Friday, June 12, 2026

গুচ্ছ কবিতা : আমির হামজা

 



মানুষী 


ধানহীন মাঠে বৃদ্ধি নিচ্ছে 

অতিকায় ধাতব জিরাফ, গ্রীবার নিচে বৃক্কের ন্যায় একটি পুকুর — থানকুনি,  শিরিষ, মুণ্ডহীন তালগাছ 


বাঁশ গাছের শুকনো স্নায়ু আগলে নিচ্ছে হালি পাখনা,মজ্জাহীন টিনের চালা…


ধবল চামড়া, বাঁশপাতা চোখ নিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে যে গাছ — সে আমার মানুষী





নদী ও চৌরাস্তা 


চৌরাস্তার মোড়ে পাবলিকের চোখ রাঙানি ছিটিয়ে তোমাকে দেখছি 


হাবাটে হতে হতে এক মুঠো কাঠগোলাপ তোমার কোলে জমা করছি, সিঁদুর নদী হয়ে মাথা ভরা চুলে স্নান করছো নিভৃতে

ঠোঁটের উপর তিল বাড়ি 

ডুব দিতে দিতে খুঁজে পেলে — সফল ডুবুরি 

না হলে আমিও ফল্গুধারা 





ধাতব কঙ্কাল 


জলের থালা থেকে জন্ম নিচ্ছে বক,

পানকৌড়ি এসে নাকের কাছে আঁশটে গন্ধ প্রসব করে যায়

দায়িত্ব বেড়ে যায় জন্ম বড় করার 


তবুও উলঙ্গ ধাতব কঙ্কাল এখনো অধৈর্য হয়নি..

ছিন্ন মস্তিষ্কে স্নায়ু লেগে আছে,উপরে তিনটি কাক অতএবের ঘরে বসেবসে 

সাফাই গাইছে 


কবিতার কাছে গেলে খোয়াব দেখি — এক মানুষীর ,টিনের চালায় বসি,নির্জনে হলদে সবুজ শোনপাপড়ি পাতে তুলে হাওয়া করে,

শ্যালোর জল ছিটিয়ে দেয়,

হাতে করে ভেজায় ঠোঁট …





চতুষ্কোণ 


প্রজাপতির পাখনা সাঁতরে নিচ্ছে লৌহ জল

শুঁড়ের ঠোঁটে রেণু, জিন এবং আগামী


নিস্তব্ধ সরে টোকা দিচ্ছে পাকা রুই-মৃগেল,

তবুও পাঁজর ছাড়ানো দেহ 

খুঁজে নিচ্ছে চতুষ্কোণ — চাদর



সমস্ত কুহক সরিয়ে নিচ্ছে সরষে পিঁপড়ে,

পিছনে আদিম মোড়ল


এখানে উবু হয়ে গাছ জল খায়,আঙুল ভেজায় 

ডুবে যায় নাকী!

সাদা-কালো প্রপেলার পিঠে শুয়ে থাকে 

চোখে তার অসীম তৃষ্ণা





ক্লোরোফিল 


মানুষ আদতে গাছ, আলো মাখে না বলে

লালাভ ধমনী-শিরা 

রঞ্জকহীনতা ও রঞ্জকের আপোস —গাছ 


ভেতরে ভেতরে সবুজ শিরা উপশিরা

ভেসে আছে — প্রকাণ্ড বাঁশ ঝাড়


দু একটা ফিঙে বুকে বাসা বাঁধে, সময় — অসময়ে উড়ে যায়

No comments:

Post a Comment

প্রবন্ধ : ফজলুল করীম

মার্কিন সাম্রাজ্যের সাহিত্যিক ময়নাতদন্ত সাম্য রাইয়ান-এর উপন্যাস ‘সকল প্রশংসা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের’ সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অত্যন্ত সাহ...