Wednesday, March 25, 2026

গুচ্ছ কবিতা : সুবাইতা প্রিয়তি

 


গোগোলের নাক, তোমারও


এরপর আমি ভাবতে বসি। তখন মনে হয় তোমার নাকটা নিয়ে একটা কবিতা লেখা যায়। তোমারে আমি বহু আগে বলছিলাম গোগোলের নাক গল্পটা পড়তে। যেহেতু তোমার এককোটিটা রিপোর্ট লেখার তাড়া, আরও এককোটি কূটনীতিক হেঁজিপেঁজি তৈরি হচ্ছে। শোনো বরং বলি ওখানে কী হয়। ওখানে একটা নাক থাকে। শহরজুড়ে নাকটা ঘুরে বেড়ায়। এদিকে যে লোকটা নাক হারালো, সে কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা তদবির করে চলছে নাক খুঁজে পেতে।

তোমার নাকটা খুউব সুন্দর। আমি জুম করে দেখেছি। যখন আর্কটিক হাওয়া দেয়, মনে হয় এই এঁকে ফেলেছি প্রতিকৃতিতে, ডান থেকে তোমার সুস্পষ্ট নাক।





এটা জামগাছ আমি নিশ্চিত


মিউনিসিপ্যালের নর্দমা ঘিরে সন্ধ্যায় যে স্বাস্থ্যবান গাছগুলি হাঁটতে আসে, তাদের কাউকেই বিশেষ আমি চিনিনা। কতিপয় গাছ কবিতা আওড়াতে আর বাতাস ভারী করে তুলতে পারে। বাসিন্দা পাখিদের ঠেলে দেয় কেউ (লেকের) মাছের দিকে। আমি ভাবি ওরা কী করবে পরে! উন্নাসিক হয়ে উঠতে উঠতে খালি হতে শুরু করে জবরজং জমায়েত। টকে আসা বাতাসমুখী একজন থিতু হতে চায়, বলা ভালো হয়েই যায়, একেবারে এইখানে সন্নিকটে।





কমলা


আমি একটা কমলার কথা ভাবছি। মানুষের ডাল থেকে মানুষের ডালে দোদুল্যমান এমন একখানা কমলা। অভ্যন্তরীণ শৈত্যপ্রবাহে কাবু মানুষ যে ধীরে ধীরে নুয়ে যাচ্ছে, কমলার বীজ যাইহোক দৃঢ়তা দেওয়ায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জমে থাকা হতাশ শরীর পৃথিবীর বাকি ঋণ গুণে শেষ করার আগেই, কোথাও কোথাও পচনের সংকেত চলে আসে।





বিতর্কিত শব্দের উন্মেষ


একটা দিন যাইতে দেখলা

তারমানে তুমি দুইটা ষোলোদিনের প্রস্থানও হজম করতে সক্ষম 

অক্রিয় হওয়ার বাহানা হানা দেওয়ার আগেই

ফা'না হইয়া থাকো, কিছুই আর মোক্ষম...


কিংবা মুখ ফিরায়ে রায় ভাবলে

ভাবার চে বলাই উত্তম; সমান নাড়িছেড়া ধন এক একজন।

অতি গ্রহণযোগ্য হইতো আ'ম ধ্বনিত 'না' শোনালে;

যদি খগোলকানুন খসে একটা তারাও ঝরে

তবু তার পতন কোনো খালিরই মোক্ষম না, যা

আগেই বিবেচিত অথবা বিরচিত।


প্রত্যেকটা কালো মুখ হাতুড়ি অর্থাৎ তুমি বেআইনি দালান

ধিক্ এতো প্রতিশ্রুতির একটা অঙ্গার কোথাও দিক

অন্ধ বাজের মতো গলিভূত হোকগে, এই তোমার চলন।

কিন্তু আদৌ কি ঠোঁটগুলো নড়েচড়ে, বিতর্কিত শব্দের উন্মেষনে?!





জীবপ্রদাহ


মৃত বালিশের দিকে শুয়ে আসছে দিবস

যার বাহ্যিক জগতে এমত অনাকাঙ্ক্ষা যে

টস করলেও কয়েন বিমূর্ত মুঠোয় ফিরে যায় কিনা আসে, 

অদ্ভুত বেলা পতনের সন্ধিক্ষণে পিঠ উঠে যায় 

শয়ন এক প্রদাহ, পতন এক প্রদাহ, মৃত জীব তার সর্বত জানে।


এর আগ থেকে পরের কথা ভাবা নিষিদ্ধ,

হেলানো ভাবনা মহাজাগতিক মেঘে মিশে

মিশকালো হৃত হবে। এর আগ থেকে পরের ভাবনা নিষিদ্ধ

বুকে আসে পাখি হয়ে, তুমি, অথবা আমার একাগ্র মধুর চিন্তা।


No comments:

Post a Comment

প্রবন্ধ : ফজলুল করীম

মার্কিন সাম্রাজ্যের সাহিত্যিক ময়নাতদন্ত সাম্য রাইয়ান-এর উপন্যাস ‘সকল প্রশংসা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের’ সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অত্যন্ত সাহ...