জন্মদিন
ইউনিয়নের ছিঁড়ে যাওয়া পতাকার শেষ অংশটুকু নিয়ে পকেটে রাখে গোপাল,
ধস্তাধস্তিতে অসম্ভব ক্লান্ত একটা শরীর।
চেনা বাস রুটের খুব চেনা বাসস্ট্যান্ডে
এসে দাঁড়ায়;
ছেলের জন্মদিনে তাড়াতাড়ি
বাড়ি ফিরতে হবে তাকে।
কিন্তু, রাস্তায় তো কোন বাস নেই।
মালিকের সাথে তর্কে তারা হেরে গেছে;
তার কাঁধে ঝোলানো পয়সার ব্যাগে ভেঙেচুরে যাওয়া কিছু প্রতিশ্রুতি,
পরের মাস মাইনে মিটিয়ে দিয়ে মালিক খুব সহজে বলেছিল-
"এবার আয়, অন্য কোন কাজ খুঁজে নে..."
অন্ধকার বাসস্ট্যান্ডে নিজেরই মতই দেখতে আর একটা মানুষকে দেখতে পায় গোপাল,
জীবনের মত দেখতে লাগে ওকে...
লোকটা কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বলে, "পিছনের দিকে এগিয়ে যান পুরো ফাঁকা।"
প্রিয় সুর
দুখের দরজায় টোকা মারলে
কিছু মায়াবী মুখ বেরিয়ে আসে,
তারা ইমন জানেনা,
ভৈরবী জানে না,
মালকোষ জানে না;
শুধু জানে, তারা ফেলে এসেছে
তাদের প্রিয় সুর মাতৃ জঠরে।
তারা তাই প্রতিদিন ছোট হতে চায়,
আশ্রয় খোঁজে নম্র চোখের পাতায়
কখনও বা ভালোবাসার শীত ঘুমে।
নদী-পর্দা
পৃথিবীর খুব কাছাকাছি মহাশূন্যে একটা অ্যাকোয়ারিয়াম আছে,
তাতে ঘুরে বেড়ায় লাল জ্যোৎস্নার মত দেখতে কিছু মাছ।
তারা স্বর্গ-নরক মানে না
ভগবান বোঝেনা।
মানুষের খুব ব্যক্তিগত জায়গায়
জন্ম নেয় কিছু নদী,
ওই মাছেরা সেই নদীতে
জায়গা নেয়।
তারা মাঝে মাঝে আমার ঘরে আসে, পর্দায় মিশে যায় পরিচিত কিছু মুখের মত।
আহা ঘুম...
তুমি কতদিন আসো না
এভাবে সহজে।

No comments:
Post a Comment