Saturday, August 22, 2026

গুচ্ছ কবিতা : অনির্বাণ সাধু

 



লাইন

রেল মানে লাইন, 
লোহা, সোজাদাগ, অনেকটাদূর। 
স্কেল, জ্যামিতি, অংকখাতা, 
সুউচ্চ মিনার আর ফ্ল্যাট রাজ্য, উলম্ব সরল-
লাইনের পরে আছে সরকারি যোজনা, 
বাংলা খাতা, ক্রম আর পিপড়ের বর্ষা ঘুরঘুর। 

অশোক লাইন মারে মালতীর সাথে, 
সব দাগ বেঁকে যায়, 
ভেঙে পড়ে দিন। 
ধূপের ধোঁয়ার মতো, মন্ত্রের ধ্বনির মতো
কালোজিরে কাঁচালঙ্কা ফোড়ণ গন্ধের মতো, 
লাইন, বেপথু হয়, জয় রাধে, একি ভাংচুর।




ড্যাণ্ডি

পলিপ্যাকে শ্বাসযন্ত্র 
দুনিয়ার টলুইন ঘ্রাণ। 
তল্লাশি চালাও বঁধু, 
ক্ষৌরকাজ, ন্যাড়াই হোলাম। 

উপদ্রুত ন্যাড়া ছাদ, 
কিনারায় নৌকা ভেসে যায়। 
জ্যামিতি সম্পাদ্য খাদে, 
ধ্যান কোরি, হাওয়ায় হাওয়ায়। 

সি সেভেন এইচ এইট
হাইড্রোকার্বন, উদ্বায়ী। 
ইউফোরিয়া, স্নেহ দ্রাব, 
" সদগতি, ভ্রষ্ট নাহি হোই"।




শতভিষা

শতভিষা নক্ষত্র, বৃহৎ শূন্য, মহাজাগতিক উড়ান। 
জ্যোতিষ তত্ত্ব আলোচনা। 
ছোটোছেলে এঁকে নেয়
মা'র মুখ। 
শূন্য দিয়ে সে মা'র মুখ এঁকে রাখে বারবার।




বয়ে চলে পাণ্ডুলিপি

'কাঠবিড়ালি বাদাম নিয়ে ছুটে আসছে', 
হে ভাস্কর, 
এ কথা আইস এজ অ্যানিমেশন সিরিজে
প্রেম প্রেম লেবুগন্ধময়, কোনো পুকুরের উচ্চারণ নয় শুধু, 
মুষলপর্ব কতো, কতোনা জ়িকির, 
মুর্তি বানাও কবি, প্রকাশনা কতো আঞ্জুমান,
পাণ্ডুলিপি, বয়ে চলে, মুক্তিবাহিনীর তটরেখা। 
বুকের ভিতর সেই অমোঘ নির্মাণ। 
ভাঙতে বুলডোজার আর মায়াহীন ঘৃণা ছেপে দ্যায়। 

নক্ষত্র ভেজানো জল, খেয়ে দেয়ে আকাশ পোয়াতি। 
কাঠবিড়ালিরা তাও ভুল কোরে ফ্যালে।
 



শহরখাকি

শরীর চিহ্ন নিয়ে যাওয়া, 
বাওয়া, একি হাওয়ায় হাওয়ায়
কার লোলচর্ম স্তন, ছিবড়ে মাজার নিচে, 
কালো জল বোয়ে চলা, আন্ধেরা ব্রীজের নিচে, 
থেঁতো মেতো চর্বিত গলিত লালায় মাখা জিবের নিচে, 
কার কার খাওয়া, 
এ লাশের খুবলানো গা! 
বাওয়া, এই তো শহর বাওয়া, 
অফিসার কেরানির পুলিশ আর প্রেতিনীর
এদিক ওদিক থেকে ধাওয়া। 

