Tuesday, November 3, 2026

গুচ্ছ কবিতা : অর্ঘ্যজ্যোতি দত্ত

 





কুন্তী চতুর্দশপদী


একশোখানা মিথুনরাশি, নতুন দেবভাষা

যাদবরাজা শিকারে যান, বনে আগুন জ্বলে

কী মোক্ষে আজ রাজার ঘরে এসেছে দুর্বাসা

মহাভারত নিষিদ্ধ হয় পতিত অঞ্চলে


দেবতাদের নাচাও এমন নাভি দিলাম তোমায়

দুধের মতো বীর্য হবে, জলের মতো ক্রিয়া

সমস্ত উচ্ছিষ্ট মিশে গিয়েছে নর্দমায় 

সমুদ্রমন্থনের বিষে ভরলো অ্যাকোরিয়াম


ছেলেরা যায়, যুদ্ধ করে, আরণ্য রাত জাগে

মারণ রোগের শুশ্রূষাতে কেউ বাঁচে না মাগো

একটি ঘাটে জল খেয়ে যায় গরুতে আর বাঘে

দেহের অধিনায়ক হল ঈশ্বরীয় নাগর


কোথায় গেল পঞ্চ ম-কার? কে নিল তার ঠিকে? 

শ্মশানঘাটে যাচ্ছে দেখা রাজার মহিষীকে। 





দ্রৌপদী চতুর্দশপদী 


আগুন থেকে উঠে আসুন, আগুনে যান ফিরে

উলঙ্গ হোন জড়ির খাটে রজঃস্বলা দেবী

মরার আগে গিলছে কারা বিষাক্ত দইচিঁড়ে? 

মহাভারত জানান দিল কে কাপুরুষ! কে বীর! 


নতুন কোনো কাঞ্জিভরম, নতুন দ্যূতক্রীড়া

দিশি মদের সঙ্গে দুটো কলমকারি মিথ

লড়াই করো কেষ্টঠাকুর, বাতাস ঢালো শিরায়

পাতালরেলে উঠবে বেজে রবীন্দ্র সঙ্গীত। 


দূরের দেশে গা ঢাকা দিই, দু’হাতে সৎকার

যুদ্ধে যাব কী করে বোন? ধরব তরবারি? 

যে ঘরপোড়া যুগপুরুষ বৌকে বলে রাঁড়—

তার গলাতেই ফাঁস পরাবে যাজ্ঞসেনীর শাড়ি। 


নিরন্ন এই জুয়োই আমার বাড়িয়ে দিল লোভ

রক্ষে করো, রক্ষে করো— তৃতীয় পাণ্ডব! 





রাধেয় চতুর্দশপদী 


অনেকগুলি যুদ্ধগান সাঙ্গ করে দরবারিতে মন

আহ্নিকের অন্ধকার ছড়িয়ে পড়ে রজনীগন্ধায়

পৃথিবীর এ কুমারীত্বে ঘনিয়ে আসে আদিত্যগ্রহণ

রক্ষিতার সন্তানেরা প্রতি রাত্রে সিংহ হয়ে যায়। 


ফিরিয়ে দেয়া বটপাকুড়, গঞ্জ থেকে ইস্টেশন, আর—

একটি গর্ভ কাটিয়ে দেয়া মন্দাকিনী আরোগ্যবিলাস

আমরা শালা প্রত্যেকেই মাংস খাওয়া ত্রস্ত জানোয়ার

কেউ তো থাকে সুপারম্যান, জীবনমুখী বিক্রমের দাস। 


দেখি সাহস কত তোমার, বড়োভাইয়ের বর্মে রাখো চোখ

ব্যক্তিগত অস্ত্র নিয়ে নামবে মাঠে, অস্ত্র খাবে ঘুণ

রাজমহিষী দাঁড়িয়ে কত দুঃখ করেন; নিভৃতদর্শক

তুমি যখন উলঙ্গ হও, তোমারটি তো দাঁড়ায় না অর্জুন! 


ঠাকুরদাদা দেখেছিলেন ম্যাজিক গাড়ি, পদাতিকের সাজ

জীবন্মৃত পুরাণ ; যেন বিফল হওয়া বুদ্ধ ভটচায্। 





জরাসন্ধ চতুর্দশপদী


শিশু হামাগুড়ি দিয়ে সরোবরে যায়

মরণ-নূপুর পরে বেঁচে থাকে নটী

অশালীন দেবতারা পাজামা ভেজায়

জানু পেতে বসে সুখী রাজপুত্রটি


মল্লে নতুন করে পরাজয় আসে

কেশব দর্পহারী মুড়োয় না মাথা

সৃষ্টি স্থিতি আর সমূহ বিনাশে

দু’ঠ্যাং ঝুলিয়ে রাখে পঙ্গু বিধাতা


আমাকে হত্যা করো হে জন্মভূমি

মরদেহ নিয়ে কারা উচাটন করে? 

শ্রীচরণকমলেষু ভীমসেন তুমি

আচমকা পরিণত হলে ঈশ্বরে


স্বর্গনরক নয়, একশোটা মল্লযুদ্ধ দাও

জরাসন্ধের চিতা এই দেশে জ্বলেনি কোথাও। 





কাদম্বরী চতুর্দশপদী


দালানে অদৃশ্য ঘর, দরজায় তালা

ভিতরে আত্মঘাতী বধূ শুয়ে থাকে

জ্যোতি দাদা ভেঙে ফেলে নতুন বেহালা

দাসীরা বাতাস করে গৃহদেবতাকে


ধানক্ষেতে দেখা গেল পৌষের ছবি

বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল কোথা? 

আফিমের বীজে ফোটে রক্তকরবী

মৃত্যু আসলে এক যৌনক্ষমতা


তুমিও কবিতা লেখো ওঁর মতো করে

বড়ো হও, এ জগৎ তোমারই তো লীলা

আমি কদ্দিন থাকি শুকনো কাপড়ে! 

একরাতে ডেকে নিয়ে যাবে উর্মিলা


বড়ো হও ঢ্যাঙা ছেলে, আরো বড়ো হয়ে ওঠো, মিতা—

প্রতিনিয়তই আমি পড়ে যাব তোমার কবিতা। 

No comments:

Post a Comment

গুচ্ছ কবিতা : অর্ঘ্যজ্যোতি দত্ত

  কুন্তী চতুর্দশপদী একশোখানা মিথুনরাশি, নতুন দেবভাষা যাদবরাজা শিকারে যান, বনে আগুন জ্বলে কী মোক্ষে আজ রাজার ঘরে এসেছে দুর্বাসা মহাভারত নিষিদ...