নির্বিরোধ...
যুদ্ধ একটা খিদের নাম।
এই নৈরাজ্য, সন্ত্রাস, রাষ্ট্রবিপ্লব,
থালা হাতে চৌকাঠে দাঁড়িয়ে আছে।
উঠোনে উঠোনে রক্তভোজ, নখ, দাঁত, বাটি
আমরা শান্তিকামী, চিরপ্রসন্ন, কবিতায় কুলুপ আঁটি।
খুব নিশ্চিন্তে আছি, মানে মানে এবারের যুদ্ধ শেষ হলে
আমাদের অকেজো মেরুদণ্ডে জাতীয় পতাকা উড়বে।
অকিঞ্চন...
মহাজনী খাতায় বাঁধা রাখি সাধের ঘরবাড়ি
অভাবে-স্বভাবে চাল বাড়ন্ত, শাকভাত, তরকারি।
ছেলে বড়ো হবে, ছেলে বড়ো হয়,
তিল তিল বুক বাঁধি, পাঁজরে ক্ষয়।
চড়ুইচোখ আকাশ চায় দ্বিঘাত বৈভবে
একদিন ঠিক হবে, সব একদিন ঠিক হবে।
খেলনাপাতি সাজিয়ে রাখি অক্ষমের দল,
আমরা দরিদ্র-দুর্বল।
অপ্রেম...
যে জল অশ্রু, তার নাম শুনেছি জীবন।
অন্নে অনন্ত আকাল, অয়ি! শূন্য প্রণাম দিলাম।
তোমায় ভালোবেসে জানি, জীবন বড়ো ছোটো,
তবুও উন্মাদ আমি মৃত্যু বেছে নিলাম!
বীতশোক...
তোমার হাসির পাশে লম্বা বারান্দা মনে পড়ে।
আমরা হেঁটে যাবো জ্যোৎস্নার খুব কাছাকাছি।
বাদবাকি সব মিথ্যে, হয়তো সত্যি গিয়েছি ভুলে
অথবা হৃদি অকুল ভেসেছে জাহ্নবী ঘোলাজলে।
অলিন্দ চিরপ্রস্থান আঁকে, বুকে চিত্রিত শোক
এদিক ওদিক পলায়নপথ, নির্বাণ-নির্মোক।
হারিয়ে যাওয়াই সহজ যখন, এমন বেবাক আমি
জ্যোৎস্নাসুখে কলিজা পোড়াই, অন্ধ মোহে থামি!
ফেরার আর পথ নেই, আয়ু নেই
আমাদের পদরেখা যা কিছু সব মলিন হয়েছে
প্রিয়তমাষু...
তুমি সুন্দর নও, যতটা ফুল
তবু তুমি হাসলেই অসময়ে বসন্ত আসে।
পাঁজরে পলাশমধু, মিশে যাই আমোদ উল্লাসে।
ব্রহ্মাণ্ডে, অনাত্ম সংসারে,
ওই আঁখিতে আমি অনন্ত শান্তির শয্যা পেতেছি।
বলো, আমার পৃথিবী কি এমন ফুলে ফুলে ভরেছে কখনো?

No comments:
Post a Comment