Wednesday, August 19, 2026

গুচ্ছ কবিতা : মোহনা মজুমদার

 



বমন


সম্পর্ক ছন্দপ্রণেতা, ডাক দেয় অন্ধকারে, তুমি তার অর্ফিয়ুস

নিষিদ্ধ ফল ও তার বিষক্রিয়া তাই ভেবেছ অবনত

চিনেছ নিমজ্জন এই তন্তুকায় সঙ্গে

হেঁটে যাওয়া আলপথে নয়, প্রবোধ শুধু , জাগালে চক্ষুস্মান

কার ছুঁড়ে দেওয়া শোক নিয়ে পুরোনো রেডিও মেরামত কর?

মিথ্যা বলব না, আমরা এসব দহনপ্রণালী অপার্থিব ভাবতে পারিনি


হাসো, হাসো, হাসতে হাসতে ছেড়ে যাও তাঁতঘর

বুকের ভেতর দাও, খুলে দাও নিজস্ব এক ইচ্ছেডানা

সত্য এই, উল্কাপাতের বিকেলে পরাভবটুকু লিখে রাখা হয়না কোথাও

তবে মনে রেখো বর্ণালী আসছে, আসবেই

আর কোনো অলীক নেই, এবার হরিণের খেলা

কড়িতে দিগন্ত নিবিড়। গোধূলি হাওয়ার গান। ভাবি ফিরব।

ধুলোয় মিশে পতঙ্গ আমি ভনভন করি অন্ধ প্রণয়ে..





যোজনামাত্র


এই ঈর্ষার পিপাসাপ্রবল অন্ধকারে অসহায়তা জাগিয়ে রাখার মতো ভালো কিছু নেই।

নিদ্রিতের শিল্পে জিহাদ, এক ব্যর্থ প্রেমিকের মত

তার চেয়েও দুর্বোধ্য কিছু গ্রাস করে ফেলতে চাও?


শিউরে ওঠো- দেবী এবং ডাকিনী !


অনিবার্য এই সংক্রমণে পাতা পড়ার শব্দ হয়, মন কেমন করে

তোমার কি ঘুম পেয়েছে? এড়িয়ে যেও না

ঠাকুরমার ঝুলি, ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমী, অভুক্ত জ্যোৎস্না - তারপর এই পথ

একপাশে গর্ভ, অন্যপাশে সুষুম্না, মধ্যিখানে আমি ত্রিকাল


এ দেহ মহাশূন্যধাম, নিভে নিভে জ্বলে ওঠে দিশাহীন !


বৃষ্টি নামবে, ঠিক তখন ক্ষতের বুকে মাথা রেখে নিজেকে তুমুল রঙে সাজিয়ে তুলবো

নয় পিছুটান, নয় বিদ্যুৎ !

কেবল একটিমাত্র কররেখা পড়ে থাকবে সমগ্র দায়ভার নিয়ে, নির্বিকার, নির্বিকল্প...





হাসপাতাল


তীর বদলায়। আমাদের কোনো সাদা পায়রা নেই। বাউল আর দোতারার মাঝে একটা গোটা সবুজ ছাই পেতে বসে আছে। ও পাহাড়, ধীরে চলো। এক চলা থেকে দুই চলা, তিন, পাঁচ, সাত। জীবন সবই মৌলিক। পথিকপুর স্টেশন পেরিয়ে ট্রেন চলেছে জীবনতলা'র কুয়াশাদীর্ণ বাঁকে। আড়াল কাঁধে নিয়ে যে পিঁপড়েরা হেঁটে যায়, তাদের পিছু করা কি উচিৎ হবে? পাহাড়ে ধস নামলো। শিরা উপশিরা ভেদ করে মেঘ, মেঘে ঢাকা গোপন চলেছে কবিতার বুকে, যেখানে দুঃখ লেগে থাকে। প্যারাসুট। রোগ। উড়ে গেল। ছেঁড়া প্রেসক্রিপশনে ভোরের রং লেগে আছে। যে চলে যায়, তার পিছু নিতে নেই। আবছা অক্ষর এলেমেলো এখন। বিকেলে ভিজিটিং আওয়ার। কেউ কেউ আসবে হয়ত।





নীরব হও


মুখোশের শহরে দেউলিয়া সব সন্ত্রাসবাদ

ধারণ করেছে সারমেয়-কূপ

তাদের তুমি পথিকৃৎ মনে করে ঝাঁপ দাও?

