Sunday, October 11, 2026

গুচ্ছ কবিতা : সূচনা ঘোষ

 



নিষিদ্ধ যাতায়াত 


তুমি তো সব জানো—

তোমার স্নানঘরে আমার চেনা উপদ্রব,

ঘরের অসাড় কোণ।

কিন্তু সে ঘরে তুমি কোথায়?

পালানোর ভান করা তোমার অনভ্যাস।


তুমি তো সব জানো—

তোমার ভেতর আমার চেনা উপদ্রব,

শরীর জুড়ে বিরামহীন তালাশ।

এ যাতায়াতে নিষেধ কাদের?

এ নিষেধ মানব কেন?


আমি ক্রমে ক্ষয়ে যাব,

তবু রোজ তোমার ভেতর যাব।

মানব না কোনো পাবন্দি

অথবা খাদ্যশৃঙ্খল।




আসা-যাওয়ার মাঝে 


ইদানীং রোজ তোমায় দেখি।

অথচ তোমায় দেখিনি কয়েক লক্ষ বছর

আর কী দেখি? 

আর দেখি কৃত্রিম রোদ, সরীসৃপের মৃত্যু 

মহামারি, রক্তপাত, স্লিপিং পিল

হ্যালুসিনেটেড কফিন।


ঠিক কতবার তোমায় দেখি

তার হিসেব রাখিনা। 

যেভাবে হিসেব রাখিনা 

দশমিকের পরের শূন্যগুলোর,

বা কবিতার বইয়ের পাতার সংখ্যার। 

কিন্তু তুমি কি এই দুর্যোগের কথা জানো?


ওইযে ফকিরটা রোজ খোদাকে ডাকে,

খোদার কি তাতে কিছু আসে যায়?




ইলেক্ট্রা


কার্ফিউ শেষ

এবারে তুমি মানচিত্র ভুলতে শুরু করো

মানচিত্র খুঁজতে শুরু করবে উদ্বাস্তু এক একটা শরীর

আমার সারা শরীর ভাগাড় বনে গেছে।

এসো, নরম কার্তুজে শরীর মেপে দেখি,

মেপে দেখি আমাদের রক্ত চলাচল। (১)


কেমন হবে 

শারীরবৃত্তীয়ভাবে আমাদের না-থাকা?

না, অস্তিত্বে ভুগবে,

বারুদবর্ষণের প্রমাণ পাবে

আর রেখে যাব দেশভাগের দলিল।

ঘিলু হারিয়ে যাবে আমার,

ক্রিপ্টিক রেকর্ডে তুমি থাকবেই

অনিকেত প্রান্তর লাপতা হয়নি। (২)


মাথার ভেতর আট-দেওয়ালের মর্গ। 

এই মর্গে মৃতরা জন্মায়। 

তুমিও জন্মাও রোজ, 

মর্গের ভেতর, ঘিলুর ভেতর। 

কে আটকাবে আমাদের জন্মানো? 

কে করবে আমাদের পোস্টমর্টেম? (৩)


মর্গের বাইরে শোক জন্মেছিল,

আর চাপা পড়েছিল যুদ্ধের আবিষ্কার।

তুমি তো সন্ত্রাস, স্নায়ুর ভেতর,

দাফন করো যিশুর চিৎকার।

অ্যানাটমি ভেবে দেখো,

আর ভেঙে দাও, ভেঙে দাও

এইসব কবিতা,

আমার জড়তা। (৪)


সকল আলোর অতীত তোমার পরমাণু

এইসব যুদ্ধ বা কবিতার চেয়ে নির্মম।

শুধু যীশুর চামড়ায় বিঁধে ক্রুশ

খুঁজে বেড়ালো কাঁটাতার।

ঝাঁঝরা হলো সব খিদের ছাপ।

যীশু আসলে ক্রুসেড দেখেনি। (৫)


ওপাশ ফিরলেই ধর্মযুদ্ধ।

জানি না কোন মিথে ফাঁসি দিয়েছিল

দু-একটা সুইসাইড।

ক্রুসেড ফেলে জেরুজালেম ফেরে জালেমের কান্না,

আর আমার পরে থাকে চারটে বুলেট, দুটো লাশ

আর শিরায় পোষা ঈশ্বরের প্রাণ। 

কাফের, আমার পাঁজর খুঁড়ে দ্যাখো

দেখবে তোমার অ্যানার্কি যত। (৬)


বাবা, তোমার ঘুম হয়?

তোমার স্বপ্নে পরকীয়া আসে?

আমি স্পষ্ট দেখেছি,

সিলিংয়ে ঝুলে তুমি হাসছ।

তোমাকে আমি ওর মতো বিছানায় খুঁজি।

বাবা, তুমি ইলেক্ট্রা জানো? (৭)


কাফের, তুমি বাবার মতো অদেখা দিও না।

কাফের, তুমি আমার প্রার্থনা জানো।

কাফের, তুমি কি ইবলিশকে চেনো?

ক্রুসেড, মর্গ, ঘিলু–হোলি ট্রিনিটিতে তুমি থাকবে না।

অনিকেত প্রান্তরে মিলিয়ে যাও।

আমার কোনো গুনাহ্ দেখো না

খোদার কাছে আমার যা অপরাধ,

ইবলিশ তার সবটুকু জানে। (৮)

No comments:

Post a Comment

গুচ্ছ কবিতা : সূচনা ঘোষ

  নিষিদ্ধ যাতায়াত  তুমি তো সব জানো— তোমার স্নানঘরে আমার চেনা উপদ্রব, ঘরের অসাড় কোণ। কিন্তু সে ঘরে তুমি কোথায়? পালানোর ভান করা তোমার অনভ্য...