১
সন্ত্রাস
উদ্বাস্তু বিকেলের কথা তারাই বোঝে
যারা সেই বিকেলের দিকে
হেঁটেছে কখনো
তুমি দেশলাই জ্বেলে দেখে নিতে চাও
অথচ মানো না
দেশলাই আসলে একটা অন্ধকার
যা আলোকে আরো কিছুটা অন্ধপথে টানে
জড়িয়ে ধরতে গেলেই
জিভ থেকে জিভ
অসহ্য যাতায়াত
প্রতিটা অবৈধ ইচ্ছে এরপর জেনে যায়
কীভাবে সঙ্গম হয়ে ওঠে
গোপন সন্ত্রাস
২
একদিন নড়বড়ে সেতুটা ভেঙে পড়বে
কোনো সবুজই ভুলিয়ে দিতে পারবে না
নাগরিকতার লোভ
কথারা প্রশ্রয় পেয়ে চলে যাবে সেদিকেই
আর এভাবেই আমাদের ফাঁক-ফোকরগুলো
ভরিয়ে তুলবে শূন্যতা
আমরা হারিয়ে যেতে যেতে ভাববো
না হারানোই ছিল ভালো
তারপর হারিয়ে যাবো অমোঘ বিন্দুর দিকে
রক্তের প্রবল উস্কানিতে
তুমি নয় আমি নয়
জিতে যাবে অবিনাশী ভ্রম
৩
যুদ্ধ
চাঁদের গায়ে হেঁটে যাচ্ছে স্পষ্ট পিঁপড়ের দল
বড় অসময়ে ইচ্ছেগুলো জাগে
ভেঙে যেতে যেতে ঘরের ভিতর
আমলকী ছায়া কেঁপে ওঠে
সব পরীক্ষা জিতে যাওয়া ভালো দেখায় না
কিছু কিছু মর্মান্তিক পীড়া
মরতে মরতেও মরে না
আসলে যুদ্ধ বিরোধী মন
একবার যুদ্ধে ঢুকে পড়লে বোঝে না কিছুই
৪
সৌন্দর্য
সন্দেহ করে তোমরা পরস্পরের নাম রেখেছ অবিশ্বাস
জীবনকে বয়ে বেড়ানোর নামে তৈরি করেছ
পাথরের ঢেউ
নিজেরই ঘরের ভিতর আত্মদীর্ণ কবরের মাটি
এক অতিজন্মের শির-উল-বয়ান
পথ ছাড়ো
সরে দাঁড়াও বৃদ্ধ মৃতের দল
আমরা অগ্রাহ্য করছি তোমাদের
নিভিয়ে দিচ্ছি লক্ষ বছরের পচা সূর্যটাকে
তোমাদের শোকাচ্ছন্ন স্রোত
পাতাল-পৃথিবীর সাথে কয়েক যুগ হেঁটে এসে
আমরা জোর দিয়েই বলতে শিখেছি
যন্ত্রণাই সৌন্দর্যের মাতৃস্বরূপা হোক
৫
জলের সন্তান
কাছাকাছি আসার জন্য
যতটুকু প্রয়োজন
ততটুকু কাছে আসতেই হবে
এখানে দরজা খুললে মেঘ
এখানে জানলা খুললে মেঘ
দরজা আর জানলার মাঝে
নিষিদ্ধ মেঘলা আবেগ
ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ছে শরীর
মুছিয়ে দিচ্ছে পানকৌড়ির নরম চিবুক
নতুন করে জন্ম নিচ্ছে জলের সন্তান
জন্ম নিচ্ছে সুতোর উষ্ণ মুখ

দারুণ দারুণ।
ReplyDeleteবড়ো পরিণত কবিতাগুচ্ছ।
সংগ্রহে রাখলাম
সু ন দ র ... ঈশ্বরীয় প্রকাশ।
ReplyDelete