নদীর কাছে
নদীর প্রেমিক তুমি—
শামুকের খোলসে ঘুমিয়ে থাকা
একটি প্রাচীন বিকেল,
স্রোতের নিচে কাঁপে
অদৃশ্য কোনো ঘণ্টাধ্বনি।
তুমি জলের ভাষা জানো,
তবু জাল এলেই
হঠাৎ ভুলে যাও সাঁতারের সমস্ত ব্যাকরণ;
নিয়তি তখন
নীরব জেলের মতো
ধীরে ধীরে গুটিয়ে আনে রাত।
ঢেউয়ের ভিতর তোমার ছায়া—
একবার মুক্ত, একবার বন্দি,
আর দূরে নদী
নিজেরই অন্ধকারে
তোমাকে চিনতে পারে না।
কমিউনিস্টদের নীরবতা
সকালে খালের ধারে
বৃদ্ধ রিকশাওয়ালার লাশ পড়ে ছিল,
দুপুরে পার্টি অফিসে
শ্রমিকের অধিকারের বক্তৃতা।
মাইকে তখন বিপ্লব,
পাশের মাঠে লটারির মেলা,
আর প্যান্ডেলের আড়ালে
নেতার জন্য চা ও বিস্কুট।
দু-মিনিট নীরবতা—
তারপর হাততালি,
লাল পতাকার নিচে
আবার শুরু হল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এই আমাদের মফস্বল—
এখানে ক্ষুধারও মঞ্চ আছে,
মৃত্যুরও নির্দিষ্ট সময়,
আর বিপ্লবের পরে
সবচেয়ে জরুরি—
চেয়ারগুলো ঠিক জায়গায় রাখা।
দেহের স্মৃতি
তোমার চলে যাওয়ার পর
বিছানায় পড়ে ছিল শুধু
একটু উষ্ণতা—
যেন শরীর তার শেষ ভাষাটুকু
বলে যেতে ভুলে গেছে।
রাত গভীর হলে
তোমার মুখ নয়,
তোমার কাছে থাকার
অন্ধকারটুকু ফিরে আসে।
আমি চোখ বন্ধ করি—
দূরের কোনো মন্দিরে
পাথরের নারী যেমন
শতাব্দীর নীরবতায় অপেক্ষা করে,
তেমনই আমার ভিতর
একটি অসমাপ্ত স্পর্শ
জেগে থাকে।
তুমি নেই—
তবু তোমার অনুপস্থিতিই
আমার সবচেয়ে দীর্ঘ
শরীরস্মৃতি।
আইরংমারা
আইরংমারার পথে সন্ধে নামে,
সবুজের গায়ে লেগে থাকে
বিশ্ববিদ্যালয়-ফেরত মেয়েদের হাসি।
কেউ বই বুকে হাঁটে,
কেউ পাশাপাশি—
কথার চেয়ে চোখে বেশি কথা,
নীরবতারও নিজস্ব ব্যাকরণ।
চায়ের দোকানে জমে ওঠে রাত,
অসমাপ্ত নোট, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা,
আর দুটো হাতের মাঝখানে
অকারণে থেকে যায়
একটি উষ্ণ বিকেল।
চারদিকে গাছ,
দূরে পাহাড়ের নীল রেখা—
তাদের ছোট ছোট প্রেম
সবুজের ভিতর দিয়ে
ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে।
কেউ চলে যাবে দূর শহরে,
কেউ ফিরে আসবে আবার—
আইরংমারা শুধু মনে রাখবে
কয়েকটি তরুণ মুখ,
কিছু অসমাপ্ত স্বপ্ন
আর পাশাপাশি হেঁটে যাওয়া
দুটি ছায়ার গল্প।

No comments:
Post a Comment