আগামী
কেউ ফিরে গ্যালো
অন্তিম শয্যার পাশে শুয়ে
শোকাহত মা
ফুরসৎ নেই কাউকে দোষ দেবার!
সারা গায়ে কালি মেখে
ল্যাংটো ছেলেটি মানচিত্র আঁকছে
উল্টো করে ঝুলিয়ে রেখেছে -
দেড় দশকের পাপ চিহ্ণ ।
মাস্তুল
উপত্যকায় দাঁড়িয়ে মাস্তুল দেখি
খেদ হয় -
অনেকদিন সমুদ্রজল মাখিনি
বিস্তীর্ণ দ্বীপের পরিযায়ীর মতো কেবল
দূর থেকে উষ্ণতা মেপেছি
শরীরী ভাষ্যে রোমন্থন করেছি –
পাড় ভেসে যাওয়ার অনুশোচনা !
তবু একজন নুলিয়া
আমাকে পরখ করতে ভোলেনি ।
প্রেমপত্র
দেখা হওয়া বা ভালোলাগা ছাড়াও কিছু কথা থাকে অসম্পূর্ণ। যেভাবে একটি ময়ূর বৃষ্টির ঠিক আগে নেচে নেয় উত্তাল, যেভাবে কিশোর বালকটি ছুঁয়ে নেয় প্রথম মেঠোফুল সেভাবে আমাদের প্রেমকথা ফুরোয় না!
অন্তহীন পথের মাঝে যদি কোনো বাঁকে দেখা হয় তোমার আমার তা একান্ত সুখ বলে জেনো। ফিরে এসে শুধু বলে যাও ছেড়ে যাওয়ার ভুলটুকু কিম্বা রবাহূত পাখির পালক গুঁজে নিও চুলে তোমার। কতকটা পথ শুধু একাকি চলেছি আকাঙ্ক্ষিত অর্জনের আশায়, মিশে গ্যাছে কত বনফুল পাখি দিন যাপনের শেষে। তবু একটি প্রেমপত্র লিখে রাখি গোপন চোখের ঈশারায়।
স্বেদবিন্দু
আপাতত নির্বাসনে আছি
চোখের পলকে পাল্টে যাচ্ছে
মাটিঘর বারান্দা আর সূর্যঘড়ি
মুলতুবি ঘোষণা করছে -
চা সহযোগে মূল্যায়ণ
অল্পতেই মন খারাপ হলে
ফুরিয়ে যায় না কিছুই
শুধু
একটা শব্দ ছুঁয়ে যায়
তোমার স্বেদবিন্দু।
অন্তর্ঘাত
যদি কখনও আকাশকে ছোট মনে হয়
তবে জেনে নেবে
সেই পরিধি সীমানা অতিক্রম করেছে
নিঃসন্দেহে একটি মানুষ
নিজের মতো একটি ভূখণ্ড গড়তে পারে
তার নাম দিতে পারে - স্বপ্ন
স্বপ্ন কখনও আকাশের সমার্থক নয়
বরং বিপরীত। রাষ্ট্র ও সমাজের বিপরীত।
এর উর্ধ্বে জেগে থাকে
সরল সমীকরণ -
অন্তর্ঘাত !

No comments:
Post a Comment