গাদলা
তোমডা যেইডারে বরষা উতযাপন কও
আমডা গেরামে হেইডারে গাদলা কই।
গাদলার দিনে কুস্তা করবার ইচ্ছাঅই থাহেনা,না কাজ-কাম না হাওন!
গরিব মাইনসের কাছে গাদলা অইলো
কষ্টের গীত।
আমডার কাজ-কাম নাই, হাওনও নাই!
সারাদিনঅই ঝরঝরানি
থামতই চায়না, যেন গুনগুনাইয়া না হুনতে চাওয়া কিসসা কইতেই থাহে, কইতেই থাহে!
যহন গাদলা বারতেই থাহে
কৃষকের জমি ডুইব্বা যাগা
ইরি ধানের জালা ভাইসা যাগা
পুষ্কনির লাইল ভাইঙ্গা হগল মাছ ছুইট্টা নতুন পানিতে নাইওর যাগা!
গাদলা আইলেই ইশকুল বন্ধ
ইশকুলের মাস্টর মশাই ভিজ্জা ভিজ্জা
পেক পানি পাইরা কোনুমতে আয়ে।
গন্টা গেলে গন্টি বাজে,
পুরিপাইন, পুলাপাইন ইশকুলে আয়ে না
জানালায় দাঁড়াইয়া মাস্টর মশাই তহন আসমানের বিলাপ হুনে!
ঠেডা পইরা আসমান কাইপ্পা উডে
গাদলা আর থামতই চায়না।
কারু কাছে এইডা বরষা বিলাস
আমরার গেরামে এইডা গাদলা,
গাদলা মানে আমডার মরণ!
ডাকঘর
সেই কবে ভুলে গেছি
হলুদ খাম,ডাকপিয়ন
রেজিস্ট্রি করা খাম!
এখন আর চিঠি ভর্তি
আবেগ আসেনা
লিখছেনা কেউ কাউকে!
বিচ্ছেদের মতোই
চিঠি ও ডাকঘর আজ
আলাদা পথে,আলাদা জগতে।
দূরত্ব
আমাদের এক হয়ে দীর্ঘ পথ এক সাথে পাড়ি দেওয়ার কথা ছিলো।
এখন আর আমাদের রাত কাটে না।
ঘড়ির কাঁটা থমকে থাকে একলা ঘরের দেয়ালে। তুমিহীন এই অন্ধকার এখন বড্ড দীর্ঘ, বড্ড ভারী। চেনা সুরগুলো আজ অচেনা শোনায়। স্মৃতির জানালায় চোখ রাখলেই কেবল দীর্ঘশ্বাসেরা ভিড় করে!
যে পথটা আমরা দুজনে মিলে আলোয় আলোয় ভরিয়ে দেবো ভেবেছিলাম,
সেই পথ আজ দুজনের দু'প্রান্তে ।
এক আকাশ শূন্যতা বুকে নিয়ে রাতগুলো কেবলই চাদর মুড়ি দেয়।
আমাদের সেইসব সোনালী স্বপ্নেরা আজ একলা রাতের ডায়েরিতে বন্দি।
সময় আমাদের দূরত্ব বাড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু স্মৃতির ক্যানভাস থেকে তোমাকে মুছে দিতে পারেনি। অথচ কত সহজেই না আমরা একে অপরের গল্প হতে পারতাম!
বাবার আয়ু
আপনার কপালে ভাঁজ পড়া রেখাগুলোয় আমি লিখে রেখেছি
আমার হাজার বছরের সুখ।
আপনার সাদা হয়ে যাওয়া চুলগুলো যেনো শুভ্র মেঘ,
আমার সব ক্লান্তি দূর করে দেয়
মুচকি হাসির ফুলগুলো
আমি চাই,
আপনার হাতটা আর একটু শক্ত করে ধরে
জীবনের বাকি পথটুকু হেঁটে যেতে।
আরো একশো বছর আয়ু বাড়ুক
আমাদের কত কথা বলার বাকি বাবা!

No comments:
Post a Comment