Saturday, September 19, 2026

গুচ্ছ কবিতা : অর্ঘ্য নাথ

 



বদল 


বোতাম ছিঁড়ে যাওয়ার পর যারা বদলে নিচ্ছে জামা

ওদের পোশাক ঘাম সফলতা ভুলতে হবে

ভুলতে হবে অনর্থক কুড়িয়ে নেওয়া

রোদ্দুর রায়, খিস্তি।

বড়ো কানে বাজে?

চোখে নামে ঘিয়ে কুকুরের সন্তান?

এসবে স্তন ঢালতে নেই

ঘাতক চলো

দুধেল হিসহিসে শরীরে দুটো মুখ লিখি।


একপ্রান্তে অবচেতনের মধ্য শৃঙ্গার

বিপ্রতীপে মুখোশভারী প্রিয় কুলাঙ্গার।





রাখাল


এই যে সেই রাখাল

রোগা গরুগুলোকে ছায়া দিয়ে

ঝুঁকে আসে সীমানায়

তারপর আর খাওয়া নেই

রোদ নেই

মাঠে মাঠে মাঠে মাঠে মাঠে

সারাটাদিন সেই রাখাল অলস অক্ষরের নেশায়

কী যে খোঁজে কী যে রক্ত আহা

বিকেল ফুরোলে মা ডাক শুনিলে সে ফেরে


পায়ে তার আস্ত এক রবি মৃত হাওয়া টিয়া

খিদেটুকু পেরিয়ে গেলে দিনযাপনের প্রিয়া





একটি মেয়ের শরীর


একটি ফুলের শরীর নীল আকাশে ঢাকা

ঘুরছে সারা শহর

ঘুরছে প্রিয় দেশ

উঠছে ফটো বাড়ছে ভিড় 

বিন্দু ভালুকে অবেলার জ্বর

নীল চাদরে ঢাকা একটা শরীর

রক্তাক্ত সেই মেয়েটির শরীর

দ্রোহসুখের পর যাকে ভুলেছ তুমি

সে এখনো ঘুরছে একাই ঘুরছে

দরজায় জানলায় ছায়াদের পায়ে পায়ে


নীল চাদরে ঢাকা একটি শরীর

নীল সাদা ছায়ায় একটি শরীর

মানুষ কোথায়?

মানুষ                        কোথায়?

কোথায় মানুষ!


চারিদিকে দেখি শুধু টোটোদের ভিড়!





না ছুঁই পানি


হঠাৎ আলো বন্ধ হল।

কিছু বিভ্রান্তি কিছু ঘোর 

কিছুটা দুশ্চিন্তা নিয়ে

জ্বলে উঠল হাজার হাজার 

মুঠোফোনের তারা...

আমি বরং এর আগের ঘটনাগুলি 

সংক্ষেপে বলে যাই।

কমবয়সী এক কোটিপতি বাবা,

মৃত্যুর মতো শীতল আবহাওয়া তার চারিপাশে।

একে একে তার কোম্পানির ভাড়া করা 

অভিনেতা অভিনেত্রীরা ভন্ড মায়াবলে

কেউ মাথা ঘুরিয়ে নরমে পড়ছেন

কেউ খোলা মঞ্চে সাঁতার কাটছেন

কেউ বা নিজেই এরোপ্লেন হয়ে 

... এই রে!

উড়ি উড়ি যায় উড়ি উড়ি যায় 

নতুন যুগের মুরগিগুলো

উড়ি উড়ি যায় !

এর মধ্যেই সরেস বাবা

সবার মাথায় হাত রাখছেন

হয়তো মৃদু বলেও ফেলছেন

'জ্যাদা ওভারঅ্যাকটিং নেহি করনে কা ',

নিজেও দুলতে দুলতে দুলতে 

নিরামিষ কণ্ঠের অমোঘ উচ্চারণ —

বাঙালি ভন্ড বাঙালি পাপিষ্ঠ,

পুজোর আড়ালে বসে আমিষ খাওয়া?!

এসব বন্ধ করতে হবে!

বলো কারা কারা আছো এই নতুন ভাবনায়?...

এরপরেই ঠিক আলোটা নিভে যায়

যখন পুনরায় ফিরে আসে

মঞ্চে বাবা নেই তারারাও নেই!

শুধু এক কৌতুহলী পেটুক

মঞ্চের আড়ালে গিয়ে দ্যাখে —

সুদূর মেলবোর্ন থেকে উপহার পাওয়া হলুদ পাঞ্জাবি

কব্জি পর্যন্ত গুটিয়ে

কচিবাবা ভিন্ন ডিগ্রিতে দুলছেন!


সামনে মাটন বিরিয়ানির প্লেট

বত্রিশ পাটি বের করে হাসছে ...

No comments:

Post a Comment

গুচ্ছ কবিতা : সব্যসাচী ভট্টাচার্য্য

  সা রে গা মা পা  এই শহরে আলগা ধোঁয়ার আড়াল থেকে উঁকি দেয় সার্কাস উৎসব, পাখির পায়ে ছোট্ট একটা সুতো, গোধূলি সন্ধ্যায় নিহত সন্তানের মতন দেখায় ত...