Monday, August 24, 2026

গুচ্ছ কবিতা : স্রোতস্বিনী চট্টোপাধ্যায়


 



সুর


পোড়া আকাশ রাতের মতো কালো

আমরা দুজন গেয়ে উঠছি গান 

সে কোন সুরে কবেকার সে ধ্বনি 

উঠছে যেন চাঁদের মতো, ম্লান 


আলোয় তবু গেয়ে উঠছি গান 


ধানের গোছা গোলায় জমা করে

ন্যাড়া মাঠের মধ্যিখানে এসে

ভুলে যাচ্ছি দেশ কি ছিল কোনো 

ভিটে ছিল কি কিংবা কোনো নাম 


বিষাদ ডোরে একটি তারা এখন

জ্বলছে, আবার হঠাৎ নিভে যাবে, 

সহজ বুঝি নিরুদ্দেশে যাওয়া

ঘরের পথে বিভুঁই খুঁজে পাবে 


আমরা দুজন রাত্রি নেমে এলে

স্মৃতিস্বরূপ গাইতে চেয়ে গান 

দেখছি যেন সুর ভুলোনো ছোঁয়ায়

হয়ে পড়েছি অবসশ ম্রিয়মান 





কাঙাল


এমন রোমাঞ্চ ওই দূরের আলোয়, 

মনে হয় 

কিছুকাল চুপি করে দেখি 


অলক্ষ্যে পাতার ঝরা জল 

চুইঁয়ে নামে শার্সি জুড়ে 


এই মহা কালো দিনে

ধূর্ত মেঘ এসে ঘিরে ফেলে চারিধার 


জানালায়, অন্য আলো এসে পড়ে 

ঝড়ের তুমুল মত্ততা 

আয়ু ক্ষয় করে ফেলে 

কবে যেন জিতে গেছে শেষবার 


সেই দিন থেকে আমি 

হেরে ভূত হয়ে বসে আছি 


দূরের জানলায় হাওয়া

কেঁপে ওঠে আরও একবার





হতবাক 


সুখের আতিশয্যে চারিপাশ ছমছম করে 

দুপুর শেষে যে পাতা ঝরে পড়ে 

তাকে ঘোরতর অপরাধী মনে হয় 


অথচ বাঁচার উপায় মাত্র এই 

শুধু ঝরে যাওয়া ছাড়া 

আর কিছুমাত্র নেই 


এই ভেবে মাঝেমাঝে স্বস্তি আসে 

ঘুম আসে খুব 


যেন কেউ ডাক দিয়ে ফের ফিরে গেছে 

বনেছে বেকুব 





আয়ুধ


এমন মেঘের স্বর

সমস্ত শুশ্রূষা জুড়ে 

একা মেলে রেখেছে মন্থর আয়ু 


হাড় পাঁজরের দম প্রায় শেষ 

কোথাও সামান্য বাতাস নেই

আছে শুধু চিরন্তন ঝরে যাওয়া পাতার মূর্ছনা 


এই বুঝি সহবাসের সমান

কঞ্চি দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা 

যাচ্ছি, যাব করা অসম্ভব কালো 


এখন আকাশ বজ্রের নির্ভর

বৃষ্টির লেশমাত্র নেই কোনোখানে

দেহময় প্রতিধ্বনি ওঠে সন্ধের আজানে 





ফুল


তেমন কিছু কি বলার আছে

এই শীত শেষের হাওয়ায় 

ছেঁড়া চপ্পলের সাথে যে বন্ধুতা

সেই বন্ধুত্বের তাগিদ হারিয়ে ফেলেছি কবে! 


এখন তারায় দেখি অদ্ভুত জলের ক্ষিদে 

ভাসমান চাঁদ কেঁপে কেঁপে ওঠে 


ওইটুকু কুহক আর

ওটুকুই ফুল হয়ে ফোটে

No comments:

Post a Comment

গুচ্ছ কবিতা : অরিজিৎ ভট্টাচার্য

নদীর কাছে নদীর প্রেমিক তুমি— শামুকের খোলসে ঘুমিয়ে থাকা একটি প্রাচীন বিকেল, স্রোতের নিচে কাঁপে অদৃশ্য কোনো ঘণ্টাধ্বনি। তুমি জলের ভাষা জানো, ত...