Tuesday, September 1, 2026

গুচ্ছ কবিতা : শব্দ সুমিত




রোদে এসো জবাফুল


ক্ষীণ যাপন ইচ্ছে। স্বল্প আয়ুষ্কাল। চল্লিশ অনতিক্রান্ত পুরুষ। 

ঝুলে গেছে কাল। এ কোন নিয়তিস্নান! গঙ্গা বহুদূর। 


টাঙানো দড়িতে হাঁটে ভূত আর প্রেত। 

কর্কশ জ্যোৎস্নায় কাঁদেন ঈশ্বর। 

ঘুরে যায় পশুপতির পিনাকের মুখ। 


ঘনায় আঁধার। খই ধান ভিজে যায় শোকের জলে। 

যাবে না শ্মশান। যক্ষিণী কেড়ে নেয় সোনা। 

মাকড়ি ও রুলি। হলুদ হারানো গাল। 


পূর্ণচ্ছেদ। যবনিকা নামে। 

ধূপকাঠির ধোঁয়া টানে স্বর্গরথ। 

স্ত্রীগাল ভিজে যায় হরি গানে-গানে। 


এসো জবাফুল। লালটুকু ছুঁয়ে দাও রৌদ্রকিরণে।




 

তরমুজ বনের রূপকথা


জল থেকে তোলা হল রৌদ্রভেজা পুরুষ

সমস্ত আর্তি দ্রবীভূত হয়ে গেছে স্রোতের লবণে

জলদগ্ধ পাঁজরে লেগে মাছের রৌপ্য নিঃশ্বাস

তরমুজ বনের রূপকথা।


এই সৌন্দর্যবোধ

প্রবল সাঁতারে পেরিয়ে গেছে মৃত্যুসীমা

 

নশ্বর শরীর ছেড়ে শালগ্রাম শিলা

ওষধির বাগান আর কবরভূমির মাঝ বরাবর 

অর্ধশায়িত নারায়ণ যেন জলবিষুব রেখা


দ্বিধাহীন ঝরে পড়ে পুরুষ তালফুল

ঐকান্তিক শরীরের প্রেমে।





জাফরির আলো


এ-সব কিছু ভাল।  ভাঙা কাপের ভিতরে বৃষ্টিকে রেখে দেওয়া ভাল। পুরোনো তালার সঙ্গে নতুন চাবির পরিচয় করিয়ে দেওয়া ভাল। রাতে ঘুমোবার আগে নিজের ছায়াকে এক গ্লাস জল খেতে দেওয়া ভাল। তোমার কাছে দু ফোঁটা ঋণ রেখে দেওয়া ভাল। ধানের শিষে সামান্য অন্ধকার বেঁধে রাখা ভাল। ঘুমের ভেতর আর-একটি ঘুম পুঁতে রাখা ভাল। ঝুল বারান্দায় বেতের মোড়ার সঙ্গে মাধবীলতার নিষিদ্ধ প্রেম ভাল। বিধবার আয়নায় গোধূলির শেষ সূর্যের রঙটুকু রেখে আসা ভাল। দুপুররাতে স্নানঘরে আসা ভাল।


তারপর একেবারে একা হওয়া ভাল।





নিকষিত প্রেমজলে সোঁদা পৃথিবী 


এই তো প্রগতিবাদ। জীবনপীড়িত প্রেম।


ত্রিশঙ্কুসুলভ মনোভাব, 

           বিকচ যৌবন-যাপন অন্তর্বাসে

উত্থানসুখ — রতিকাগার থেকে আঁতুড়ঘরে।


প্রস্ফুটিত রগরগে শব্দে গণ-শৌচাগারের দেওয়াল 

                      সয়ে যায় সঙ্গমকামড়।


অন্ধকার পৃথিবীর প্রেতচোখ

                   আনত,

গর্ভধারণে ব্যাকুল দম্পতির কুঁড়ি ফোটার

                         কস্তুরীগন্ধে।


ঋতুলালে ভালোবাসায় তন্বী আলতা-পা

                       গৃহ অভিমুখে


রজকিনীর পদাবলী প্রেমে আত্মসমর্পণ

এ পৌরুষ প্রত্যয়ে


              গর্ভজলে সবুজ হয়ে ওঠে ধরিত্রী।





ঈশ্বর ভূমির মাটি 


দুপুর গড়িয়ে গেলে একতাল মাটি নিয়ে 

মা বসে পড়ে ঠান্ডা উনোন লেপতে,

বাবার কাঁধের ঘামে মায়ের আঙুলের মাটি 

তুলতুলে নরম।


এই কমনীয়তায় আমাদের উচ্ছৃঙ্খল খিদে 

তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে ঢুকে পড়ে উনোনের পেটে।


আমরা মানুষ হয়ে উঠি।



আদালতের বারান্দায় একতাল  মাটি রেখে 

তারিখের পর তারিখ,

মাটি অপেক্ষা করতে করতে 

মানুষ হয়ে যায়।


মন্দির–মসজিদ– হাসপাতাল–ইস্কুলের ভিত

এই একতাল মাটিতেই।

অস্তিত্ব জটিল।


এই তো বিস্ময়-আধুলি জীবন

দপদপে সন্ধের ফুল ঝরে যায় দ্রুত।


ঈশ্বর দাঁড়িয়ে থাকেন অসহ্য যন্ত্রণায়

পায়ে তাঁর ধর্মতস্করের ছোবলের ক্ষত।

No comments:

Post a Comment

গুচ্ছ কবিতা : সূচনা ঘোষ

  নিষিদ্ধ যাতায়াত  তুমি তো সব জানো— তোমার স্নানঘরে আমার চেনা উপদ্রব, ঘরের অসাড় কোণ। কিন্তু সে ঘরে তুমি কোথায়? পালানোর ভান করা তোমার অনভ্য...