দুধপুলি, তালের বড়া সহযোগে কত আয়োজন তোমার!

ত্রিভুজের পা থেকে জন্মানো তৃণাঙ্কুর- বীতশোক হতে চাও? কে কাকে হত্যা করে?


রাষ্ট্র নয়, দেশ নয়- আমি ধর্ম, আমিই সারমেয়

দাও, দাও অমৃতপাতাল - গরলকৃষ্ণে ধুয়ে যাক রাঁধা অ্যাভেনিউ

এঁকেছ কালদণ্ড, তাই কি তুলসী প্রদীপ পরম্পরাচ্যুত?

যুদ্ধজলে বাতিলমানুষ ওই ছুঁড়ে দেয় কানকো আর গঙ্গাজল

ভক্ষণ কর, তারপর দেবতা হয়ে বিতরণ কর ছুরি এবং কুয়াশা


ঢেউ নেই, ধ্বনি নেই

ধরো, সমুদ্রের বাকল খুলতে খুলতে তুমি দেখলে মুকুরের কাছে সকল অনুসঙ্গ রাষ্ট্র বিকিয়ে দিয়েছে কিছুক্ষন আগেই -


কীভাবে তবে ভ্রষ্ট করবে কমিউনিজম-কমিউনিজম গন্ধ?

নীরব হও, চোখ বন্ধ কর-





সম্বল


সম্বল এই কাদাজল। ঘোলাতে হতে হতে খড়কুটো এক মাধবীলতা-জীবন। মানুষ ফেরে, বাঁকা পথে। পাড় ভাঙতে ভাঙতে একসময় নিঃশব্দ উপকূল চেয়ে দেখে গোধূলি-আলো লাঙলের গান গায়। আলো শুকিয়ে এলে, জড়ো করে শেকড়ে পেঁচানো বিচ্ছুরণ। ভাঙা জল আরও ভাঙে। মুছে ফেলার ইচ্ছে হয় প্রবল। তবু ভোরের পাশ দিয়ে কে হেঁটে যায় অস্পষ্ট, দিকশূন্য? ছেঁড়া ছেঁড়া গন্ধ টুকরো হয়ে পড়ে থাকে। "চুরমার কর অবৈধ সকাল" বলার পর কেবল খেলি আমি ইশারা-পুতুল, কাদাজলে গুলে দিই ইচ্ছে-মাটি, গুলি মাধবীলতা-জীবন। তারপর, তোমাদের চক্রবৎ জন্মে অশ্রু আমি দেহে দেহে লিখে রাখি সূর্যঢেউ। জলরঙ ওড়ে, ওড়ে রঙজল। উড়ে এসে বসে ঘূর্ণি, আকাঙ্খার পিঠে। নিষিদ্ধ কবিতার মত এক একটি আগুন জ্বলে ওঠে কখন! দূরে, আরও দূরে দেখি পাখিরা নেই। মানুষ কেবল ফেরে, বাঁকা পথে।

No comments:

Post a Comment

গুচ্ছ কবিতা : অনিক রায়

  কায়স্থ সেরেস্তায় কাকড়া শাসিত মেয়েটিকে কারা দেখায় সহ্য এক লেখ্যরূপে সামনাসামনি এদের বাধ্য পরামর্শ নিয়ে, তার স্বাভাবিক তাক এক সন্তান, বর্ণসং...