Tuesday, September 1, 2026

গুচ্ছ কবিতা : সঙ্গীতা মাইতি

 



রাধাবিরহ


আনত স্বপ্নে মোড়া মুহূর্ত রাজকীয় হেঁটে যায়

বসে বসে ছায়াময় পদচিহ্ন আঁকি

তুলে রাখি চরণরেণু দীর্ঘ রাতের পাতায়

আসে যদি দহনের কাল, করুণ রঙের শাড়ি

উড়িয়ে আঁকাবাঁকা বয়ে যাব সম্বিৎ সরোবরে

শ্রীমতি সন্ধ্যা জেগে উঠে খেলা করবে—

এই বিশ্বাসে গেঁথে রাখছি অজস্র হেমকান্তি বিকেল।


চেরিফুলের গন্ধে নিষিদ্ধ বিরহ ভেসে বেড়াচ্ছে

পৃথিবীর সকল রন্ধ্রে ঢুকে পড়ছে সুরার ঘ্রাণ

বপন করেছ যার কঙ্কাল, সে কি রমণীর বিশ্বাসে জাগে?

সে কি গায় চৈত্রের সুগোপন অভিজ্ঞান?

তুলে ধরি মুখ বিস্ময়ে, বিহগিনী ডাকে

ভোরের কোটর থেকে বেরিয়ে আসে বোবা চোখ

তোমাকে যত্নে লিখছি শোক — জন্মখণ্ড ধুয়ে মুছে রাধাবিরহ





যাপন


যে বিশ্বাস কুমড়োফুলের মতো আলো 

হয়ে ফুটলো, ছুঁয়ে থাকো তাকে আনম্র

যেমন থাকে প্রাচীন জনপদ 

বিন্দু বিন্দু শ্রুতি নিয়ে সহস্রবছর।


সমস্ত যাপন জুড়ে ঝরুক দোলনচাঁপা 

সমস্ত কবিতার গায়ে গায়ে জমে যাক রবীন্দ্র-বেলা

যতটুকু ছেঁড়াআলো ততটুকুই কথা

ভারহীন শ্বেত হাসিতে খরকুটো, লতাপাতা।


ছুঁয়ে যাও মৃগভ্রমে

চিহ্নিত শোক নিয়ে, সঙ্গম নিয়ে

গহীন সত্তায় দোল খাক আদিম নিযুত তারা।





দৃশ্য 



শব্দের ভ্রমে সেদিন বলেছি কথা রাশিরাশি

শব্দের ভ্রমে এ হৃদয় রীতিহীন জঙ্গল

অচেতনে একটা-দুটো পাখি উড়ে গেছে

তবু তোমার আনত ওষ্ঠের নিচে হাত পেতেছি


গোপনে ভালোবেসেছি, চঞ্চল সন্ন্যাসীর

মালা ছিঁড়ে পুতেছি দোপাটি চারা


আমারই অস্থির নিচে আগুন কঠিন অস্ত্র,

ভিজে পাহাড়ের মতো কড়া শাসন—

একে একে কবিতা করেছো তুমি যত্নে


নিবিড় স্বপ্নে স্মৃতিচিহ্নময় ত্রিসন্ধ্যা ফুটে উঠছে

যত দেখি, তত দেখি না তোমার চোখের পুণ্যবেদী।





অনন্ত বৃষ্টি


গ্রীষ্মের ভিতর যেইভাবে ঢুকে পড়ছে বর্ষা 

সেইভাবে তোমার ভিতর ঢুকে পড়ে বালকের ক্ষোভ


সুরেলা বৃক্ষ ডাকনামে ডাকে, বরফবাতাস

চোখে লেগে ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে চৈতন্য

দূর থেকে ভাবি, খুব নিকটে এলে কি মানুষ

হয়ে যায় জল থৈ থৈ বীজধান?

কুয়াশার পৃথিবী ঠেলে কলকল শব্দে 

দীর্ঘশ্বাস উড়ে যায়, উড়ে যায় সফেদ পোশাক

রমণীর শরীরের শুকানো দাগগুলো একা একা ভেজে


তোমার ঘৃণার আঁচ তবু চিনে নিতে পারেনা সেই ভুলজন্ম

সন্তর্পনে আগলে রাখা বুক থেকে চুপিচুপি 

ঝরে যাই ধুলোপথের গানে..!





অশোকফুল


তুমি রাত্রির শ্বাপদ

চুপিচুপি নিশিডাক দিয়ে যাও নক্ষত্রযোনীতে

অনতিদূরে দাঁড়িয়ে থাকে সহজ হৃদয়


শোক গড়িয়ে পড়ে, শুদ্ধাচার ধূলির অবতলে

জ্যোৎস্না হয়ে গড়াগড়ি খায়


প্রশ্ন করিনি,

শুধু বৃক্ষের মতো রেখেছি আঁকড়ে মোহ


তুমি আজন্ম মরণ—

দেহকে কাঠ ভেবে ধরাও আগুন


রাত্রির অনুশোচনায় আমি বধ্য অশোকফুল!

No comments:

Post a Comment

গুচ্ছ কবিতা : মৃণালেন্দু দাশ

বিশ্বস্ত কিছু কথার পাশে     চড়ুই বাসা বাঁধছিল অনেকটা পূজার ডালার ছোট্ট ঝুড়ির মতো  উঠোন বাগানের টগর গাছের চার ডালের পাতায় ঘেরা মাঝের সুরক্...