Monday, September 7, 2026

গুচ্ছ কবিতা : মিঠুন চক্রবর্তী

 



আবার বৃষ্টি নামুক 


কৃষ্ণরঙের মায়াডিঙি, তোমরা বললে মেঘ 

আষাঢ় মাসের কদম বনে বাজাও বাঁশি কে?  

প্রেম-বিরহ কবেই তো শেষ,যক্ষ কাজে ব্যস্ত 

এক বিছানার কক্ষপথে দুই পৃথিবী স্পষ্ট 


মনের খবর কে পাঠাবে ? জানতেও চাইছে কে?  

মাঝখানে এক বরফ পাহাড় দাঁড়িয়ে রয়েছে।  

হাঁড়িতে চাল কাটছে পোকায়। ধ্যাৎ! চাল কোথায় পাবে?  

রাত্রি জুড়ে বুকের ভেতর মজ্জা মাংস খাবে....   


তবু বর্ষা রেইনকোটে কি সত্যি ঢাকা যায়?  

নীলচে রঙের কফির মগে উষ্ণতা চমকায়....  

জল থই থই অঝোর ধারায় মেঘ ছুঁড়েছে বান,  

বিরহ না সইলে কী আর বুঝতে পারো টান ?   


হুড়মুড়িয়ে বৃষ্টি নামুক চোখ থেকে গাল বেয়ে, 

মরা নদী ভাসুক আবার নতুন ধারা পেয়ে.... 





মাঝখানে আমরা খুব কাছে এসেছিলাম


যতদিন তোমাকে দূর থেকে দেখেছি 

ততদিন এক খণ্ড আষাঢ়ের মেঘ

তীর্থের কাকের মতো

এসে বসে থাকত উঠোনের ন্যাড়া ডালটিতে।


তখন সারাদিন আমার উষ্ণ বুকের ভেতর জুড়ে  

                                                 টুপ্... টুপ্... টুপ্...

যখন তোমাকে দূর থেকে চেয়েছি,

একটি সোনালি তারা 

আমার বুকের বোতামে জরির সুতো দিয়ে আটকানো থাকত


আর সেই বোতাম খুললেই তখন কামিনী রঙের জ্যোৎস্নাপাত.... 


এখনও আমরা দূরে থাকি। 

পৃথিবীতে নিয়মমাফিক বর্ষা আসে, আকাশে চাঁদ ওঠে....

নক্ষত্রগুলো নিজেরই বুকের বীভৎস আগুনে জ্বলে পুড়ে

ব্লাকহোলের দিকে এগিয়ে যায়

আগের মতোই আমরা দূরে আছি, কিংবা আগের মতো নয়


মাঝখানে আমরা খুব কাছে এসেছিলাম.....





যায় না ফেরা


টানা বৃষ্টি অসময়ে, ভালো লাগে ?

                                                   কক্ষনো না, বিশ্রী ! 


তেমন করে সেই যে তোমার ভোর বেলাকার রাঙা আলো

রান্নাঘরের ব্যস্ত বেলায় ফেরে যদি ? 

জানলা খোলা, নাছোড় ফেরিওলার মতো ডাকে...


'নেওয়ার কিছু নেই যে আমার...' বলেই তাকে ফেরাবে নাকি ? 


কিন্তু ধরো, তবুও যদি ডাকতে থাকে এক নাগাড়ে...

ভাসবে নাকি?  সেই কবেকার কাগজ নৌকা ভাসতো যেমন


যায় না ফেরা... যায় না ফেরা... বলেই জানলা বন্ধ হল

ভীষণ চেনা গন্ধ নিয়ে অনেক দূরের একটা মানুষ 

                                                          দিগ্বলয়ে হায়িয়ে গেল…





যদি চাও


বুকের খাঁজে মেঘ লুকানো। তুমি চাইলেই 

বৃষ্টি মুখর দিন হতে পারতো

এই তল্লাটে বর্ষা আসেনি কতকাল। 

শেষ বৃষ্টি দেখেছিলাম আমাদের গাঁয়ের ধানের ক্ষেতে

ধান রুইতে থাকা দম্পতির আধ-খোলা নিটোল শরীরে


এখন অগ্নিদগ্ধ দিন শেষে বাড়ি ফিরি

বুকে পালিশ করা শুকনো কাঠের চকচকে চাঁদ

ইলেক্ট্রিক পোলে লটকে থাকা ছেঁড়া ঘুড়ির নিচে ঘুমন্ত শহর

তোমার জন্য কিছুই নেই, বুকের খাঁজে লুকানো একখন্ড মেঘ ছাড়া


তুমি একবার চাও। একবার চেয়ে দেখো...

এই রেললাইনের শহর ভাসিয়ে আজও তুমুল বৃষ্টি হতে পারি  





ধুলোধরা ডাকনাম ধরে যে ডেকেছে, তাকে


বাইরে ভীষণ বৃষ্টি এল শ্রাবণ সন্ধ্যায়

অগোছালো যেমন ছিলাম, ডাক শুনলাম আয়...

কে ডেকেছে ! যাবই চলে শুনব না আর মানা

হাতছানি দেয় হারানো সব জলফড়িং-এর ডানা


ওকে ডাকতাম সুবর্ণগাছ,উড়নচণ্ডী হাওয়া

রঙিন ছাতার নিচে প্রথম উষ্ণ আগুন ছোঁয়া। 

ওম পেয়ে মোম বুকে তখন বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস 

ডুবতে পারি, আবার যদি তেমন করে চাস


স্মৃতির পাড়া ভিজল আবার তুমুল বারিধারায়,

মন তো আজও আস্কারা পায় মেঘের ইশারায়। 

ধুলো পড়া ডাকনামে কেউ চুমুর রুমাল টেনে

হাত ধরে ফের হাঁটতে হাঁটতে ব্যাগ ভরা মেঘ কেনে


শুধুই কি মেঘ? মেঘের ভেতর জোনাক জ্বলা নদী,

নদীর স্রোতে উজান পানে সাঁতার কাটি যদি

মৎস অবতারের আঁশে পুরানগাথা জীবন 

রাধা হয়ে রমণ করো, সময় নিধুবন

2 comments:

  1. খুব ভালো লাগলো। প্রতিটি কবিতাই হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

    ReplyDelete

গুচ্ছ কবিতা : সূচনা ঘোষ

  নিষিদ্ধ যাতায়াত  তুমি তো সব জানো— তোমার স্নানঘরে আমার চেনা উপদ্রব, ঘরের অসাড় কোণ। কিন্তু সে ঘরে তুমি কোথায়? পালানোর ভান করা তোমার অনভ্য...