Saturday, September 26, 2026

গুচ্ছ কবিতা : অর্করূপ গঙ্গোপাধ্যায়

 



ভাত 


এমনি বড়ো শুকনো, নীরস 

আগুনজলে সাঁতার দিতে হয়।

টগবগে তেজ দাবড়ানি দেয়, 

ঠিক ক্রমশঃ নরম হয়ে আসি।

তরল আঠা দুঃখ যতো,

ফ্যান গালিয়ে ফেলেই দিতে হয়

সাদা নরম ঝরঝরে ভাব 

ভাতজন্মের অমোঘ সার্থকতা। 





এপিটাফ 


চানঘরে রক্তধারা গায়ে মেখে 

গান করে নগ্ন সভ্যতা। 

তারপর আবশ্যক কাপড় পরে 

প্রেমিকা পৃথিবীর কাছে আসে। 

আবার পোশাক খোলে,

অসংখ্য সভ্যতার জন্ম 

সতর্কতা বশত রুখে দেয়। 

মানুষ গোপনে বসে সভ্যতা-পৃথিবীর 

প্রেম নিয়ে 

শারীরিক এপিটাফ লেখে। 




 

প্রদীপ

 

সেই যদি গলেই পড়তে হয় নিরাকার

কী লাভ হয়ে মোমের কারুকাজ ?

আগুন প্রদীপ সয়, তার মাটি ক্রুদ্ধ

শক্ত পোড়া। তীক্ষ্ণ আর রুক্ষ খালি গা।

বরং তলায় জমাট বাঁধা অন্ধকার থাকুক। 

উষ্ণতায় অন্ধকার ঢাকা পড়ে যায়। 





স্মরণ 


নভেম্বরের সন্ধ্যে নীরব ঝিমধরা এই মফস্বলে, 

দূরস্টেশনে ঠাণ্ডা হাওয়া পেরোয় সাঁকো হিমেলবলে।

শব্দহীনের সশব্দতায় চারদেয়ালে নিষ্ঠুরতা, 

এমন সময়ে পড়ছে মনে অনেক কথা। তোমার কথা। 





ছুটি 


বিকেল ঘনিয়ে এলো

একা গেটে দাঁড়িয়েই আছি। 

ঘেমো জামা, ধুলোদাগ।

আকাশের মেঘ টলোমলো, 

কুলফিদাদার কাছে 

সব দেনা চুকিয়ে দিয়েছি।

ছুটি হলো বহুক্ষণ 

মা, আমায় বাড়ি নিয়ে চলো।

No comments:

Post a Comment

গুচ্ছ কবিতা : সব্যসাচী ভট্টাচার্য্য

  সা রে গা মা পা  এই শহরে আলগা ধোঁয়ার আড়াল থেকে উঁকি দেয় সার্কাস উৎসব, পাখির পায়ে ছোট্ট একটা সুতো, গোধূলি সন্ধ্যায় নিহত সন্তানের মতন দেখায় ত...