Saturday, September 19, 2026

গুচ্ছ কবিতা : সোম রায়চৌধুরী

 



মিছিল


তুমি কি নেই ? আছো ? অথবা ছিলে 

তুমিও কি পাশে পাশে হেঁটেছ মিছিলে

থাকো বা নাই থাকো শুধু ছুঁয়ে দিলে 

মনে মনে, আজ সেতু অনন্ত নিখিলে 


ভেবেছিলে যাবে ? দ্বিধা ছিল ! নিছক সংশয় !

সন্দেহ ঘিরে ছিল ততদূর, যতদূর পদে পদে ভয়!

মাঝে মাঝে একা হওয়া ভালো 

ভিড়ের শাসন থেকে সব রঙ মুছে

যে অপরুপ নিজেকে সাজালো 

সে জানে সমুদ্র বিরুদ্ধ স্রোতের সঞ্চয়


তুমি কি নেই ? আছো ? অথবা ছিলে 

শরীরে বা মনে, রোজ মরে যারা, তাদের মিছিলে ?





অপচয়


কিছু মন ছোট, চেনা 

বিনীত  মুখোশে ছয়লাপ। 

মুখর, কিন্তু নিবিড় পাঠে পড়া যায় তাকে।

ছুঁয়ে দিলে শরীরে গ্রহণ বেড়ে যায়, জ্বর আসে।

সে অসুখ পরিশ্রমী, শাক দিয়ে মাছ ঢাকে রোজ

পোস্টার চিপকে চলে পাড়ায় পাড়ায় 

পোস্টারে চিপকে রাখে ক্ষয়

এত ক্লেদ ঘেঁটে ঘেঁটে তার সমস্ত বিষ 

তার সমস্ত বিষ যত্নে ধরে রাখা আমার অপচয়





কথা


আমি শুধু আমার কথাই লিখতে পারি

কিছুটা তার হাওয়ায় ঘোরে 

কিছুটা তার অদরকারি


আমি শুধু আমার কথাই লিখতে পারি

সারং রাগে এখন বরং

বাঁধতে পারি

আর যেগুলো বিষণ্নতার

ফলক গুলো অজস্রবার

ছুঁয়ে দেখেও অবহেলার

দিনযাপনে দিচ্ছে পাড়ি 


আমি শুধু সেসব কথাই

লিখতে পারি।


আমি শুধু আমার ব্যথা

বইতে পারি

সহজ করে তোমায়

এখন ভুলতে পারি

ঋণ জমেছে অজস্র তার

মকুব করে যে দুঃখ ভার

দিনের শেষে সুপ্ত বাঁচার

ইচ্ছেগুলো খুব আনাড়ি 


আমি শুধু আমার কথা

লিখতে পারি।


এমন তো নয়, অনেক সময়

বুঝতে পারি কি অপচয়

ছড়িয়ে আছে বিরুদ্ধ ভয়

শিবির জুড়ে নজরদারি

যে দিন গুলো বিপন্নতার 

সাহস করে শব্দ খোঁজার

তেমন দিনে তোমার কথা

লিখতে পারি





দায় 


যেমন চেনা মুখের সারি 

আজ অচেনা খুব আনাড়ি

ইচ্ছে মতন পাল্টে বাড়ি

অথৈ সীমানায় !


একলা একা চৌমাথাতে 

বইলে নদী অন্য খাতে

কি এসে যায় দিন ও রাতে 

অন্ধ ঠিকানায় !


যে সব বিকেল ছন্নছাড়া

মন খারাপের অন্য পাড়া

খিল খুলে কেউ দিক পাহারা

বন্ধ দরজায়।


কাল যে ছিলো বন্ধুতারও

আজ অচেনা অন্য কারও

ছিলো না শেষ, গল্পে কারো

শুরুর কোন দায় !





