Monday, August 24, 2026

গুচ্ছ কবিতা : দেবপ্রিয় গোস্বামী

 





দীর্ঘশ্বাসের শেষ বাষ্প


১


আমার চোখের পাতার সমান্তরালে 

বিষুব হয়েছে বাউল


একতারা আর জ্বলন্ত কাঠ ঠাঁয় দাঁড়িয়ে 

সুরের পায়ে অভেদ হয়েছে চামড়া 

গম গম করে রাত্রি নেমেছে দেহে 

পাশার চালে ভিড় করেছে শকুন 

নাড়ির টোপে নারী


আমার তবু শুষ্ক ঠোঁটের ডগায় 

আলতো নেমেছে বাউল




২


শিশু শাবকের অন্ধ থাবায় 

জরা নেমেছে আমার তীক্ষ্ণ পাহাড়ে


থামতে গিয়েও থামতে পারিনি—

জল আর ধোঁয়ার ক্যাটিনেশনে 

হলুদ জমেছে সালফার দেহে


নষ্ট, মলিন দেহ 

জীর্ন প্রেমের আঁতুরঘর


সবার আড়ালে তৈরী করেছে

অপত্য কলঙ্ক


যার অন্ধ থাবায়

জরা নেমেছে আমার উগ্র সংস্কারে




৩


শূন্য থেকে অসীম


জং ধরা পেন্ডুলাম 

খবর নিয়ে আসে 

রক্তাক্ত অতীতের 

বোবা সেলফোন 

তাতে মদত দেয়—


ঘূর্ণিবাতের আশঙ্কায় 

স্তব্ধ হয়ে আসে 

সমস্ত উলঙ্গ রাত


পাঁজরভাঙা শব্দ 

নেমে আসে সিঁড়ি বেয়ে

মারনরোগে আক্রান্ত 

হৃদয়ের দুর্বল অলিন্দে 

কেঁপে ওঠে বাস্তব


শেষে শূন্য থেকে আবার শুরু হয় 

রক্তাক্ত পেন্ডুলামের টিক্ টিক্




৪


বিচ্ছেদের আনন্দকে তিন দিয়ে ভাগ করলে 

এক ভাগে পড়ে থাকে অনুভূতি


এক ভাগে চরা সুদের বাতাসবাড়ি 

অন্য ভাগে বেপরোয়া সফরনামা


দু-এক ফোঁটা প্রেমভিক্ষে 

উপচে পড়ে আমার জামার কলারে 

সাথে যোগ-বিয়োগের সরলরেখা 

সমান্তরাল আতশবাজি


অনুভূতির সাথে কিসমিস গুন করলে 

নেমে আসে গভীর রাত


সেই রাতের নিশ্চল অন্ধকারে 

বিচ্ছেদ ভাগ হয়ে যায় অজস্র ভাগে—

হদিশ মেলে না এক ভাগেরও 




৫


ভাঙা আয়না

শুকনো গোলাপ

আদর পায়রা


বন্ধ দু'চোখ

গিলতে জানে

সোহাগ চিহ্ন


সময় হলে 

জল থইথই—

মিথুন নাকি, 

স্রেফ অভিসার ?

No comments:

Post a Comment

গুচ্ছ কবিতা : সব্যসাচী ভট্টাচার্য্য

  সা রে গা মা পা  এই শহরে আলগা ধোঁয়ার আড়াল থেকে উঁকি দেয় সার্কাস উৎসব, পাখির পায়ে ছোট্ট একটা সুতো, গোধূলি সন্ধ্যায় নিহত সন্তানের মতন দেখায় ত...