দুঃখ
এক দু’দিনের সংসার
তারপরে সব ধ্বংস
কংসধরের বংশ
বাজাক তবে বংশী
এসব খেলায় দংশন
পেতেও পারো আংশিক;
মুঠোয় ভরা সংশয়,
তা যেন লভ্যাংশ –
তোমার পাড়া পাংশু,
তাও কীভাবে কিংশুক
ফুটেছে নিঃসংশয়?
সখ্য থেকে দাস্য, পরক্ষণে হিংসা –
মান রেখো রাজহংস,
মনখারাপের বংশী,
কংসাবতীর দুঃখে,
যেভাবে গায়, আংশিক…
মায়া
কেন যে কাঁদিকাটি, কেন যে ভালবাসি,
এখনও তার কোনও কারণ নেই
ফলত একা-একা, শ্মশানে যেতে পারি
কারওর বাধা বা বারণ নেই
আমি কি তারও বেশি? আমি কি আরও কিছু?
যদিও মুখে উচ্চারণ নেই,
যদিও অবসরে, রাখাল হয়ে গেছি,
তবুও তো পশুচারণ নেই
যা-কিছু নির্জনে, ঘটার ঘটে গেছে,
কোথাও কোনও বিস্ফারণ নেই
এভাবে কেটে গেল? তোমার যৌবনও…
গর্ভে কোনও ভ্রূণ ধারণ নেই
যদিও এই মন, করেছ উচাটন,
যদিও তার কোনও মারণ নেই,
ভুলিনি তাকে আমি, কখনও ভুলব না,
আমি যে বেঁচে আছি তার অন্নেই…
দিনলিপি
আমরা সবাই আসতাম
দেখতে তোমার বস্তি
করিনি আশ্বস্ত
দেওয়ালে তাও স্বস্তিক
সূর্য গেছে অস্ত
ভালবাসার শাস্তি
হয়েছি অভ্যস্ত
এটাই এখন বাস্তব
তার চেয়ে বিশ্বস্ত
এই জগতে নাস্তি
ফলত আজ পস্তাই,
আমরা যারা নাস্তিক –
তোমার-আমার বাস্তু,
যৌথখামার, কাস্তে,
নৌকো, নদী, মাস্তুল
আমরা ভালবাসতাম…
খুনসুটি
আমরা চলে যাব, তোমরা থেকে যাবে
আলোর দিন
ঘেঁটেছ রূপকথা, ঘেঁটেছ ছাইপাঁশ
ঘোড়ার ডিম
পেয়েও পাচ্ছ না, না, না, আলস্য না,
কপাল দোষ
আমিও হয়ে গেছি, তুমিটি যেভাবে
অবাধ্য –
কীভাবে চাঁদ ডোবে, কীভাবে ঘুমপরী
উঠল রাত -
আমি কি কালকেতু? তুমি কি ব্যাধবউ?
ফুল্লরা
আরও তো কথা আছে, আরও তো কথা থাকে
শুনবে কি?
আবার কাছে আসো! আবার ভালবাসো!
ছিঃ! এ কী!
আদর
তোমার দুয়ারে শস্য, এলিয়ে পড়ছে রাতদিন
নিজেই নিজেকে মারলে, বাঁচাবে কার সাধ্যি!
কিছুটা আয়না নগ্ন, কিছুটা পরেছে বল্কল
তোমার বিবাহে জাগছে, কোন বেহারার পালকি?
নীরবে পেরোও চৌকাঠ, নীরবে জীবনতৃষ্ণা
এখন আকাশে খুব রোদ; মাথায় বাঁধনি উষ্ণীষ?
আমার দু’হাতে শৃঙ্খল, আমার দু’পায়ে সর্ষে
অবর জমিতে তাও রোজ, অভ্যাসে হলকর্ষণ –
আমিও মেটাতে পারিনি, এমন ভীষণ তার ক্ষোভ!
হয়তো আমিও উন্মাদ, হয়তো সে খুব তার্কিক
কীভাবে তোমাকে বলব, এক-দু’কথায়, বাক্যে?
রূপকথা খুব নিষ্প্রাণ! ভয় পেয়ে যায় রাক্ষস!
কেউ না জানুক, আমি তো, থেকেছি তার সাক্ষী –
শোনো, এই পথ দুর্গম, তাও ঠোঁটে ঠোঁট রাখছি…

No comments:
Post a Comment