Monday, June 15, 2026

গুচ্ছ কবিতা : পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়



কয়েকটি কবিতা 


নৈশ-আলোর কোনও পানসী নেই

সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে কাঠের জাহাজ

দুটো তারা 

ফ্রক পরে খেলা করছে ...

কিছু দূরে গুল্মময় পাথরের চূড়া থেকে

দেখা গেল কপ্টারের চাকা।


পাখির অস্থি, সাপের খোলস, পিঁপড়ের ডিম 

কোথাও শিশুদের 

নিজস্ব খেলনাবাটি নেই। 


সাদা বালি ভরা মুঠি 

বুনো ঘাস ও চেরাই কাঠের আগুন

এত তাড়াতাড়ি — নিভে আসছে! 


তারা দুটি এরপর কোনদিকে দৌড়ে চলে যাবে? 




সাইকেডেলিক জ্যোৎস্না ! 

বারান্দায় প্যালেট রাখা আছে

কালো রঙ ঘুরে ঘুরে আসছে

সিঁড়ি ভেঙে নামছে

মাটি খুঁড়ে বের করছে স্রোত। 


মাছ একটি রুপোলি উদ্ভিদ

পুড়তে পুড়তে 

অন্ধ হয়ে যাচ্ছে। 


আপনি ব্রাশ চালিয়ে আঁকুন

ঘুমের ভিতরে কতগুলি কালো দরজা

ঠিক এইভাবে ডানা মেলছে। 


বস্তুত আপনার কাছে

কোনও সাদা পায়রার ছবি তৈরি হয়নি। 




অফ করা ট্রানজিস্টার

কতক্ষণ পরে 

আপনাকে ঘুম থেকে 

শিকড়সুদ্ধ উপরে ফেলতে পারে?


ফুল ফোটার কোনও শব্দ নেই বলে

তৈরি করলেন

টর্পেডো মিউজিক ! 


আপনি লক্ষ্য করুন

বহুমাত্রিক অসুস্থতা কোন ঋতুর দিকে

তার চন্দনপিঁড়ি পেতে রেখেছে। 


জীবন একটি শাপলা ফুল ও রোগা শালিকের উপন্যাস। 




স্বাদু লাল ফল —

অপুষ্ট গাছের দোলনায়

সুড়ঙ্গে সাঁতার কাটছে বাদামি পোকা। 


ডায়েরিতে টুকে রেখেছি 

শিশুদের ছায়া, ফড়িংয়ের গান, নিঃসঙ্গ বাতাস

চশমার ভাঙা কাঁচ থেকে ঝরে পড়ছে দৃশ্যগুলি। 


সমুদ্রতীরে একটা মড়া গাছ দোল খাচ্ছে

অসুখের ডালপালা বেশ ভূতুড়ে

উড়ে আসা বিদ্যুৎ হঠাৎ নীল হয়ে যায়। 

তেঁতো আর বিস্বাদ — এই বৃষ্টি ! 


তবুও আশ্চর্য এই ফল

কামড় বসাতে গেলে চাঁদ ভেঙে দ্বিখণ্ডিত হয়।

No comments:

Post a Comment

প্রবন্ধ : ফজলুল করীম

মার্কিন সাম্রাজ্যের সাহিত্যিক ময়নাতদন্ত সাম্য রাইয়ান-এর উপন্যাস ‘সকল প্রশংসা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের’ সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অত্যন্ত সাহ...