শরীর চিহ্ন নিয়ে যাওয়া।




রাত্রি

আলোর গতি সেকেন্ডে অ্যাক লক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইল। 
মানে, 
আমরা অ্যাক লক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইল অন্ধকারে ডুবে যাই প্রতি সেকেন্ডে, 
যখন
মন খারাপ করে। 
তুমি আমার কাছ থেকে দূরে চোলে যাও। 
কাজ থাকে না। 
খালি খিদে পায়। 
যখন
গাছের ডালে একটি হুতুম প্যাঁচা এসে বসে। 
মেঘ কোরে আসে, 
সাদা কাগজে কালো দাগ কাটি। 
যখন
লিখি।





পাঠপ্রতিক্রিয়া

কবিতার বোই খুলে পোড়তে বোসলেই
বাড়িভাড়া দেয়ার কথা মনে পরে, 
গিন্নি, বাজার যেতে বলেন, 
ইলেকট্রিক বিল দেখতে হয়, 
কটি ইমেল পাঠানো হয়নি, মাথায় আসে, 
অসংখ্য না পড়া বোইএর পাহাড় চারদিক থেকে হাত বাড়িয়ে বলে, তোমার, আমাদের পড়া হয়নি অ্যাখোনো, কাকে আগে ধোরবে। 

কবিতা পোড়তে গেলেই, সোস্যাল মিডিয়ায় নানারকম নোটিফিকেশন, আসে, যেগুলো না দেখলেই নয়। 

কবিতা পোড়তে গেলেই, মনে আসে নিজের লেখা ক্লাশ নাইনে লেখা সেই অপ্রকাশিত কবিতাটির কথা, যেটিকে সাবধানে রাখি। 

কবিতা পোড়তে গেলেই
রাজনীতি, মিডিয়া, খ্যালা, অফিস, স্কুল, জাতীয় স্বার্থ, অত্যাধুনিক শস্তা ইলেকট্রনিক গেজেট
আমাদের ঘিরে ধরে। 

একটি কবিতা পোড়তে গেলেই
প্রতিবার তাই নোতুন কোরে বিপ্লব কোরতে হয়।




হ্যাঙারে

আমায় হ্যাঙারে টাঙিয়ে রাখে জামা, 
যদি বড়ো হোই। 
সেই থেকে আলনার রড থেকে, দেয়ালের পেরেক আর ভাড়াবাড়ির দড়ি থেকে ঝুলে আছি। 
যদি বড়ো হোই। 
কলারের ভাঁজে ভাঁজে ফেটে গ্যাছে আমার চামড়া। 
পাঁজরের ফাঁকে ফাঁকে হারিয়ে গ্যাছে একটি দুটি বোতাম। 
বুকপকেটে ঘষে ঘষে সাদা হোয়ে গ্যাছে পুরোনো চিঠি লেখা কলমের কালির দাগ। 

যদি বড়ো হোই।




গাছ

মাটি
      শিকড়
                টান।




মেহনত আর চিৎকার

স্ক্রু ড্রাইভার কঁকিয়ে ওঠে, 
আর কষা যাচ্ছে না, সে অ্যাক তীক্ষ্ণ আর্তনাদ। 
শুনে, কানে হাত চাপা দ্যায়-
হাইওয়ে সার্ভিসিং এর বুড়ো মিস্ত্রি। 

এভাবেই, সিমেন্ট আর মশলার কড়া, 
নৌকা বাঁধার কাছি, চাঁদনী চকের ইলেকট্রিক কাটার, 
কাঠগোলার করাত, ক্যানেস্তারা কাটার কাঁচি, পাথর ঘষার গ্রাইণ্ডার... 

মাঝে মাঝে চিৎকার কোরে ওঠে। 
তাদের কথা বোঝে শক্ত আর কড়া পরা হাতের লোকজন। 

এই চিৎকার, এই তীক্ষ্ণ আওয়াজ 
এই মেহনতি ভাষা আমাদের ভয় দ্যাখায়। 

আমরা আমাদের মে

No comments:

Post a Comment

গুচ্ছ কবিতা : সপ্তশ্রী কর্মকার

  পার্বণ পাহারা প্রতিবাদী কবিতায় সংঘর্ষ অনিবার্য, কবি'র আত্মক্ষয় এক আশ্চর্য দুঃখ!  কবিতার সব্যসাচী কখনও মানবতা বিরোধী শব্দ লেখে না, জন...