Tuesday, July 7, 2026

গুচ্ছ কবিতা : রূপম ভৌমিক




 বৃথাই 


বৃথাই তুল্যমূল্য।

ওসব আর আলগা লাগে।

সমান তো হতে হবে তা কই?

কুয়োতে বাস। 

বিশাল জগতের স্বাদ।

থাক তবে ওটাই আনন্দনিকেতন।

কেমন যেন ছোট ছোট খোপ দেখতে পাই।

হে প্রভু আলো দাও।

কৃপা দড়ি ফ্যালো।

বৃথাই এটাকে আসল ভাবছি কেন!





রোগ


রোগ মানুষগুলো রোগে ভুগছে। 

বড্ড অসুখ মানুষগুলোর।

হিংসার অসুখ, জাতের অসুখ।

ধর্মের অসুখ, অমানবিকতার অসুখ।

একে অপরকে মারছে ক্রমাগত মারছে।

মেরেই যাচ্ছে যতক্ষণ না পর্যন্ত সে অচেনা হয়ে যাচ্ছে।

লাশের শনাক্তকরণ  হয় না।

লাশ হয়ে ওঠে রাজনীতির তরজা;

সন্ধ্যের আলোচনা ঘিলুর খাওয়ার।

বড্ড ছোঁয়াচে হয়ে উঠছে সংকীর্ণতা।

মানুষগুলো একে একে আস্তাকুঁড়ের পোকা হয়ে উঠছে।

হাতে হাতে ঘুরছে অস্ত্র আর কিছু বইপত্র।

খুলির ভিতর ভয়ংকর অন্ধকার।


আমি চেয়েছিলাম ভালোবাসা সংক্রমিত হোক, কই হলো না তো?

জানের বদলে জান চারিদিক কবর শ্মশান।

রোগ হয়েছে মানুষগুলোর বড্ড কঠিন রোগ।

মানুষগুলো রক্তের পিপাসু হয়ে উঠেছে , মানুষগুলো ভালো নেই।





নপুংসক


সুঠাম হাড় মাংসের বাড়ি।

রক্তে সভ্যতার মৃত্যু কণিকা।

শ্বাস প্রশ্বাস এ হলাহল।

গোলা বারুদ ভর্তি পকেট।

নাক টা বার বার গলে যায়।

আরে যাওয়াটাই স্বাভাবিক!

এত পাপ কোন ব্যাংকে জমা হয়?

সারি সারি মৃতদেহের ভিড়।

পাখিরা হারিয়েছে নীড়।

এখনো ধর্ষণে মগ্ন সাদা শুয়োর।

একবার সে নিজেকে দেখুক...

আসলে সে জারজ নপুংসক!

তাও মগ্ন দেহরস বিলাতে।

একটা সুঠাম দেহ, মানুষ নয়।





অন্ধ স্রোত


সবার সাথে আমিও তুমিও মশগুল।

হুড়োহুড়ি একটু ভুল, পায়ের নিচে পিঁপড়ে জীবন।

জানি না কি যে মোহ মায়া,

পাপ ভর্তি ব্যাগ পিঠে।

অবগাহন তারপর, তারপর কি?

আবার পিঠে সেই ব্যাগ নিয়ে যাত্রা।

বিরাট স্রোত পায়ের নিচে আবার কে কোথায়!

বয়েই চলেছে বয়েই চলেছে.....

তুমিও আমিও ব্যাগগুলো পড়ে আছে।





আদিম শকুন


ধারালো নখ ঠোঁট দেখতেই পারছি আমি, 

তোমরা কি পারছো না দেখতে?

শক্ত করেই চেপে বসেছে মাটির মাংসে।

উপড়ে নিচ্ছে একটার পর একটা মাংসপিন্ড।

চোখের দিকে এগিয়ে ঠুকরে দিয়েছে।

তোমরাই তো দেখিয়ে দিয়েছ নরম মাংসের ঠিকানা।

এবার তোমরাই বোঝো!

শ্লীলতা আঁচড়ে তুলে নিয়ে খুবলে খেয়েছে সুধাপিন্ড।

আমি বেশ দেখতে পারছি, তোমরা কি পারছো না দেখতে?

তোমাদের মাথায় হাত দাও একবার টোকা দাও ভিতরে টং টং করে শব্দ হবে।

কিছুই নেই দেখে এসো মগজ কোথায় আছে জমা।

আদিম শকুনের পুরো ঝাঁক এসেছে কালো গিজগিজ করছে।

তোমরা দেখতে পারছো না? আমি দেখতে পারছি।

তোমরাই দায়ী! এবার কি করবে।

প্রাচীন পাপের সুড়ঙ্গে পা দিয়েছো হাড় টুকুও কি অবশিষ্ট থাকবে?

আমি দেখতে পারছি সেই আদিম শকুনের হিংস্র চোখ, তোমরা এখনো দেখতে পাওনি?



No comments:

Post a Comment

প্রবন্ধ : ফজলুল করীম

মার্কিন সাম্রাজ্যের সাহিত্যিক ময়নাতদন্ত সাম্য রাইয়ান-এর উপন্যাস ‘সকল প্রশংসা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের’ সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অত্যন্ত সাহ...