কবিতা
১.
কোন কোন রাতে চাঁদের বুক থেকে ভেসে
আসে মোহনীয় জ্যোৎস্নার সুর
অথবা ছলনা চাঁদের
ডানা ভেঙে গেলে যন্ত্রণা সুর হয়ে ওঠে
শুঁয়োপোকা উড়ে যায় প্রজাপতি সুরে
সব হয়ে ওঠার পাশে না-হওয়াদের কঙ্কাল
পড়ে থাকে
পচনশীল সমস্তকিছুই ক্ষয়ে যায়
কবিতা বলতে আমি মেরুদণ্ডকেই বুঝি
২.
তরঙ্গের দোলনায় দুলে ওঠে চাঁদ
তোমার বুকে ও কিসের ক্ষত
সংক্রামক
হাত ফসকে যাওয়া আয়নায়
মুখ দেখছে অনাগত কেউ
সুপ্রাচীন ঢেউ তার বুকে
যেন সিনেমা শেষের বহুদূরে কেউ
বলে চলেছে সিনেমার সংলাপ
৩.
মানুষ অথবা মেঘ, জুম করলে, স্পষ্ট হয়ে ওঠে জল...
মৃতের কাজ শুয়ে থাকা, চুপচাপ শুয়ে থাকা
জীবিত, অন্তত কবর ভেঙে বেরোতে চাইবে
চাঁদ এক কালো সরোবর
জ্বলে ওঠে কোন কোন রাতে
যেমন কোন কোনদিন
কারো নীল শাড়ি বেশিই আকর্ষণ করে
সুখ, দুঃখ, বিষণ্ণতা, যুদ্ধ, স্থিতির ট্র্যাফিক পেরিয়ে
সব পথ ঘুরেফিরে তোমার দিকে যায়
গভীরে এখনও অন্ধকার
৪.
তুমি, বিসর্জনের পর শূন্য মন্দির
কান্নার পাহাড় ঠেলে চৈতন্যে ফেরো
সব স্মৃতিই নিজেকে ভাসিয়ে দেয়া
দূরে, দূরে যাওয়া যায় না নিজেকে ফেলে
শুধু, এই ভ্রমণ থেকে নেমে যাবার জন্য
আমরা খুঁজি একটি স্টেশন
যখন সব আলো নিভে যায়, কোথাও
জ্বলে ওঠে ছোট্ট জোনাকি
দূর ও কাছের সীমান্তে নক্ষত্র খসে যায়
আমাদের পথ স্বপ্ন ও যন্ত্রণার...
৫.
তুলনামূলক শক্ত লোহায় বর্শা বিঁধে না
এমন সহজ টানে নামালে যেন প্রস্তুত হয়েই
ছিলাম
অথচো খসে পড়া পাতার দুঃখ সান্ত্বনাহীন
নাম ভূমিকা থেকে নামহীনতার পথে
কেউ কেউ বেশিই ভ্রাম্যমাণ
আলো, বাতাস, তাপ, জল, জোছনা, অন্ধকারসহ
পতনসম্পর্কিত সূত্র ও দৃশ্য খেয়েই বেঁচে থাকে
শাসকের বুলেটছোঁয়া রক্তফোঁটা আর
জ্বলে ওঠা প্রতিটি জোনাকিও কবিতা।

No comments:
Post a Comment