Wednesday, August 19, 2026

গুচ্ছ কবিতা : ইয়া সিন

 





অ্যাকুরিয়ামের ভেতর সোনালী হরিণ


ইস্কুলের দিনগুলো ছিটকে গিয়ে  

কাঁচের ডিশে ফুটানো জলের বুদ

বুদে শিং ধারণ করা মাছের মতো। 

আমি আমার জন্মদাতা পিতাকে

ভাগ করেছি৷ মাঝরাতে আমার 

দেহে কারা যেন নুন ছিটিয়ে দেয়। 

আমাকে প্রস্তুত করা হয়৷ আমার 

বিছানায় পৃথিবী বৃহৎ এক পাতিলে

পরিণত হয়৷ 





বৈঠা 


নদীর বৈকি জল। মা মাছিটি 

ভনভন করছে; খুবলানো 

মগজে৷ ঝাউপাতার নৌকোয়

মা ডালে বাহার দিচ্ছে গরম 

গরম মশলা। মাছিটি ঠ্যাং 

ডুবানো মগজ ঘুটনি— নৌকো 

রাস্তা পার হয়ে গেছে দরোজায়। 





পাঠশালা 


আরও মরিয়া হয়ে ওঠি। মরি মরি৷ 

বাঁচে মরি মরি ভাত-হাওয়া।


মরমি কাগজের লিখনকে 

ভাগ্যের পরিহাস ভেবে বসি দেয়াল। 

চুন খসে পড়া ইতিহাস ইতিপুঞ্জ 

ঘৃণার দেয়ালের শিখেছি ভাতখেলা

বিদ্যা। 


ভাত কেঁকিয়ে মরি মরি 

মাষ্টার মশাই;  অ  হতে   আ। 

         বৈকি ভাতের চিত্র কথা—





সমাজকে 


চোখ বন্ধ করে যার মুখটি ভাসে বিধাতা 

তাকে করে দিও৷ যেই বাড়িতে আজ 

নতুন জামাই আসবে তার সর্বপ্রথম খবর 

জানা; রাজসাক্ষী হিসেবে থাকে বাজারের

সবচেয়ে বড় বোয়ালমাছটি। যে লাফিয়ে 

ওঠে রাস্তার ধারে— আছাড় খায়; এর হাত 

থেকে ওর হাতে৷ হাতবন্ধ্যা 

বিধাতা মুখ রাস্তা। বোয়ালমাছ রাজসাক্ষী। 





পাতিল 


মানুষের মুণ্ডটা একটা খাদক নিছক

ডিশের মতন। হরিণী ছুটে যায় 

ঘাসের করুণা। 


পিছু পিছু বাঘ 

অজ্ঞ হরিণের শিঙে— শিস দেওয়া 

দূর্ভেদ্য মাংসের চেতনা৷ 


ঘাস হরিণ— হরিণ বাঘ 

ডিশে ভরে ওঠে মুণ্ডপাতে; সহস্র 

জন্মছক।

No comments:

Post a Comment

গুচ্ছ কবিতা : অনিক রায়

  কায়স্থ সেরেস্তায় কাকড়া শাসিত মেয়েটিকে কারা দেখায় সহ্য এক লেখ্যরূপে সামনাসামনি এদের বাধ্য পরামর্শ নিয়ে, তার স্বাভাবিক তাক এক সন্তান, বর্ণসং...