যেখানে কৃষ্ণ নীরব
অনুচ্চারিত কাব্যের ভেতর
রাধা নামের অলংকারে বৃন্দাবন থেকে ফিরে এলেন মাধব,
ঠোঁটের মৌতাতে অমরত্বের স্বাক্ষর দেখে আঁচলের বাতাসে উড়ে বেড়ায় অনন্তের সমর্পণ,
প্রেম কোন ধর্মগ্রন্থের একচ্ছত্র অধিকার নয় ।
বুদ্ধের নীরবতা এসে জড়িয়ে ধরলো আমায়
কৃষ্ণের সুরে বুকের পাঁজরে এলো উজানের টান
নজরুলের বিদ্রোহে ভুলতে থাকলাম নিকোটিনের গন্ধ
রবি ঠাকুরের পুন্যি পুকুরের করুণা ধারায় স্নান সেরে
জীবনানন্দের একাকী পথে কিছুটা হেঁটে গিয়ে লালনের আখড়ায় আশ্রয় নিয়ে দেখি
শান্ত জলেও কত গভীর ঢেউ ।
দেহের অন্তঃপুর
আমার দেহের নিভৃত রাজপ্রাসাদে সাতটি ঋতু পাহারা দেয়,
ভোরের রক্তে বৈরাগ্য প্রদীপ জ্বলে ওঠে
অস্থির সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসে অছিলা প্রার্থনা, কক্ষপথেই শুধু তর্জনী ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকে।
চোখে কুয়াশার আলো গড়িয়ে পড়ে না আর,জন্মেরও আগের স্মৃতি ,শরীরি ছায়া, লেলিহান শিখা
শিশির মাখছে সোহাগের অবগাহনে,
এক অনন্তের দূত রাজমোহর নিয়ে বসে থাকে,
অদৃশ্য অন্তঃপুরে প্রবেশ করে সে রাজা হতে চায়নি কখনো, তবে চেয়েছিল সিংহাসনের ব্রহ্ম মুহূর্ত ।
প্রতীক্ষার সমাধিলিপি
নীরবতার বৃক্ষে গোধূলি রোদ
আলো দিয়ে যায় নিস্তব্ধ বিকেলে,
খালপারের দিকে চেয়ে দেখো
প্রতিক্ষায় মরে যাওয়া পরাজয় আমায় ঋজু হয়ে বাঁচতে শিখিয়েছিল।
বারোটি বছর ধরে নিশীথের প্রদীপ জেগে আছে অভিমানী অন্তরে,
অবহেলা পুড়ে দৃঢ় করেছে আমার নতুন জন্ম।
রোদরং উপত্যকার দেওয়ালে ক্ষতবিক্ষত অপূর্ণ জীবন
উষ্ণ প্রতিশ্রুতি মোহময়ী দীর্ঘশ্বাস হয়ে থাকে ,
এক নদীর সম্পূর্ণ স্রোত হতে গিয়ে
নিকানো উঠোনের আকাশ জুড়ে
কান্নার শব্দে শুধুই শোনা যায় হা কৃষ্ণ হা কৃষ্ণ, মাধব আমার।
অন্তর্জলের উপাখ্যান
পরিযায়ী পাখিরা হিরের দ্যুতি নিয়ে এলে বাউল বাতাসে একটি নদী জন্ম নেয় প্রতিদিন,
ধুতুরার বীজ কুড়িয়ে আনে কীটপতঙ্গ
জ্বরে পুড়ে যাওয়ার আগেই যুবতী নারীর আমিত্ব সমুদ্রের জলে মায়াবী রাত খোঁজে ।
গাঢ় মেঘ নিঃশব্দে মেলে দেয় কুয়াশা ,
উদাসী চোখে গোপন শ্বাসের জোয়ার,
জ্যোৎস্না সংগম থেকে মুক্ত হয়ে আত্মার অসীম গন্তব্য সাগরে ম্যাহেফিল বসে,
অবগাহনের অন্ধকারে গঙ্গাস্নানের পর তৃষ্ণা মুগ্ধতা পেলেই বলতে থাকে ছায়া নাও ছায়া নাও।
নিঃসঙ্গ একতারা
তিস্তার শিরদাঁড়া বেয়ে অসমাপ্ত বাক্য পাহাড়ের বুকে নীরবতাকে অনুবাদ করলেই , তুমি সূর্য হয়ে ওঠো।
অরণ্যের পথে একটু এগিয়ে গিয়ে দেখো কত সংকুল পথ,
আমাকে ছুঁয়ে থাকো
ইছামতির জল রেখার প্রতিটি পাতা খুলে তোমাকে সবুজ ব্যাকরণের পথে হাঁটিয়ে নিয়ে যাব অনেক দূর, আঙুলের প্রতিটি ডগায় বিভূতিভূষণের অদৃশ্য অক্ষর বেঁচে থাকে, আমার চোখের ভেতর তাকিয়ে দেখো কত উপন্যাস রোপণ হয়েছে কতকাল ধরে,
দ্রৌপদীর আঁচল ঘিরে কত নিকষ অন্ধকার লেখা হয়েছে,
এই ময়ূরপঙ্খী বুকে একবার হাত রেখে দেখো বর্ষামঙ্গলের অবশিষ্ট শ্বাস রচনা হয়নি এখনও, আয়ুষ্কাল পূর্ণ হওয়ার আগে ফিরে এসো একবার।

No comments:
Post a Comment