Monday, August 17, 2026

গুচ্ছ কবিতা : শুভজিৎ সেন

 



দুরারোগ্য চোখ 


অদৃশ্য লাঠি হৃদয় মণ্ডলকে ধরে আছে। লাঠির হাতলে ভ্রম, লাঠির গোড়ায় আধখাওয়া দারুণ দিনের ফেরুল। একবুক স্বপ্নপথ খাদের কিনারে ক্ষয়ে সরে যায়। হৃদয়ের কাঁধ ছুঁয়ে আছে অভিমানী হাতের অভাব। হৃদয়ের নোনা জলে জঙ্গল হয়ে উঠেছে অপুষ্পক মুথা ঘাস। লাঠি মরচে পড়া দ্বিতীয়ার চাঁদের আলোয় বেসামাল। অবশ্য হৃদয় একাই সব কাজ করে, করতে হয়— বিশ্বাস, দারুণ হিংসা, এমনকি সম্পর্ক তছরুপ। তার দুরারোগ্য চোখ চলভাষে হরমুজকে খাদ্যনালীর মতো দ্যাখে। সকলের মতো সেও বণিক জনের চোখে ভাসমান সপ্তডিঙায় বারুদের মাদকতা নিরুপায় বোঝে। তার ছাপভ্রষ্ট আঙুল ছাপোষা পকেট আর নোটা-র বোতাম খোঁজে। অতঃপর নামঞ্জুরের হ্রদে ছলনার স্রোতে বয়ে যায়। নাগের মাথায় আর ম‌ইয়ের গোড়ায় দু-পা রেখে হৃদয় মণ্ডল নিয়তির চোখে চোখ ঘোর অবেলায় থেমে আছে।





রাতকানা 


সেই বেনাগাল হাসির ফাঁদ আর সম্মোহনের ছায়ায় 

লালিত সব সরলরেখা যাচ্ছে  এঁকেবেঁকে …

মুহুর্মুহু ভাঙছে আশা, ভাঙছে বাসা হাওয়ায়। 


বিষণ্ণতাও গাইছি, শুধু কান্না ব্যাতিরেকে 

ভাবছ তুমি, ভোরবেলা রাত আবার দেবে হানা। 

ভীষণ ব্যথায় নাজুক প্রেমের নকশা যারা‌ লেখে 


তাদের হাতের মন্ত্রবলে সমস্ত অজানাও

ছদ্মবেশেই জানার দেশে নতুন পরিচয়ে 

উঠবে হেসে সুদীর্ঘায়ু, টেরটিও পাবে না! 


তোমার মাটি তোমার‌ই। আজ কতটা নির্ভয়ে 

লড়বে তুমি আড়াল থেকে? সামান্য নয় পথ‌ও 

উড়িয়ে দাও কালসিটে দাগ, ছিল যা সঞ্চয়ে। 


ভিড়ের ভিতর উধাও কত মহার্ঘ্য ফুরসত‌ও 

তোমার পোষা বিড়াল খেলো তোমারই শেষ ডানা।  

উপচে পড়া অপচয়েই স্বপ্ন থতমত! 


রাত নামাব ভোরের কোলে। রাতের ঘরে হানা 

দেবার ভয়ে ঘুমভাঙা চোখ লুকালো ফের কোথায়? 

এই যে এত পদ্মলোচন— সক্কলে রাতকানা?





কবন্ধ 


তোমার পেটে কার পায়ের কালসিটে? 

এ দাগ কতটুকু বিলীয়মান? 

ক্লান্ত মুসাফির ধুঁকছে মনে মনে 

মনেরই জাদুঘরে অ্যাসাইলাম! 


বাড়ছে, বেড় চলে অসুখ চিন্তায় 

কী সুখ রাহাজানি করছে পল?

মানুষ-কেঁদে-ওঠা শুষ্কজিভে তুমি 

কোনটা আগে দেবে—পানি না জল? 


তোমার ঘরদোর আঁস্তাকুড়ে বাড়ে 

তুমিও এ মাটির বেনাগরিক? 

প্রশ্ন ঝ’রে যায় উদাস রোদে পুড়ে 

ক্রমশ আয়ু বাড়ে বিভাবরীর 


এ কোন ছলবেশে বিকিয়ে যাওয়া জিভে 

দেদার ইতিহাস হচ্ছে খুন! 

বিবেক নজরানা দেওয়া তো ঢের হল, 

ফিরিয়ে আনো নিভে যাওয়া আগুন 


এতিম নাগরিক সেঁকছি সম্বিত 

নিজের‌ই শবানলে, সাঁঝবেলায় 

ভাঙছি নির্মম নাজুক পরিচয়‌ও 

তোমার‌ই হাতে গড়া রূপকথায় 


বেঘর দরজায় ঝুলে অলীক তালা  

তালা জড়িয়ে আছে বাস্তুসাপ 

চেনা মশাল পায় কবন্ধের হাতে 

ভুল চিকিৎসার হাসপাতাল

No comments:

Post a Comment

গুচ্ছ কবিতা : অনিক রায়

  কায়স্থ সেরেস্তায় কাকড়া শাসিত মেয়েটিকে কারা দেখায় সহ্য এক লেখ্যরূপে সামনাসামনি এদের বাধ্য পরামর্শ নিয়ে, তার স্বাভাবিক তাক এক সন্তান, বর্ণসং...