জুলাই জাতক
৬
ভোর রাতে বাবা উঠে পড়েন
যেন অন্ধকারের গর্ভে
ভোর এক কাঙ্ক্ষিত সন্তান
ঘর ও দোকান, দোকানের ঘর...
ধীরে ধীরে ঝাঁপি খোলা হয়
কাক ডাকে, দলে দলে কাক আসে
যদিও বিলুপ্ত প্রায়
গায়ে গায়ে ঘেঁষে কুকুরও সহচরী হয়
মুড়ি ছেটালে নাকি অভাবও মুখ লুকায়
সুচারু আলো ফোটে
ফোটে চা ও জল
বলকে বলকে লেখা হয়,
"ঔঁ গণেশায় নম:"
৭
ঠিক ৬:১০- এ ঘুম ভাঙে
কী আশ্চর্য সময়যান
একটুও হেরফের নয়
আমাকে বলে কিনা,
"টিউশনে যাওয়া কি অত সহজ ভায়া !
কুয়াশা গায়ে মেখে নিতে হয়"
জানো তো, প্যাডেলের অসীম শক্তি
পৌঁছে দেবে ঠিকঠাক ঠিকানায়
আমিও কী বেকুব দেখো,
আজও হেঁটে চলেছি, হেঁটেই চলেছি...
শুধু চটি ছিঁড়ে যায়
৮
আচ্ছা সব পতনের কি শব্দ হয়?
টুপ করে তারা খসে পড়লে
পৃথিবী উল্টোপথে ঘোরে
জগতের এই ব্যাপারটাই গোলমেলে
ডিগ্রি নয়, সচ্ছলতা নয়, উচ্ছ্বাস নয়
মানুষ চিৎকার গিলে ফেলে সহজেই
বিবমিষা জাগে
একটা সর্বংসহা পেট থেকে
কুড়িটা বসন্ত প্রসব করে
৯
কোথায় হারিয়ে যায় বন্ধুরা
স্নায়ু ও হৃদয়ের মধ্যিখানে
একটা মাঠ ও সরু আলপথ জেগে থাকে রাতদিন
হেঁটে গেলে চোরকাঁটা বিঁধে
ছোট ছোট দিনগুলো বড় হয়
নয়ন আর রাজেশ আসে
পেছনে ছায়া ও রোদ্দুর
দুলালের দিঘি হেসে ওঠে
জলও তো অভিমান জানে
ডাকে ইশারায়
বলে, "প্রতীক্ষায় থেকে থেকে শুকিয়ে গেলে
আর কবে বড় হবি তোরা"
আমি কানে চাপা দিই
ঘরে ফিরে বন্ধ করি দরজা
১০
বাজারের ব্যাগ হস্তান্তর হলে
আমার হাতেখড়ি হয়
কী থাকে থলেতে?
জড়ো করা ঐকতান আর লবণের স্বাদ
বাবা জানে লেনদেন, বাটখারা, ওজন
স্বপ্ন কি মাপা যায় দাঁড়িপাল্লায়?
মা ভূগোলের অধ্যায় জানে না
জানে আহ্নিক গতি
আমাদের শপথেরা গেয়ে ওঠে কোরাসের মতো
আমরাই শ্রোতা, আমরাই হাততালি দিই

No comments:
Post a Comment