, বাংলা এখানে দুই অর্থে ব্যবহার করা হয়, এতেই ঘুমিয়ে পড়লে নাকি? আরে উঠে পড়ো একটু পরে তোমাকেই সাজতে হবে শিকার এবং শিকারি, আমি যে সিঁড়ির মুখে জমা রেখে এসেছি অবসাদ।
পুরুষ ও ভারতবর্ষ
কুয়াশা কেটে ফুটেছে আলো,
মিথ্যে বলার বিশেষ আর প্রয়োজন নেই,
ভাটিয়ালি বুকে আমি পুরুষ আর তুমি ভারতবর্ষ।
গোধূলি মাখা আলোয়
কোলে তুলে নাও শিশুকে,
অস্বীকার করো না পারমিতা, আমিও তোমার শরীর নৌকায় পা রেখে এগিয়ে যেতে চাই পরপারের দিকে।
প্রেম-প্রেম খেলা অনেক হয়েছে,
লণ্ঠন জ্বেলে দেখো এবার
তেলচিটে এই শহরের নিজস্ব মেঘ প্রয়োজন,
মেঘকে সঙ্গী করে কবিতা হবে বিদ্রোহ আর তুমি বিদ্রোহী।
আমার ছেড়ে যাওয়া অভ্যেস,
যা বদলাবে না, তুমি জানো আমার আঘাতের কথা,
চাঁদের আলো লুটিয়ে পড়লেই আমি সরে যাবো তবে তুমি মনে রেখো আমি যতই ক্ষমতা সাজি তোমার নাম কিন্তু ভারতবর্ষ।
আমার অভিশাপের আলো আমায় হয়ত বাঁচিয়ে রাখবে আরও কয়েকটা দিন, আমি তোমায় কিছুই ফেরত দিতে পারবো না, আমি শুধু কেঁপে উঠি গ্লানিতে, তুমি জেগে ওঠো গঙ্গা-আরতিতে, বৈরাগী দিঘিতে ভিড় অসংখ্য মানুষের, তোমার আকাশে পুবের সাইরেন তুমিই একলা নদী, তুমিই তখন সাধারণের ভারতবর্ষ।
ঘাতকের কবিতা
হায় রে ভালবাসা তোমার এত কীসের গর্ব?
সূর্যের মিথ্যে অহংকারের জালে শেষে তুমিও ধরা দিলে? যতটা তেজ ভাবো সূর্যের ততটা তেজ আসলে নেই, যতটা প্রেমকে শক্তিশালী মনে করো ততটা শক্তিশালী সে নয়, যদি হত তবে সবাই পুড়ে যেতাম আর হতভাগ্য মৃত্যু এসে দাঁড়িয়ে থাকতো উঠোনে।
যে উঠোনে পাওনাদাররা এসে অপমান করে যায় বাবাকে, মায়ের গয়না নিয়ে কথা বলে, সেই উঠোনেই সূর্যকে অভিশাপ দেয় সন্তান, রাত হলে বেরিয়ে পড়ে হাতে সাদা রুমাল বেঁধে।
সেই রুমালের কাছে ধরা দেয় পুরুষ নারী উভয়েই,
তাঁর কাছে সমকাম বলে কিছু নেই, দিনের শেষে সে নিজেকে পণ্য করে বিলিয়ে দেয় শহরের শীতল রক্তে।
রক্ত বলতে মনে পড়লো, মশার কাছেও আমরা হেরে বসে আছি, সে আমাদের রক্ত চুষে নিজেকে বিশাল কিছু ভাবছে, অথচ তার কাছেই প্রথম বিক্রি হয় নিজেদের শরীর।
নিষ্পাপের রক্তে দোষী হতে পারে সামাজিক রাজত্ব
তবুও নিজেদের আজও প্রজা ভাবতে ভালবাসে কিছু মানুষ, মানুষ বলতে মনে পড়ল মানুষ আসলে মানুষের চাকর।
সম্প্রসারণ সহ্য করে নিজেকে শক্ত করার পরেও কিছুটা নরম অংশ পড়ে থাকে, সেই অংশে মাছি বসে, গুনগুন করে, সংক্ষিপ্ত মৃত্যু পেরিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি আবার ঘুম থেকে উঠে নির্দোষ মৃত্যুকে মেরে ফেলি, ঘুমন্তের গুহায় এইটুকুই সকাল, সেই সকালে বুকের দীঘি ফুলেফেঁপে ওঠে পুরনো চোখের জলে।
চকমকি পাথর
তোমার সিঁথিতে দেখা আগামীকাল,
সামাজিক তল্লাশির পরেও উদ্ধার হয়নি কিছু,
গ্রীবা থেকে কটিদেশ পর্যন্ত শুধু অবসাদ গ্রাস করে রেখেছে তোমায়।
কিন্তু দেখো তুমি না এলে আমার তো বাঁচার কথা না,
অথচ কেমন দিব্যি বেঁচে আছি, রাত্রিকালীন কুকুরের মতন পাড়া ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে লুটিয়ে পড়ছি।
কৃষ্ণ রক্ত তোমার অখণ্ড শরীরে,
তোমার জিহ্বার নিচে নৌকা বাঁধা,
পর্দা ফেলে দাও নৌকার, একটু কাছাকাছি বসি
যদিও তাতে দুজনের ক্ষতি, চাকার নিচে পাক খাই আর শরীর চিমনি থেকে বের করে দিই ধোঁয়া।
একটা ডিম ভাজার গন্ধ আর সরাইখানা,
সমাধিতে এখানে মদ ঢেলে দেওয়া হয়, শাস্তি স্বরূপ কফি, চলো দুই পেয়ালা তিতো কফি গিলে রস বোদ্ধাদের মাঝে বমি করে ভাসিয়ে দিই সামাজিক ভণ্ডামো।
আরেকবার মনে করিয়ে দিই, শরীর আসলে চকমকি পাথর, নগ্ন শরীরে রং মেখে কাস্তের আঘাত বড় অশ্লীল আর এর দায়ে পেরেক গিলে উল্লাসে মাতি নাবিক দলের সঙ্গে।
শহরের ব্ল্যাক হোল
প্রেম ছুঁয়ে দেখে রাত্রি স্বমেহন,
সিক লিভ-এর আবেদন গৃহীত নয়,
উল্টো জামায় কোনও মতে ঢেকে রাখা ক্ষত।
ঘামে ভিজে মোজা আর বুট জোড়া,
অসামাজিক গন্ধ গ্রাস করেছে বাড়ির পথ,
ভ্রাম্যমান ছায়াকে আজ দিলাম ফাঁসি, মৌনতা আর যৌনতা তখন খেলা করে শহরের ব্ল্যাক হোল-এ।
ফাঁসিতে ঝোলার আগে
কবিতাকে ধর্ম বানিয়েছি,
সমস্ত অশ্লীলতা ত্যাগ করেছি তবু আমার গ্রহদোষ কাটেনি।
দিনান্তে যখন আমার অবসর ফুরিয়ে আসে,
উর্বর মাটি খুঁজি বৃক্ষরোপণ করবো বলে,
একদল আমায় লোভ দেখায় চাঁদের মাটির,
আবার একদল উস্কে দেয় আমার উলঙ্গ জীবন।

No comments:
Post a Comment