ক্ষতি
এমন অসংখ্য কথা বাকি রয়ে গেল
তুমি তো জেনেছ
বাকি কিছু রেখে যেতে নেই
পিছু ফিরে দেখার সময়
ফেলে গেছ ছায়া
তোমার অদ্ভুত ছায়াছবি
এখন কী দিয়ে ঢাকব এ স্মৃতি, শরীর
তোমার যে দেহ ছুঁয়ে যাই
অভাবে স্বভাবে
জেনো তার অতুল বৈভব
বনফুল প্রীতি
তোমাকে ছুঁয়েছি যতবারই
নেশাতুর প্রণোদনা, মনে মনে ক্ষতি।
স্পর্ধা
শুনে যাও তুমি
বিছানার গাঢ় নীল তোমার ও ঠোঁটে
শুষে নেবে লাল
তোমাকে যে ভালোবাসে, তাকেও দেখার
লোভে আজ নেমেছি রাস্তায়
কী নির্মম হাতে তুমি পিষেছ আমায়
এভাবে কখনো কেউ ভালোবেসেছিল
এই স্মৃতি ছিঁড়ে যায় ক্যালেন্ডার থেকে
সংলাপ বসিয়ে যাই একে একে সব
তোমার গালের তাপ ছুঁয়ে নেমে আসি
তোমাকে বিপদে ফেলে দূর থেকে ভাবি,
কতটা সাহসে আজ চেয়েছি তোমায়!
হেতানিয়া
বড় শক্তিহীন মনে হয়
হৃদয়ের সমস্ত কপাট
খুলে গেছে আজ
কিছুতেই আব্রু নেই আর
নির্লজ্জ দাঁড়িয়ে আছি এই,
অযাচিত এমন প্রসঙ্গে
বার বারই এসে পড়ছ তুমি
অকারণ,
একথা বলেছি যতবারই
অলক্ষ্যে দুরস্ত তুমি এসে
হেসে উঠছ লঘু মস্করায়,
এত রোষ লুকিয়ে রেখেছ
কী উপায়ে পালাব তাহলে!
তোমার ও চাহনিতে ভুলে
আর অন্য পথে আলো নাই
অথচ আমাকে ছেড়ে যাবে-
এই ভয় ভাঙার আগেই,
তোমাকে জড়িয়ে একটিবার
হেতানিয়া পার হতে চাই।
জন্মভোর
তোমার সঙ্গে এই একশো রকম শর্ত থাক
তোমাকে দু’হাতে নিয়ে লোফালুফি
তুমি নিরাপদ জেনেও কিছুটা ত্রস্ত
তুলাদণ্ডে তোমাকে রেখে ভাবি,
কত শোক এমন শূন্য করেছে তোমার ধাতু!
বিনা প্রশ্নে তুমি জেনে নাও আমার কুশল
তোমাকেও আমি জেনে ফেলি অল্প অল্প।
আমার বাড়িতে যেটুকু জায়গায় তুমি
সেজে থাকে তা টিউলিপের ঋতুতে,
অনুদার তুমি, তবু, তোমার দু’চোখ কেমন
মায়া ঢালে, অপার মায়া, ছলে বলে
আমি অশক্ত হাতে ধূপ জ্বেলে দিই
তোমার মুখের আলো ঠিকরে পড়ে আমার হাতে,
এমন সন্ন্যাস চোখ কোথায় পেলে,
আঁকড়ে ধরেছে আমার আয়ু
কী বিপুল ঋণে জর্জরিত এক একটি দিন!
এমনই অনুদার তুমি, যা দিয়েছ, ভুলবশত
গণ্ডী কেটে দিয়েছ গাঢ়,
তবু, জন্ম নেওয়ার সাধ জাগে যে,
অসংখ্যবার
এমন জন্ম, আষ্টেপৃষ্ঠে বেত্রাঘাত
রক্ত ধুয়ে নামছে স্নেহ, শুভেচ্ছা স্বর
আমায় তুমি রঙ দিয়ে যাও,জন্মভোর!
ঈর্ষামুগ্ধ
দেখো, কেমন চিকচিকে বালির মতো সময়,
দূর থেকে এত চমক,
অথচ হাতে নিয়ে দেখি, রং নেই, ছবি নেই, স্মৃতি নেই,
কী নিপুণ ছক, যন্ত্রানুষঙ্গ!
সে বাজনার ঘোরে নেচেই চলেছি, দুরন্ত
নিদারুণ শোক ঝাপটা মারছে থেকে থেকে
বিকল হও, সব যন্ত্র এবার বিকল হও
এত মাত্রাছাড়া যন্ত্রের ব্যবহার
দেখেনি কেউ।
সব জানলা বন্ধ,
তবু তুমি খুঁজছ কোনো জানলায়
কালো হয়ে আসা মুখ,
অবাক হয়েছ এমন আয়োজনে
ছাড়া ছাড়া হিসেব, রক্তাল্পতার রিপোর্ট
মেঝেতে গড়িয়ে,
কোনোদিন তো দেখলে না,
ভুল রিপোর্টে উঠে এল নাম,
এত যে ভুল পরীক্ষাগারে
বিকারে সাঁটানো অন্য নাম,
তবু কী অদ্ভুত, দেখো,
রক্তের গ্রুপ হুবহু এক,
বেদানার মতো রং ওরও, আমারও
তুমি তবে কীভাবে আলাদা করো!

No comments:
Post a Comment