Monday, September 23, 2024

বৃক্ষকথা | অগ্নি রায়

নিতান্ত টবের গাছগুলির কথা জানা হল না আজও--- এই দুঃখ রাতে প্যাঁচার মত জেগে থাকে। মাথার ভিতর থাকে কাঁটাগাছ। নামপদ বহুবার হারিয়েছে পাকদন্ডিতে যখন এক্সপ্রেস গতিতে আসা পাহাড়ি বাদলের পর শ্যাম্পু সেরে পাইন দাঁড়িয়েছে সামনে। যে ডালে বসেছি কোনও গ্রীষ্মের ছুটির দুপুরে, বৃদ্ধ হয়ে যাওয়া যে সব ছালবাকল তুলতে তুলতে হুলুস্থুল ফেলে দিয়েছি লাল পিঁপড়ের গর্তে, যার কোটরে লুকিয়ে রেখে দিয়েছি প্রেমপত্র — তাদের পরিচয় জেনে নেওয়া হয়নি কখনও।

অর্কিড ঝোপে মাঝরাতে পায়চারি করতে বেরিয়ে মনে হয়েছে বেতালের খুলি গুহার প্রতিবেশী বাওবাব! মধ্যরাতে দেখা মুর্শিদাবাদের বিলাসী আমগাছ আর তার পল্লব বদলে ফেলেছে ভোরে। বিরহ তখন  কুয়াশার মতো আমবাগানে। কোম্পানির কাল পেরিয়ে তার গোল্লাছুট দৌড় তখন মুঘল চৌকির দিকে যেখানে কোমরবন্ধ থেকে তরবারি খুলে গাছে পিঠ ঠেকিয়ে বসতেন শ্রান্ত সিপাহশালার। যে বাগানের মদিরগন্ধে পশ্চিম এশিয়া থেকে উড়ে এসে বসত নীল মাছি।

ঘুমের মধ্যে রেনফরেস্ট সংখ্যার পাতাগুলি প্রশ্নপত্র হয়ে উড়তে থাকে! স্বপ্নে পাওয়া বিজন বোট্যানিকাল মোড়ে ক্যানোপি কলোনির বিলম্বিত ছায়ার নিচে একা খাতা হাতে বসে থাকি আর ব্যর্থ আঁকিবুঁকির ছায়া ঘনায়। পুরানে বর্ণিত অতিকায় মহাবৃক্ষের থেকে দুটি শাখা গলার কাছে এগিয়ে আসে,  উত্তর না লিখতে পারলে আরও অসংখ্য শিকড়দাম গলা জড়িয়ে ধরবে এই আতঙ্কে ধড়মড় করে দুঃস্বপ্ন ভেঙে যায়। ছোট ছোট টবের দীর্ঘশ্বাস রাতের ঝুলবারান্দাকে অপরাধী করে রাখে

No comments:

Post a Comment

প্রবন্ধ : ফজলুল করীম

মার্কিন সাম্রাজ্যের সাহিত্যিক ময়নাতদন্ত সাম্য রাইয়ান-এর উপন্যাস ‘সকল প্রশংসা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের’ সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অত্যন্ত সাহ...