সংখ্যালঘু


প্রশ্রয় দিনের নয়

অবান্তর ইচ্ছেরা জানে সমাপিকা  হবে না কখনো

রাত্রির নিজস্ব গড়ে ওঠা।

ব্যালকনি খুলে দিলে

যে অজস্র ভয় দৃশ্যত করুণ 

সেও তাকে দেখিয়েছে ক্ষয়।

খিল খুলে অনাদর রেখেছে উদাসীন

ক্রমে সে ছেড়েছে সমবায়

শরীর ও মনের সঞ্চয়

কারুর রাখেনি কোন ঋণ

লোকালয়ে জনপদে, ধীরে

নির্জন বিষাদে দাঁড়ালে

ভিড়ও কি সংখ্যালঘু নয় ?





সংযত


এখন তুমি একলা কারণ 

একটু আগে বৃষ্টি শেষ

চরাচরের খোয়াই ভেঙে

ইচ্ছেগুলো নিরুদ্দেশ।


এখন তুমি মন কেমনের

খুলছো চাবি অলৌকিক

জ্যোৎস্না যখন সামনে দাঁড়ায়

কেই বা মাপে ঠিক বেঠিক !


কোথাও কোন ভুল ছিল না

বাতাস ছিল সংযত

ঘুরলে হাওয়া অন্যদিকে

কেই বা বোঝে কার ক্ষত !


শুধুই হাওয়া, মন কিছু নয় ?

সেও কি পাল্টে নিচ্ছে ঘর

মনখারাপের অসুখ শেষে

খামখেয়ালি বাড়ছে জ্বর।


এখন তুমি খুলছো শরীর

চাইছো কোন ইচ্ছে স্নান

ভুলতে চাইছো স্লিপিং পিলে 

ক্রনিক কোন ডিপ্রেশন।


একেকটা রাত খুব প্লাবনে

ভাঙছে মায়া আর স্নেহ

বিপদসীমা উঠছে জেগে

শরীর জুড়ে সন্দেহ

চিরকালীন বিচ্ছেদের

এমন দিনে, অন্তত

ভুল থাকে না তোমার আমার

বাতাস থাকে সংযত...





বিচ্ছেদ


এসো, শুকনো হয়ে আছি 

পাতা ঝরার দিন এসে গেলে

আমিও তোমার কাছে

নদী খুলে রেখেছি কত রাত।


এসো, মুখ মুছিয়ে দাও

জলের শুশ্রুষা পেলে

মন অজস্র প্রপাত

ঝরে যাবে অবিরাম

আমাদের দুঃখের বিকেলে...


এত ভিড় !

মাঝে মাঝে কিভাবে যে আসি

মেঘ ছুঁলে দুঃখ জল হয় 

ভালোবাসা যতটুকু, আমাদের

বিচ্ছেদও ততটা প্রবাসী





প্লাবন


এমন দিনে বলাই যেত তারে 

যেমন দিনে বর্ষা অনুগত

বৃষ্টি ছুঁয়ে লুকোই হাজার ক্ষত

ঘন কালো নিবিড় মেঘচ্ছায়া

চোখের নিচে কালির মতো বাড়ে 


এমন দিনে বাতিল হলে কথা

শ্রাবণ জানে বিধুর কথকতা

যেমন দিনে বর্ষা অনুগামী

ছেড়ে যাওয়া থাকার চেয়েও দামী 

তেমন দিনে হতেও পারে মনে

ভিড়েও মুখর একলা নীরবতা


এমন দিনে খোলাই যেত তারে

যেমন ভাবে বর্ষাটি তন্ময়

দ্যাখে কেমন বিরহে সঞ্চয়

শক্ত করে হাত ধরেছে তার

ফিসফিসিয়ে বলছে ভালোবেসে

প্লাবন এলেই বিপদসীমা বাড়ে

No comments:

Post a Comment

গুচ্ছ কবিতা : সব্যসাচী ভট্টাচার্য্য

  সা রে গা মা পা  এই শহরে আলগা ধোঁয়ার আড়াল থেকে উঁকি দেয় সার্কাস উৎসব, পাখির পায়ে ছোট্ট একটা সুতো, গোধূলি সন্ধ্যায় নিহত সন্তানের মতন দেখায় ত...