নীল শেওলা
আমার একটা ঘর আছে ,
আলো ঝলমলে চাতক রোদ দেওয়াল ঘেঁসে
যেখানে অবাধ্যের মতো উঠে আসত নীল শেওলা।
পাশে রাখা দুটো পুরোনো কাঠের চেয়ার—
সময়ের ভারে তারাও আজ বড্ড বৃদ্ধ হয়েছে।
আসা-যাওয়া
সেই ঘরের চারটে দেওয়াল , চারটে বেদ
আর একটা মাত্র দরজা খোলা রোদ
অবাধে ঢুকে আসত চোখা চোখা সব দুঃখ,
আর তার পিছু পিছু মোলায়েম সুখের স্পর্শ।
সবটুকু নিয়েই তো... আমার একটা ঘর ছিল।
আয়নার সামনে
ঋতু পরিবর্তনের মতো রোজ সূর্যের রঙ বদলায়,
আয়নার উপরের 'আমি'টাকেও বদলে দেয় ক্রমাগত।
তবুও আমি এক কোণে ঠায় বসে থাকি—
স্মৃতির দেওয়াল ঘেঁসে, আমার একটা ঘর ছিল।
ঘ্রাণ
দেওয়ালের ঘষে ওঠা নীলাভ এলইডি আলোয়
ঘরটা আমাকে রোজ রাতে মরতে দিত ঠিকই;
কিন্তু ভোরের আগে বাঁচিয়ে তুলত এক চেনা ঘ্রাণ—
মায়ের আঁচলের সেই চিরকালীন গন্ধমাখা,
আমার একটা ঘর ছিল।
ছায়া
জানালা দিয়ে হুড়মুড় করে ঢুকে আসত গঙ্গামাটি রোদ।
ছায়াকে জানানো হয়নি আমি কেমন আছি;
দিনশেষে ফিরে আসা ক্লান্ত পা দুটো—
'মন' আর 'পাওয়ার সম্ভাবনা'র মাঝে তুলেছিল এক সূক্ষ্ম দেওয়াল।
অট্টালিকা
আমি এখন একটা মস্ত অট্টালিকায় থাকি,
ইট-পাথরের সবটুকু আয়োজন সেখানে বর্তমান।
এখন একটা বাড়ি আছে...
হ্যাঁ, এখন আস্ত একটা বাড়ি আছে।

No comments:
Post a Comment