পাড়াতো বানর
পৃথিবীর কোনও গল্পে এই বানরটি নেই
যে আমাদের বাড়িতে এসেছে গতকাল
গাছ থেকে গাছে লাফিয়ে বেড়াচ্ছিলো
স্বরসন্ধির আড়ালে তার উজ্জ্বল গরিমা
ডুমুর পাতার দিকে ঝুঁকে থাকা রেণু
উঠোনে কলার থেকে অভিমানে খসে যাচ্ছে বোতাম
শুকনো বৃষ্টির পরে অ্যানিমোমিটারে বাড়ছে হাওয়া
বিব্রত বানর কোথায় লুকিয়ে আছে কে জানে!
মা তাকে খুঁজে হয়রান
কলার কাদি হাতে
সাথে ক’টা খুচরো বিস্কুট
পৃথিবীর কোনও বনে এই বানরটি নেই
চুপচাপ বসে আছে পাতার আড়ালে৷
ক্রিয়ার বাগান
বিপন্ন সমস্তটুকু জুড়ে একটি অট্টহাসি
চেপে বসেছে, দুধশাদা রাজহাঁস
দূরাগত চিত্রকর বসে আছে, সদাহাস্যরসে
পানপাতা শুষে নিচ্ছে আলো
ময়দানে তুমুল ইশারা, দশদিক জমকালো৷
তোমার ছায়ায় দাঁড়িয়ে
একটানা
কথা বলে হেসে নিচ্ছি
রোদে
শুকিয়ে নিচ্ছি ঘ্রাণ৷
তবুও সকল বিষণ্নতা জুড়ে ঘুমিয়েছে ক্রিয়ার বাগান৷
ব্রিজ, ব্রিজ
জুতোর মাপে পা এঁকে নিচ্ছি৷ ব্রিজের উপর ব্রিজ
ভেদ করে পুলিশের গাড়ি, অথবা অ্যাম্বুলেন্সও
হতে পারে৷ পরিচিত ধানক্ষেতজুড়ে ভ্যানগঘ৷
হাইফেন চক্রের পাশে আমি ও মহোদয়
লুফে নিচ্ছি জলের শুশ্রূষা৷
ভ্রান্তিটুকুই বাঁচিয়ে রাখবে আমাদের
দেখে নিও—
হাহাকারে নষ্ট হবে চোখ৷
এই বুদ্বুদগুলো নদীর নিঃশ্বাস
বেঁচে থাকার চিরকৌশল—
উড্ডীন পাখিদল
আমাদের ভেতরে রেখে যাচ্ছে ডানার ছায়া৷
তার চোখে চেনা জল, ঠোঁটে অসংখ্য ঢেউ
একটি ডানায় লিখছে লুপ্ত রোদের ইতিহাস৷
রাংতা-মাঠের কাহিনি
রাংতার মাঠে ফিসফাস, ডাহুকের ছায়া
আগুনসন্তাপে উধাও বাড়িঘর!
শুধু কিছু শিউলির ঘ্রাণ লুকানো
জুতার বাক্সে
তারপর, কত নির্জন দুপুরে
রোদকে আগুন ভেবে পালিয়েছে বৈমাত্রেয় ডানা!
সুদূর শূন্যতায় ভেসে ওঠে শাদামাটা রেখা
মেঘ তার কতটা উত্তাপ ধারণ করতে পারে!
ধূর্ততা ও সাইরেন পুড়িয়ে দিচ্ছে ঠোঁট
গোপন হিংসায় কেঁপে উঠছে অপাদমস্তক
কোথাও সমুদ্র আছে
আশ্চর্য জ্বরের ভেতর এটুকু শান্ত-স্বস্তি৷
সাগর স্বরলিপি জানে
তীরঘেঁষে যেটুকু লিপি অস্পৃশ্য ভালগার
মিশে গেছে দুপুরের রোদে, আশ্চর্য ধূর্ততায়
আনত ভূমির কাছে দুলে ওঠে অন্ধকার
হাতিরা স্নান সারে উজ্জ্বল গরিমার দিনে
এখানে এমনই আগুন—বনের জীবন
সাইরেন ফেলে পালিয়ে যাচ্ছে প্রহরী৷
কিছুটা হিংসা ভুলে তুমি দূর পাতাল থেকে
বাড়াও হাত-ভর্তি রেণু৷
স্বরলিপি—ওই পত্র থেকে দুলছে সাগর
দ্যাখো বাদ্যযন্ত্রসমেত দুলে ওঠা শাখায়-পাতায়৷
প্রাচীর ভেদ করে এগিয়ে যাচ্ছে ঢেউ,
তোমার চোখে বালি ও ফেনা; আস্ত সাগর…

No comments:
Post a Comment